
ঢাকার নবাব পরিবারের কারনেই কি মুসলমানদের আলাদা আবাসভূমি হয়েছে ? হিন্দুস্তানের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে মুসলমানরা ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ এবং হিন্দুস্তানের কাছ থেকে ? নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন বাঙ্গালী মুসলমানের কান্ডারী। এই মহান মানুষটা ও তার বিশাল অবদান নিয়ে খুব কমই লেখা হয়েছে।
ঠিক তাই, নবাব পরিবারের দূরদর্শিতার কারণেই মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল ।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ তিনি বুঝতে পারেন যে ভারতবর্ষে মুসলমানদের টিকে থাকতে হলে আলাদা ভূখণ্ডের প্রয়োজন, তাই তিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন করেন, তিনি মনে করতেন পূর্ব বঙ্গে মুসলমানরা শিক্ষা দীক্ষা , অর্থনীতি, মুসলমান সমাজ , সবদিক দিয়ে পিছিয়ে আছেন মুসলমানেরা মুসলমানেরা অবহেলিত হচ্ছে ।
তিনি মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভঙ্গ করলেন , পূর্ববঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হলো আসাম, নতুন মানচিত্র ।
ঢাকাকে রাজধানী করে।
১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ভারতবর্ষের সব মুসলমান নেতাদের ডেকে নিলেন ঢাকায় আহসান মঞ্জিলে ।
সে দিনই মুসলিম লীগ গঠিত হয় মুসলমানদের নিয়ে ।
১৯০৯ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নবাব নবাব সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা দাবি তোলেন । এবং তা মর্লি – মিন্টো সংস্কারনের স্বীকৃতি পায় ।
১৯১১ সাল, বঙ্গভঙ্গ আবার রদ করা হয়, এটি করার পরে মুসলমানদের ভিতরে আসামকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা দেখা দেয়, আসামকে নিয়ে ।
নবাব সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালে ১৬ জানুয়ারিমৃত্যুর করেন, মৃত্যুর পর। নবাব পরিবারের হাল ধরেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ, এবং পঞ্চম নবাব হন তিনি। নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে একটা প্রশ্ন রয়েই গেছে। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সন্দেহ ছিল বিষ প্রয়োগে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মৃতদেহের পোস্টমর্টেম ছাড়াই দ্রুত তাঁকে দাফন করার জন্য সরকারী চাপ ছিল।
নবাব সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সকল খরচ একাই বহন করেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠায় তিনি এক হাজার একরেরও বেশী জমি দান করেন। তার দান করা জমিতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বর্তমান বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার জন্য তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয়ও করেন। এতে তার জমিদারীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এমন কি তিনি জমিদারীর একটা অংশ বন্ধক রেখেও টাকা সংগ্রহ করে দেন।
এই মহান মানুষটার নামে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হল ছাড়া আর কোথাও তাঁর নাম নেই। এটা দুঃখজনক।
পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে খাজা নাজিম উদ্দিন নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগদান করেন , এবং মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমির জন্য আন্দোলন শুরু করেন।
১০৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত খাজা নাজিমুদ্দিন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন কায়েদে আজম মোহাম্মদ জিন্নাহর সঙ্গে পাকিস্তান আন্দোলন ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তান অন্যতম আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচিত হলেও উর্দুভাষী এই মানুষটার প্ররোচনায় মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাস্ট্রভাষা ঘোষনা করেন। অথচ জিন্নাহ নিজেও উর্দু ভাষী ছিলেননা। এখনও পাকিস্তানের খুব কম মানুষই উর্দু ভাষায় কথা বলে।
(হুমায়ুন কবিরের ফেসবুক থেকে)
ট্রিবিউন ডেস্ক: 




















