Lama ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
লেখক আবু রূশদ:

সৈনিক থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অগ্রপথিক:

​বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সাংবাদিকতায় এসে যে কজন ব্যক্তিত্ব নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন, তাদের মধ্যে লেফট্যানেন্ট (অব.) আবু রূশদ অন্যতম। সামরিক জীবনের সুশৃঙ্খল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি দেশের প্রতি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সাংবাদিকতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

​কর্মজীবনের রূপান্তর ও বিবর্তন

​সামরিক জীবন: আবু রুশদ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাভাবনা এবং নিরাপত্তার নানা খুঁটিনাটি বিষয় তিনি সেখান থেকেই আয়ত্ত করেন।

​গণমাধ্যমে পদার্পণ: সামরিক বাহিনী ছাড়ার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি খুব দ্রুত প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

​’বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল’: তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হলো নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল সম্পাদনা ও প্রকাশ করা। এর মাধ্যমে দেশের সামরিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়।

​সাংবাদিকতা ও সাহিত্য শৈলী:

​অনুসন্ধানী ও নিরাপত্তা সাংবাদিকতা: প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে সাধারণ সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে তিনি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশে সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

​ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সামরিক শক্তি সামঞ্জস্য নিয়ে তাঁর লেখা নিবন্ধগুলো বেশ জনপ্রিয় ও বস্তুনিষ্ঠ।

​সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক লিখনশৈলী: তাঁর লেখায় সেনাসুলভ কড়া বাস্তবতাবাদ ও বস্তুনিষ্ঠতার ছাপ স্পষ্ট। অপ্রয়োজনীয় অলংকার এড়িয়ে সরাসরি তথ্য ও কৌশলগত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

​মূল্যায়ন ও প্রভাব:

​সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে গণমাধ্যমে কাজ করা সহজ ছিল না। তিনি কেবল সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই নয়, বরং বেসামরিক সাংবাদিকতার গণ্ডির ভেতরে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণ পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তুলেছেন। তাঁর কাজ তরুণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর/২৬ (লেখকের একদল ভক্ত) পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ লামা উপজেলা শাখার পাইওনিয়ার সৈনিকরা প্রেসক্লাবে এসে আবু রূশদ স্যারের লেখা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনী ও মানবাধিকার’ শিরোনামে একটি বই উপহার দিয়েছেন।

বইটির কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ে ভালো লেগেছে। তরুণ প্রজন্মকে এই বইটি পড়ার অনুরোধ করবো।

সাধারণ সম্পাদক, লামা প্রেসক্লাব।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান

Bandarban Tribune

লেখক আবু রূশদ:

সৈনিক থেকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অগ্রপথিক:

Update Time : ০৩:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সাংবাদিকতায় এসে যে কজন ব্যক্তিত্ব নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন, তাদের মধ্যে লেফট্যানেন্ট (অব.) আবু রূশদ অন্যতম। সামরিক জীবনের সুশৃঙ্খল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি দেশের প্রতি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সাংবাদিকতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।

​কর্মজীবনের রূপান্তর ও বিবর্তন

​সামরিক জীবন: আবু রুশদ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্ট্র্যাটেজিক চিন্তাভাবনা এবং নিরাপত্তার নানা খুঁটিনাটি বিষয় তিনি সেখান থেকেই আয়ত্ত করেন।

​গণমাধ্যমে পদার্পণ: সামরিক বাহিনী ছাড়ার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। সামরিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি খুব দ্রুত প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

​’বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল’: তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হলো নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল সম্পাদনা ও প্রকাশ করা। এর মাধ্যমে দেশের সামরিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়।

​সাংবাদিকতা ও সাহিত্য শৈলী:

​অনুসন্ধানী ও নিরাপত্তা সাংবাদিকতা: প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে সাধারণ সংবাদমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে তিনি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশে সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

​ভূ-রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সামরিক শক্তি সামঞ্জস্য নিয়ে তাঁর লেখা নিবন্ধগুলো বেশ জনপ্রিয় ও বস্তুনিষ্ঠ।

​সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক লিখনশৈলী: তাঁর লেখায় সেনাসুলভ কড়া বাস্তবতাবাদ ও বস্তুনিষ্ঠতার ছাপ স্পষ্ট। অপ্রয়োজনীয় অলংকার এড়িয়ে সরাসরি তথ্য ও কৌশলগত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

​মূল্যায়ন ও প্রভাব:

​সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে গণমাধ্যমে কাজ করা সহজ ছিল না। তিনি কেবল সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই নয়, বরং বেসামরিক সাংবাদিকতার গণ্ডির ভেতরে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণ পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তুলেছেন। তাঁর কাজ তরুণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর/২৬ (লেখকের একদল ভক্ত) পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ লামা উপজেলা শাখার পাইওনিয়ার সৈনিকরা প্রেসক্লাবে এসে আবু রূশদ স্যারের লেখা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনী ও মানবাধিকার’ শিরোনামে একটি বই উপহার দিয়েছেন।

বইটির কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ে ভালো লেগেছে। তরুণ প্রজন্মকে এই বইটি পড়ার অনুরোধ করবো।

সাধারণ সম্পাদক, লামা প্রেসক্লাব।