
বান্দরবানের লামা উপজেলা ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি হস্তক্ষেপ শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান। তদন্তের ১ম দিনে ৫ ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেন। পাহাড় কর্তন প্রমানে ব্যক্তি বা কোনো মহলই আইনের হাত থেকে রেহায় পাবেন না।
লামা উপজেলা ফাইতংয়ে পাহাড় কাটার দায়ে ৫ ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া গ্রহন করেছেন বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ব্রিকফিল্ডগুলো হচ্ছে,
UBN, 4BM, YSB, BMW, NRB। ব্রিক ফিল্ড কর্তৃক পাহাড় কর্তনের সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন বলে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বান্দরবান ট্রিবিউনকে জানান, ‘১০/০৯/২৬ তারিখে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিক কর্তৃক পাহাড় কর্তনের স্থান সরজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। সরজমিনে পরিদর্শনকালে UBN, 4BM, YSB, BMW, NRB। ব্রিক ফিল্ড কর্তৃক পাহাড় কর্তনের সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এই কর্মকর্তা আরো জানান, ‘লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ৩ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হাইকোর্টের নির্দেশ দিয়েছেন; এমন একটি খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হয়। তবে এখনো অফিসিয়ালি আমাদের হাতে আদেশের কপি পৌঁছেনি।
বিষয়টি আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছি। এছাড়াও বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি) গুরুত্ব দিয়েছেন। আমাদের অভিযান বা পরিদর্শন কাজের অগ্রগতি সচিত্র প্রতিবেদন মন্ত্রী মহোদয়কে জ্ঞাত করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত: জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইট্স এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন।
উক্ত রীট পিটিশনের শুনানী শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া এর হাইকোর্ট বেঞ্চ চার সপ্তাহের রুল জারি করেন এবং একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
অপর এক আদেশে বিবাদীগনকে ৭ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনের ১৫ ধারা অনুসারে শাস্তি এবং অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানীতে অংশ গ্রহন করা সিনিয়র এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষন ১৯৯৫ আইনে পাহাড় কাটা বা ধ্বংস করার উপর বিধিনিষেধ রয়েছে। উক্ত আইনের ১৫ ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের জেল বা অর্থ দন্ডের বিধান রয়েছে।
আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগ না হওয়ার কারনে পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড় কেটে ইটভাটার মালিকরা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটার মালিকরা এতই বেপরোয়া যে, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তারা ইটভাটা পরিচালনার জন্য পাহাড় কাটছে।’
আদালতের জারি করা রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিস্কৃয়তা কেন বেআইনি ঘোষনা করা হবেনা এবং বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস করা বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবেনা এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবেনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
রীট পিটিশনে বাদী ছিলেন এইচআরপিবি এর পক্ষে এডভোকেট মোঃ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও এডভোকেট রিপন বারোই। বিবাদীরা হলেন পরিবেশ সচিব, ডিজি ও পরিচালক , পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বান্দরবান আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ ১১ জন।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 



















