Lama ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৯২ লাখ টাকার বৃত্তি

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০ জন নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৯০ জন নারীর মধ্যে ৯০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলার ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়। এতে মোট ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া জেলার ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আধুনিকায়নে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০টি সেলাই মেশিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় মোট ৯০ জন নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটির ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ। বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁনসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালে পাহাড়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল অঞ্চলে পরিণত করতে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপকারভোগী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২ লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ছয় বছরের এক শিশুকে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলো ইসলামপুরের আতিক্কা পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) ও নুরুল আমিন বৈদ্দরের ছেলে নাজিমুল ইসলাম (১২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে শিশুটির মা তাকে পাশের একটি বাসায় রেখে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেকে আনতে যান। এ সময় শিশুটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তখন ওই দুই কিশোর তাকে খেলা থেকে ডেকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন। অভিযুক্তদের বয়স ১২ ও ১৪ বছর হওয়ায় প্রকাশের আগে বয়স ও ঘটনার বিবরণ পুলিশের কাছ থেকে পুনরায় যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংবাদে ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করুন।

Bandarban Tribune

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৯২ লাখ টাকার বৃত্তি

Update Time : ০৬:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০ জন নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৯০ জন নারীর মধ্যে ৯০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি জেলার ৪৯৩ জন কলেজ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ২৮৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়া হয়। এতে মোট ৭৭৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

এ ছাড়া জেলার ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার আধুনিকায়নে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সদর উপজেলার ১০ জন নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০টি সেলাই মেশিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় মোট ৯০ জন নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে না পড়ে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটির ভাইস-চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ। বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁনসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ১৯৭৬ সালে পাহাড়ের আর্থসামাজিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আত্মকর্মসংস্থানমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল অঞ্চলে পরিণত করতে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উপকারভোগী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তির আর্থিক মঞ্জুরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।