Lama ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, ১৫১ জন নৃ-গোষ্ঠীর নারী শিশু টিকা পেলেন

আলীকদমে ৫ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে শিশুদেরকে ইপিআই টিকা দেয়া হয়

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের “বলই ম্রো পাড়ায়” চার দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং গ্রীন হিল এনজিও-র ‘এমআইএইচআর’ (MIHR) প্রকল্পের সহযোগিতায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়। এতে পাড়ার ১৫১ জন নারী ও শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএএফপিও) ডা. মোহাম্মদ হানিফের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যকর্মী চন্তমণি চাকমার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

 

দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী সামহ্রী মার্মা, লিটন কান্তি শীল, মংচেংনু মার্মা এবং গ্রীন হিল এনজিও-র উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা। স্বাস্থ্যকর্মীদের এই দলটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়, উঁচুনীচু গিরিপথ ও ঝিরি অতিক্রম করে বলই ম্রো পাড়ায় পৌঁছায়।

সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটিইপিআই মো. ওবাইদুল জানান, বলই ম্রো পাড়াটি মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ও সেনাক্যাম্প সংলগ্ন আলীকদমের শেষ জনপদ। পূর্বে এখানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হেলিকপ্টারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো।

তবে এবার আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা গাড়ি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এই সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই সাহসিকতা ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।

স্থানীয় রেংপুং কারবারী (পাড়া প্রধান) বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ের ঝিরিগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় আমাদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়। দূষিত পানি পানের ফলে আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি হয়। এই দুর্গম এলাকায় এসে চিকিৎসা ও টিকা দেওয়ায় আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসকল শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামা প্রেসক্লাবের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন-২৬ সম্পন্ন

Bandarban Tribune

দুর্গম পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, ১৫১ জন নৃ-গোষ্ঠীর নারী শিশু টিকা পেলেন

আলীকদমে ৫ ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে শিশুদেরকে ইপিআই টিকা দেয়া হয়

Update Time : ০৯:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের “বলই ম্রো পাড়ায়” চার দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং গ্রীন হিল এনজিও-র ‘এমআইএইচআর’ (MIHR) প্রকল্পের সহযোগিতায় গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়। এতে পাড়ার ১৫১ জন নারী ও শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএএফপিও) ডা. মোহাম্মদ হানিফের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যকর্মী চন্তমণি চাকমার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

 

দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যকর্মী সামহ্রী মার্মা, লিটন কান্তি শীল, মংচেংনু মার্মা এবং গ্রীন হিল এনজিও-র উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা। স্বাস্থ্যকর্মীদের এই দলটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়, উঁচুনীচু গিরিপথ ও ঝিরি অতিক্রম করে বলই ম্রো পাড়ায় পৌঁছায়।

সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটিইপিআই মো. ওবাইদুল জানান, বলই ম্রো পাড়াটি মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ও সেনাক্যাম্প সংলগ্ন আলীকদমের শেষ জনপদ। পূর্বে এখানে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় হেলিকপ্টারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো।

তবে এবার আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা গাড়ি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এই সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই সাহসিকতা ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।

স্থানীয় রেংপুং কারবারী (পাড়া প্রধান) বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ের ঝিরিগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় আমাদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়। দূষিত পানি পানের ফলে আমাশয় ও ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের সৃষ্টি হয়। এই দুর্গম এলাকায় এসে চিকিৎসা ও টিকা দেওয়ায় আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসকল শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”