Lama ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি হবে

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অযৌক্তিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী।

‎বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (৩ নম্বর গেট) সংলগ্ন এলাকায় সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তনের মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

‎মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।

‎মানববন্ধনে ববি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, “আমরা চাই, দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকবে। এখানে কোনো দলীয়পন্থি বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি করবে—এমনটা হবে না। আমরা এসব মানি না। আমরা বছরের পর বছর পড়াশোনা করি, আর আপনারা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন। আপনারা দ্রুতই এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। আমরা কোনো সরকারের বিপক্ষে নই, আমরা কোনো ভাইভার বিপক্ষেও নই। আমরা আপনাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।”

‎ববি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ বলেন, “সরকারের উদ্দেশ্য কী, সাধারণ জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। আমরাও জানি ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির কারণ কী। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে চাই—অনতিবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত থেকে তাদের ফিরে আসতে হবে। তাদের এই লিটমাস টেস্ট থেকে সরে আসতে হবে। যদি আপনারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন, তাহলে হাসিনার মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

‎উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Bandarban Tribune

‎ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি হবে

Update Time : ০২:২৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর অযৌক্তিক হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে হাসিনার মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী।

‎বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (৩ নম্বর গেট) সংলগ্ন এলাকায় সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তনের মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক সুপারিশের সুযোগ তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

‎মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।

‎মানববন্ধনে ববি আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, “আমরা চাই, দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকবে। এখানে কোনো দলীয়পন্থি বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি করবে—এমনটা হবে না। আমরা এসব মানি না। আমরা বছরের পর বছর পড়াশোনা করি, আর আপনারা হঠকারী সিদ্ধান্ত নেন। আপনারা দ্রুতই এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। আমরা কোনো সরকারের বিপক্ষে নই, আমরা কোনো ভাইভার বিপক্ষেও নই। আমরা আপনাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।”

‎ববি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজ বলেন, “সরকারের উদ্দেশ্য কী, সাধারণ জনগণ তা বুঝতে পেরেছে। আমরাও জানি ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধির কারণ কী। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে চাই—অনতিবিলম্বে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। এই সিদ্ধান্ত থেকে তাদের ফিরে আসতে হবে। তাদের এই লিটমাস টেস্ট থেকে সরে আসতে হবে। যদি আপনারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসেন, তাহলে হাসিনার মতো একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

‎উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থায় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।