Lama ০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শেষ মুহূর্তে আবদুল মতলবের সরে দাঁড়ানোটা আসলে গুঞ্জন

বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন আজ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বামু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্মেলন হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় এর গুরুত্ব দলীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বামু বিলছড়ি তুলনামূলকভাবে পশ্চাৎপদ একটি এলাকা। যোগাযোগ, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এ ইউনিয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন নেতৃত্ব কারা আসছেন এবং তারা ভবিষ্যতে দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে।

দলীয় সম্মেলন, কিন্তু প্রভাব বৃহত্তর পরিসরে:

রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করা। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব অনেক সময় দলীয় সাংগঠনিক সীমারেখায় আটকে থাকে না।

বিশেষ করে একটি ইউনিয়নের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে, তাহলে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও অবস্থানও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

তবে সম্মেলনের আগে শেষ মুহূর্তের একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে পুরো হিসাব-নিকাশ। সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবদুল মতলব সভাপতি পদে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, আবদুল মতলব সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেশি হতো। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতির কারণে তাঁর প্রার্থিতা সম্মেলনে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারত। ফলে শেষ মুহূর্তে তাঁর সরে দাঁড়ানোয় সম্মেলনের সম্ভাব্য জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সভাপতি পদে এখন মুখোমুখি দুই প্রার্থী:

আবদুল মতলব সরে দাঁড়ানোর পর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক জনাব গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার। ফলে সভাপতি পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এই দুই নেতাকে ঘিরেই।

দুজনেরই স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলর বা সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সমর্থন কার দিকে যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

সভাপতি পদে দুই প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী।

অর্থাৎ সভাপতি পদে আবদুল মতলবের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কারণে প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ বদলে গেলেও সম্মেলনের অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির প্রবীন নেতা আবদুল মতলবের শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহলের আলোচনায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টিও উঠে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য বা নিজেকে এলাকার রাজনীতিতে অপরিহার্য হিসাবে প্রমান করতে না পারায়,  কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা না হওয়ার কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেছেন।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব জানান, ‘সত্য এটা যে আমি সরে দাঁড়ায়নি। নেতৃত্বে নবীনদেরকে সুযোগ করে দেয়ার জন্যেই মুলত: আমরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গনতন্ত্রের চর্চা করি; পদ পদবি এককেন্দ্রিক না করে বিকেন্দ্রীকরণ আামাদের লক্ষ্য। আশাকরি সুষ্ঠুভাবে এই সম্মেলনের সফল পরি সমাপ্তি ঘড়বে এবং সুন্দর একটি রাজনৈতিক পরিবেশের মাধ্যমে নবীন প্রবীনের মেলবন্ধনে বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের কাঙ্খিত উন্নয়ন তরান্বিত হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

শেষ মুহূর্তে আবদুল মতলবের সরে দাঁড়ানোটা আসলে গুঞ্জন

বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন আজ

Update Time : ১২:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বামু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সম্মেলন হলেও স্থানীয় বাস্তবতায় এর গুরুত্ব দলীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বামু বিলছড়ি তুলনামূলকভাবে পশ্চাৎপদ একটি এলাকা। যোগাযোগ, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এ ইউনিয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন নেতৃত্ব কারা আসছেন এবং তারা ভবিষ্যতে দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে কী ধরনের ভূমিকা রাখবেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে।

দলীয় সম্মেলন, কিন্তু প্রভাব বৃহত্তর পরিসরে:

রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করা। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব অনেক সময় দলীয় সাংগঠনিক সীমারেখায় আটকে থাকে না।

বিশেষ করে একটি ইউনিয়নের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে, তাহলে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও অবস্থানও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

তবে সম্মেলনের আগে শেষ মুহূর্তের একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে পুরো হিসাব-নিকাশ। সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আবদুল মতলব সভাপতি পদে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, আবদুল মতলব সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে সম্মেলনকে ঘিরে প্রতিযোগিতা ও রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেশি হতো। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতির কারণে তাঁর প্রার্থিতা সম্মেলনে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারত। ফলে শেষ মুহূর্তে তাঁর সরে দাঁড়ানোয় সম্মেলনের সম্ভাব্য জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রকৃত কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সভাপতি পদে এখন মুখোমুখি দুই প্রার্থী:

আবদুল মতলব সরে দাঁড়ানোর পর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক জনাব গিয়াস উদ্দিন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার। ফলে সভাপতি পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এই দুই নেতাকে ঘিরেই।

দুজনেরই স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলর বা সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সমর্থন কার দিকে যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা:

সভাপতি পদে দুই প্রার্থীর পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রায় অর্ধডজন প্রার্থী।

অর্থাৎ সভাপতি পদে আবদুল মতলবের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কারণে প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ বদলে গেলেও সম্মেলনের অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। বিশেষ করে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপির প্রবীন নেতা আবদুল মতলবের শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহলের আলোচনায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টিও উঠে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য বা নিজেকে এলাকার রাজনীতিতে অপরিহার্য হিসাবে প্রমান করতে না পারায়,  কাঙ্ক্ষিত সমঝোতা না হওয়ার কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে গেছেন।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব জানান, ‘সত্য এটা যে আমি সরে দাঁড়ায়নি। নেতৃত্বে নবীনদেরকে সুযোগ করে দেয়ার জন্যেই মুলত: আমরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গনতন্ত্রের চর্চা করি; পদ পদবি এককেন্দ্রিক না করে বিকেন্দ্রীকরণ আামাদের লক্ষ্য। আশাকরি সুষ্ঠুভাবে এই সম্মেলনের সফল পরি সমাপ্তি ঘড়বে এবং সুন্দর একটি রাজনৈতিক পরিবেশের মাধ্যমে নবীন প্রবীনের মেলবন্ধনে বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের কাঙ্খিত উন্নয়ন তরান্বিত হবে।’