Lama ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাইতংয়ে ২ লিটার চোলাই মদসহ নারী আটক, মুচলেকায় মুক্ত

ফাইতংয়ে ২ লিটার কথিত চোলাই মদসহ নারী আটক, মুচলেকায় মুক্তির দাবি

 

টমটম থেকে মদ উদ্ধারের অভিযোগ; আটকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, মুক্তির আইনগত কারণ নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের

 

মোঃ এমরান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড় এলাকায় ২ লিটার কথিত চোলাই মদসহ মিউচিং মার্মা (২৬) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে কী কারণে এবং কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মিউচিং মার্মা ফাইতং হেডম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা উছাই মংয়ের স্ত্রী।

 

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিউচিং মার্মা ব্যাটারিচালিত টমটমে করে চকরিয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয়রা টমটমটি থামিয়ে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে আনুমানিক ২ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন তারা। পরে তাকে মদসহ ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়।

 

খবর পেয়ে এএসআই সঞ্চয়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

 

আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

 

ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে সাজ্জাদুল ইসলাম সোহেল নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ধারণ করা ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনকে এক নারীকে ঘিরে থাকতে এবং ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটি ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও এতে উঠে আসা বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

চোলাই মদ তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মিউচিং মার্মার স্বামী উছাই মংয়ের খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চোলাই মদ তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সেখানে তৈরি মদ হরিণখাইয়া এলাকার টিএইচবি ইটভাটার মুখে থাকা একটি ঘরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব স্থানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন নিয়মিত মদ পান করেন। এ বিষয়ে অতীতেও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা।

 

তাদের আরও অভিযোগ, ফাইতংয়ে মাদকবিরোধী নজরদারি ও পুলিশের টহল বাড়ার পর মদ পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীর মতো টমটমে করে চকরিয়া যাওয়ার সময় মিউচিং মার্মা মদ বহন করছিলেন বলে দাবি তাদের।

 

তবে খামারবাড়িতে মদ তৈরি ও সরবরাহের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

ঘটনাস্থলে স্বামীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ

 

মদ উদ্ধারের পর মিউচিং মার্মার স্বামী উছাই মং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

 

তাদের দাবি, এ সময় তিনি স্থানীয়দের গালমন্দ ও হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উছাই মংয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উছাই মং দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ফাইতং ইউনিয়ন সাইবার দলের সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। তবে তার এই রাজনৈতিক পরিচয় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

 

মিউচিং মার্মাকে আটকের পর মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা করছেন কেউ কেউ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ধারণা, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো তিনি পার পেয়ে গেছেন। একই ধরনের অপরাধে অন্যদের জেলহাজতে যেতে হয়, আর এখানে মদসহ আটকের পর যদি মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”

 

তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূল করতে হলে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ধরন বিবেচনা করে সবার ক্ষেত্রে একই আইন প্রয়োগ করতে হবে।”

 

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মিউচিং মার্মাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

 

ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সঞ্চয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মদসহ ওই নারীকে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

 

তবে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার কারণ, কী ধরনের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা কথিত চোলাই মদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

 

স্থানীয় বাসিন্দারা ফাইতংয়ে চোলাই মদ তৈরি, বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগগুলো তদন্তের পাশাপাশি মদসহ আটকের ঘটনায় নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে আইন ও অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত মুচলেকায় মুক্তির সুনির্দিষ্ট আইনগত কারণ, জব্দ করা মদের পরবর্তী অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

ফাইতংয়ে ২ লিটার চোলাই মদসহ নারী আটক, মুচলেকায় মুক্ত

Bandarban Tribune

ফাইতংয়ে ২ লিটার চোলাই মদসহ নারী আটক, মুচলেকায় মুক্ত

Update Time : ১০:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফাইতংয়ে ২ লিটার কথিত চোলাই মদসহ নারী আটক, মুচলেকায় মুক্তির দাবি

 

টমটম থেকে মদ উদ্ধারের অভিযোগ; আটকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, মুক্তির আইনগত কারণ নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের

 

মোঃ এমরান, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড় এলাকায় ২ লিটার কথিত চোলাই মদসহ মিউচিং মার্মা (২৬) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে কী কারণে এবং কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মিউচিং মার্মা ফাইতং হেডম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা উছাই মংয়ের স্ত্রী।

 

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিউচিং মার্মা ব্যাটারিচালিত টমটমে করে চকরিয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে নয়াপাড়া তিন রাস্তার মোড়ে স্থানীয়রা টমটমটি থামিয়ে তল্লাশি করলে তার কাছ থেকে আনুমানিক ২ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন তারা। পরে তাকে মদসহ ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়।

 

খবর পেয়ে এএসআই সঞ্চয়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

 

আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

 

ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে সাজ্জাদুল ইসলাম সোহেল নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে ধারণ করা ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনকে এক নারীকে ঘিরে থাকতে এবং ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটি ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও এতে উঠে আসা বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

চোলাই মদ তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মিউচিং মার্মার স্বামী উছাই মংয়ের খামারবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চোলাই মদ তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, সেখানে তৈরি মদ হরিণখাইয়া এলাকার টিএইচবি ইটভাটার মুখে থাকা একটি ঘরসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব স্থানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন নিয়মিত মদ পান করেন। এ বিষয়ে অতীতেও ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা।

 

তাদের আরও অভিযোগ, ফাইতংয়ে মাদকবিরোধী নজরদারি ও পুলিশের টহল বাড়ার পর মদ পরিবহনের কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীর মতো টমটমে করে চকরিয়া যাওয়ার সময় মিউচিং মার্মা মদ বহন করছিলেন বলে দাবি তাদের।

 

তবে খামারবাড়িতে মদ তৈরি ও সরবরাহের এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

ঘটনাস্থলে স্বামীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ

 

মদ উদ্ধারের পর মিউচিং মার্মার স্বামী উছাই মং ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

 

তাদের দাবি, এ সময় তিনি স্থানীয়দের গালমন্দ ও হুমকি দেন। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উছাই মংয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উছাই মং দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ফাইতং ইউনিয়ন সাইবার দলের সভাপতি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। তবে তার এই রাজনৈতিক পরিচয় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

 

মিউচিং মার্মাকে আটকের পর মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা করছেন কেউ কেউ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ধারণা, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই হয়তো তিনি পার পেয়ে গেছেন। একই ধরনের অপরাধে অন্যদের জেলহাজতে যেতে হয়, আর এখানে মদসহ আটকের পর যদি মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”

 

তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূল করতে হলে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধের ধরন বিবেচনা করে সবার ক্ষেত্রে একই আইন প্রয়োগ করতে হবে।”

 

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মিউচিং মার্মাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যায়নি।

 

পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

 

ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সঞ্চয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মদসহ ওই নারীকে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

 

তবে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার কারণ, কী ধরনের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার করা কথিত চোলাই মদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

 

স্থানীয় বাসিন্দারা ফাইতংয়ে চোলাই মদ তৈরি, বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগগুলো তদন্তের পাশাপাশি মদসহ আটকের ঘটনায় নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে আইন ও অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত মুচলেকায় মুক্তির সুনির্দিষ্ট আইনগত কারণ, জব্দ করা মদের পরবর্তী অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।