বন্যার ক্ষত এখনো স্পষ্ট বান্দরবান পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামোয়। কোথাও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থায় ভোগান্তি—সব মিলিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবান পৌর এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি পৌর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বন্যার পর তাঁদের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো শুধু সাময়িকভাবে সংস্কার করলেই হবে না; ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
সাচিং প্রু জেরী বলেন, সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দিক মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, স্থানীয় সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হলে পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগও অনেকটা কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
