Lama ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ

লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের পাঠদান শুরু

বান্দরবানের লামা উপজেলায় কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে নতুন উদ্যোগ হিসেবে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুটি কোর্সের পাঠদান শুরু হয়েছে। আজ ১৫ আগস্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে কর্মমুখী দক্ষতা তুলে দেওয়া এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে কম্পিউটার ও সেলাইয়ের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠদান শুরুর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক লামা পৌর মেয়র আমির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবু থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ দে, আশিফ ইস্তিফ এবং শিক্ষানুরাগী মায়েছা মার্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, “লামা উপজেলার ইতিহাসে আজ একটি স্মরণীয় দিন।” তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বর্তমান শ্রমবাজারে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের পাঠদান শুরু করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে লামায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ

লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের পাঠদান শুরু

Update Time : ০৩:১৮:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলায় কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে নতুন উদ্যোগ হিসেবে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুটি কোর্সের পাঠদান শুরু হয়েছে। আজ ১৫ আগস্ট ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে কর্মমুখী দক্ষতা তুলে দেওয়া এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে কম্পিউটার ও সেলাইয়ের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠদান শুরুর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এম রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক লামা পৌর মেয়র আমির হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবু থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ দে, আশিফ ইস্তিফ এবং শিক্ষানুরাগী মায়েছা মার্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন বলেন, “লামা উপজেলার ইতিহাসে আজ একটি স্মরণীয় দিন।” তিনি বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেন, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে উপজেলার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এম তমিজ উদ্দিন বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বর্তমান শ্রমবাজারে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের পাঠদান শুরু করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীকে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে লামায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।