Lama ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তানিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন

খাগড়াছড়ির তানিয়াকে মীরপুরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও বন্দিজীবন থেকে উদ্ধার, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে: আটক গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা

ঢাকার মিরপুরে ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী তানিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনকে আটক করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কাফরুল থানা পুলিশ তাদের আটক করে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার শিশু তানিয়া বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও দীর্ঘদিন ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ ছাড়াও তানিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে একাধিক সেলাইও দিতে হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য; তানিয়ার পিঠ ও দুই পায়ে গভীর ক্ষতে পচন ধরেছে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও কথিত বন্দিজীবনের কারণে শিশুটি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারছে না।

তানিয়া খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় মা মারা যাওয়ার পর চরম অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিবেশীর মাধ্যমে তাকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয়।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তানিয়াকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডসংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে নেওয়া হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়। ঠিকমতো খাবার না দিয়ে দিনের বড় একটি সময় তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

তানিয়ার অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল বিভিন্ন সময় গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরে ছ্যাঁকা দিতেন এবং মারধর করতেন। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বাবার সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি তানিয়ার মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখান থেকে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক নির্যাতন ও অভুক্ত থাকার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিসবাহ উদ্দিন জানান, নির্যাতনের ঘটনাটি ঢাকায় সংঘটিত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঢাকার থানার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

এদিকে তানিয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী আটক হওয়ায় এখন তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দিকে তাকিয়ে আছে তানিয়ার পরিবার।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্যাতনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামা প্রেসক্লাবের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন-২৬ সম্পন্ন

Bandarban Tribune

তানিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন

খাগড়াছড়ির তানিয়াকে মীরপুরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও বন্দিজীবন থেকে উদ্ধার, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে: আটক গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা

Update Time : ১১:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার মিরপুরে ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী তানিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা সাইফুদ্দিন রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনকে আটক করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কাফরুল থানা পুলিশ তাদের আটক করে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার শিশু তানিয়া বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও দীর্ঘদিন ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ ছাড়াও তানিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে একাধিক সেলাইও দিতে হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য; তানিয়ার পিঠ ও দুই পায়ে গভীর ক্ষতে পচন ধরেছে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও কথিত বন্দিজীবনের কারণে শিশুটি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারছে না।

তানিয়া খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় মা মারা যাওয়ার পর চরম অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিবেশীর মাধ্যমে তাকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয়।

স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তানিয়াকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডসংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে নেওয়া হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মধ্যে রাখা হয়। ঠিকমতো খাবার না দিয়ে দিনের বড় একটি সময় তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

তানিয়ার অভিযোগ, গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল বিভিন্ন সময় গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরে ছ্যাঁকা দিতেন এবং মারধর করতেন। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে তাকে বাবার সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি তানিয়ার মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখান থেকে তাকে খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক নির্যাতন ও অভুক্ত থাকার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিসবাহ উদ্দিন জানান, নির্যাতনের ঘটনাটি ঢাকায় সংঘটিত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঢাকার থানার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।

এদিকে তানিয়াকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী আটক হওয়ায় এখন তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দিকে তাকিয়ে আছে তানিয়ার পরিবার।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্যাতনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।