
সুন্দরবনে সক্রিয় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন বনদস্যু বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১২টি তাজা কার্তুজসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এসব তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন। তাঁরা কোস্ট গার্ডের কাছে তাঁদের কাছে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১২টি তাজা কার্তুজ, ২৯টি ফাঁকা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের ২০টি গুলি, ৮ মিলিমিটারের পাঁচটি তাজা গোলা ও এয়ারগানের ৪১৩টি গুলি রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, চারজন সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং একজন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন ও অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। কোস্ট গার্ড জানায়, এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে সুন্দরবনের অন্য সক্রিয় বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা 




















