
লামা প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা, সদস্যদের হুমকি, লামা প্রেসক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা, সদস্যদের হুমকি আইনগত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি প্রেসক্লাব ও অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের।
লামা প্রেসক্লাব নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে ফেসবুক আইডিতে গুজব রটাচ্ছে। লামা প্রেসক্লাব ও লামায় স্থিত অন্যান্য মূলধারার সাবাদিক সংগঠনের সবাদ সেবিরা বিষয়টিকে সুস্পষ্টভাবে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপতৎপর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
প্রেসক্লাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
১৯৯১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান পিএস অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ‘লামা-আলীকদম প্রেসক্লাব’ নাম করণে মৈত্রী কার্যক্রমের আওতায় সাংবাদিকদের মেলবন্ধন তৈরি করে দেন।
সেপ্টেম্বর ১৯৯১ সালে তিঁনি প্রেসক্লাব ভবন উদ্বোধন করেন। এর চার মাস আগে ১৪ মে/১৯৯১ সালে বান্দরবান রিজিয়ন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেন এনডিসি পিএসসি ‘লামা-আলীকদম’ প্রেসক্লাবের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯৯৮ সালে আলীকদম উপজেলায় ‘আলীকদম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করলে, লামা উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ‘লামা-আলীকদম’ প্রেসক্লাবের নতুন নাম করণ হয় ‘লামা প্রেসক্লাব।’ ১৯৯৬ সালে লামা রিপোর্টার্স ক্লাব, ২০১৩ সালে লামা সাবাদিক ফোরাম, ২০১৯ সালে মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সর্বশেষ গঠিত হয় লামা সাংবাদিক ইউনিটি। মুল সংগঠন লামা প্রেসক্লাব ও ভ্রাতৃপ্রতিম অন্যান্য সংগঠনে কর্মরত সংবাদ কর্মিরা একে অপরের সাথে সংহতি প্রকাশ করে অভ্যান্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে।
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রেখে এতাদাঞ্চলের উন্নয়ন, ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা, চিকিৎসা যোগাযোগসহ সকল সেক্টর নিয়ে লামা প্রেসক্লাব ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সদস্যদের ক্ষুরধার লিখনি ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছে।
অপরদিকে চড়াই-উতরাই লামা প্রেসক্লাব সুনামের থাথে সাড়ে তিন দশক অতিক্রম করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অনেক রাজনৈতিক নেতাদের চক্ষুশূল হয়েছিল। প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের জুজুরভয় আর রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা না করে সাংবাদিকরা তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন।
নিকট অতীতে লামা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠনের আড়ালে প্রকৃত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সদস্যদেরকে বিভক্ত করা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও হয়েছিলো। লামা প্রেসক্লাবের সদস্যদের ঐক্যবদ্ধতা, নৈতিকতার জোরে আইনি লড়াইয়ে সেসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সেই পরাজিত শক্তির মদদে অপেশাদার কিছু সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ এই চক্রে যুক্ত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে এমন অনেক ব্যক্তি জড়িত, যারা পেশাগতভাবে সাংবাদিক নন। বরং তাদের মধ্যে রয়েছে দালাল শ্রেণির লোক, নেশাগ্রস্ত, ন্যূনতম সাংবাদিকতার নৈতিক যোগ্যতাহীন ব্যক্তি, সংগঠন বিক্রি করে এলাকা ত্যাগ, এমনকি বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মি মব কালচারে বিশ্বাসী।
এসব ষড়যন্ত্রকারীরা কেউ রাজনৈতিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য কতক সাংবাদিক পরিচয়দানকারী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে ব্যবহার করার কূটকৌশল করছে।
এর মধ্যে প্রতারণা, নারী কেলেঙ্কারি, মদ্যপাচার এবং নৈতিক স্খলনের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও সামনে এনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও সরকারি কর্মকর্তাদেরসহ প্রেসক্লাব সদস্য ও লামা উপজেলায় কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকদের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও নৈতিকতার পেশা। এখানে অপেশাদার ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ শুধু পেশার মান নষ্ট করে না, বরং গণমাধ্যমের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও বিশ্বাস যোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
লামা প্রেসক্লাব ও সদস্যরা জানান, লামা প্রেসক্লাব সাড়ে তিন দশকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য লালন করে করে আসছেন।
২০১৪ সাল থেকে নানা প্রতিকূলতা, হুমকি ধমকি, চাপ জুজুরভয় উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক সাংবাদিক জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
লামায় কর্মরত অন্যান্য মিডিয়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনাকে গুরুত্ব দিয়েই সাংবাদিকদের প্রকৃত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব। কোনোভাবেই সাংবাদিকতার এই ঐতিহ্যকে বিকৃত করার অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারা আরও জানান, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলুদ সাংবাদিকতার যে অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। প্রয়োজনে এসব তথ্য প্রকাশ করে অপতৎপর চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে এমন কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন লামা প্রেসক্লাব ও অপর চার সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা।
গঠনতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্ধারণ করে দেয় প্রেসক্লাব ও অন্য যে কোনো সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যাবলী কেমন হবে।
লামা প্রেসক্লাবে তিন বছর পর পর সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল সদস্যরা গোপনে বা প্রকাশ্যে অভিজ্ঞ সংবাদ কর্মীদেরকে বিষেশ নজরদারিতে রেখে এর পর সদস্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। সদস্য হতে ইচ্ছুক অভিজ্ঞ সংবাদ কর্মীকে প্রাথমিকভাবে সহযোগি সদস্য পদ প্রদান করার সুপারিশ করা হয়।
এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা উপধারা মানা হয়। প্রেসক্লাব কমিটি সদস্যদের মধ্যে জবাব দিহিতা করতে হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, প্রেসক্লাবের সদস্য হতে প্রয়োজন মুক্তচিন্তা, সংবাদ চেতণা সম্পন্ন, সৎ পেশাদার সাংবাদিকতা।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ সাংবাদিকতার মূল চেতণা নয়। সাংবাদিকতার নিজস্বতা রয়েছে। সাংবাদিকদের রাজনীতির প্রতি বিশ্বাস আস্থা রয়েছে। তবে ফ্যাসিস্ট আর নীতিহীন রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। সমাজের উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতাদের দিক নির্দেশ করা সংবাদ কর্মীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
সুতরাং দেশ ও গণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করেনা। দেশ ও জাতির কল্যানে নিবেদিত লামা প্রেসক্লাব ও ভ্রাতৃপ্রতিম অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনে সংবাদ কর্মিরা নৈতিক আদর্শে অবিচল ও আপোষহীন, নিঃসংকোচ সাহস সংরক্ষণ করে।
মোঃ ইউছুপ আলী শাহরাজ 


















