Lama ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ

লামা হাসপাতালপাড়া সদর ইউনিয়ন অংশে ঝিরঝির ভাঙ্গনের কবলে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি

লামা হাসপাতালপাড়া সদর ইউনিয়নের অংশে  ঝিরঝির ভাঙ্গনে কয়েকটি বাড়ি ঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙ্গনে গৃহহীন হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভিটেমাটি রক্ষায় অনতিবিলম্বে একটি টেকসই গাইড ওয়াল  নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

​জমিন দেখা যায়, বর্ষায় বড় নুনারবিলপাড়ার বিস্তৃত এলাকার পানি ঝিরি দিয়ে মাতামুহুরি নদী প্রবাহিত হয়। বর্ষা মৌসুমের প্রবাহ ও কূল ঘেঁষে যাওয়া পানির তোড়ে প্রতিদিন একটু একটু করে ধসে পড়ছে পাড়ের মাটি। মাটি সরে গিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ও উঠান বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় মানুষের সংযোগ সড়ক ও গরবাড়ি। লামা সদর ইউনিয়নের

​স্থানীয় বাসিন্দা ভুক্তভোগীর ফরিদ উদ্দীন বলেন, বলেন, “প্রতিদিন রাতে আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। পানির স্রোতে মাটি ধসে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। দ্রুত গাইড ওয়াল করে না দিলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমাদের বসতবাড়ি পুরোটা ধসে যাবে।”

​আরেক বাসিন্দা জানান, প্রতি বছরই ভাঙ্গন রোধে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ে। এলাকাবাসীর এক মাত্র দাবি, এখানে কোনো প্রকার জোড়াতালির কাজ নয়, বরং দ্রুত শক্ত গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হোক।

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ভাঙ্গন কবলিত এলাকাটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে লামা পৌরসভার অংশে ঝিরি পূর্বপাশে গাইড ওয়াল করে দেয়া হয়েছে। ঝিরির পশ্চিম পাশে অর্থাত পাহাড়ে সাইডে লামা সদর ইউনিয়নের অংশে গাইড ওয়াল প্রয়োজন। তবে তাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গাইড ওয়াল নির্মাণের প্রকল্প দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন; তাতে আমি সুপারিশ করেছি।’

এদিকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আগেই স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণ করে এলাকাটিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও প্রকৌশল বিভাগের সুদৃষ্টি কামণা করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ

লামা হাসপাতালপাড়া সদর ইউনিয়ন অংশে ঝিরঝির ভাঙ্গনের কবলে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি

Update Time : ০৪:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লামা হাসপাতালপাড়া সদর ইউনিয়নের অংশে  ঝিরঝির ভাঙ্গনে কয়েকটি বাড়ি ঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  দীর্ঘদিন ধরে এই ভাঙ্গনে গৃহহীন হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভিটেমাটি রক্ষায় অনতিবিলম্বে একটি টেকসই গাইড ওয়াল  নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

​জমিন দেখা যায়, বর্ষায় বড় নুনারবিলপাড়ার বিস্তৃত এলাকার পানি ঝিরি দিয়ে মাতামুহুরি নদী প্রবাহিত হয়। বর্ষা মৌসুমের প্রবাহ ও কূল ঘেঁষে যাওয়া পানির তোড়ে প্রতিদিন একটু একটু করে ধসে পড়ছে পাড়ের মাটি। মাটি সরে গিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ও উঠান বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় মানুষের সংযোগ সড়ক ও গরবাড়ি। লামা সদর ইউনিয়নের

​স্থানীয় বাসিন্দা ভুক্তভোগীর ফরিদ উদ্দীন বলেন, বলেন, “প্রতিদিন রাতে আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। পানির স্রোতে মাটি ধসে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। দ্রুত গাইড ওয়াল করে না দিলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমাদের বসতবাড়ি পুরোটা ধসে যাবে।”

​আরেক বাসিন্দা জানান, প্রতি বছরই ভাঙ্গন রোধে সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ে। এলাকাবাসীর এক মাত্র দাবি, এখানে কোনো প্রকার জোড়াতালির কাজ নয়, বরং দ্রুত শক্ত গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হোক।

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ভাঙ্গন কবলিত এলাকাটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে লামা পৌরসভার অংশে ঝিরি পূর্বপাশে গাইড ওয়াল করে দেয়া হয়েছে। ঝিরির পশ্চিম পাশে অর্থাত পাহাড়ে সাইডে লামা সদর ইউনিয়নের অংশে গাইড ওয়াল প্রয়োজন। তবে তাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গাইড ওয়াল নির্মাণের প্রকল্প দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন; তাতে আমি সুপারিশ করেছি।’

এদিকে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আগেই স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণ করে এলাকাটিকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও প্রকৌশল বিভাগের সুদৃষ্টি কামণা করেছেন এলাকাবাসী।