সাত মাস আগে গঠিত হয় আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। এরপর থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। নবগঠিত সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য সফলতা পেয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
১৪ জুলাই গণমাধ্যমে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলছে, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের জনবল এবং লজিস্টিক জনিত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জিত হয়েছে। রাজস্ব পুনরুদ্ধারসহ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কর ফাঁকি উদঘাটন করে আইনানুগ ও ন্যায্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নবগঠিত এ সংস্থাটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকির প্রাথমিক তদন্তে এক হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয় উদঘাটন করেছে। উদঘাটিত রাজস্ব ফাঁকি হতে ৬৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ২৩১ চালানের মাধ্যমে ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সংস্থাটি ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট কর ফাঁকির তথ্য পাওয়ায় শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসমূহ অন্তর্বতীকালীন জব্দ করেছে। আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট করদাতাদের স্বেচ্ছায় সঠিক কর প্রদানে উৎসাহিত করছে। একইভাবে কর ফাঁকিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় এক বছর আগের তুলনায় খুবই ভালো অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বব্যাংক।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য হচ্ছে- বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খুবই ভালো।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু এখন আমরা মনে করছি আমরা সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছি।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন দায়িত্বে জোহানেস জুট এখন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম দেখবেন এবং তার অফিস ওয়াশিংটনের পরিবর্তে নয়াদিল্লিতে থাকবে।
তিনি বলেন, জোহানেস জুট বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের চলমান বিভিন্ন প্রকল্প ও বাজেট সহায়তার বিষয়ে অবহিত আছেন।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে প্রায় এক বছর আগে মনে করা হলেও বর্তমানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশের আর্থিক খাত, পেমেন্ট ব্যালান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রা খাতের উন্নত অবস্থা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, জোহানেস জুট বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং আরও বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো বলে স্বীকার করেছেন জোহানেস জুট।
বৈঠকে আইএফসির কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ও আলোচনা হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে চাওয়া সব সহায়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ গ্রুপের বার্ষিক সভায় প্রত্যাশিত সহায়তার পরবর্তী ধাপ উত্থাপন করা হবে।অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আর্থিক খাতে বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) নেওয়া সংস্কার উদ্যোগে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন শুরু হয়েছে এবং এনবিআরকে দুটি পৃথক সংস্থায় বিভাজনের সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখতে চায় বিশ্বব্যাংক। যদিও এতে কিছুটা সময় লাগবে।
সালেহউদ্দিন বলেন- চট্টগ্রাম বন্দর, লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক অবকাঠামো খাতে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।
মার্কিন শুল্ক ইস্যু নিয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা ও আলোচনা প্রতিনিধিদলের প্রধান দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
Reporter Name 


























