
পার্বত্য রাঙ্গামাটির সীমান্তঘেঁষা ও নদীবেষ্টিত উপজেলা লংগদু। একসময় যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাগরিক সেবা পৌঁছানোই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ, সেখানে এখন লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইনের একের পর এক জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ ও গতিশীল নেতৃত্বে বদলে যেতে শুরু করেছে উপজেলার সার্বিক চিত্র।
সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তায় তাঁর দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসাইন মাঠপর্যায়ে সরাসরি তদারকি বাড়িয়েছেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে তা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা, কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের মাঝে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

উপজেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা লক্ষণীয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধে পদক্ষেপ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদান, সামাজিক বনায়ন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো (টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এডিপি) নির্মাণ ও সংস্কার কাজ অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছেন।
এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উপজেলা শিশুদের চিত্র বিনোদনের জন্য করেছেন শিশু অবকাশ, কাপ্তাই লেকের পানির ঢেউয়ে মাটি ভাঙ্গনরোধে গাইড ওয়াল, লংগদু উপজেলা কখনো ৮ লক্ষ টাকার বেশি ফেরিঘাট ইজারা ওঠেনি সেখানে এবছর তিনি ২৬লক্ষ ৫৩হাজার পাচশত টাকা ইজারা বাবদ আয় করেছেন এবং সেগুলো দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে যাত্রী ছাউনি বাবদ বরাদ্দ দিয়েছেন। লংগদু উপজেলা ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসাইন শিশুদের জন্য শিশু অবকাশ পার্কের ব্যবস্থা করেছেন, যা অতীতে এখানকার মানুষের একটি স্বপ্ন ছিলো মাত্র। এছাড়াও দুর্গম শিলাছড়া এলাকার মানুষদের জন্য নানা সুবিধা দিয়েছন।
উপজেলার একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, “ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসাইন শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। জনগণের সেবক হিসেবে মাঠপর্যায়ে নেমে কাজ করছেন। কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকৃত সুফলভোগীদের কাছে উন্নয়ন ও সহায়তার সুফল পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। এর ফলে লংগদুর সাধারণ মানুষ এখন সহজেই সরকারি সেবার সুফল পাচ্ছে।”
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, “সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো যেন প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়; সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও লংগদুবাসীর আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এসব কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। লংগদুকে একটি মডেল ও সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”
জনমুখী ও স্বচ্ছ প্রশাসনের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লংগদুর সার্বিক উন্নয়নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মো.গোলামুর রহমান, লংগদু (রাঙ্গামাটি): 




















