
নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে লামা উপজেলাধীন সকল পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের শুভ উদ্বোধনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তরা নেশামুক্ত সমাজ গঠনে প্রজন্মের প্রতি ‘নজরুল’ চর্চা ও চেতণা লালনের আহ্বান জানান।
আজ সোমবার ৩১ আগস্ট/২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ সারা দেশের ন্যায় নজরুল বর্ষ ২০২৬’র সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করেন লামা উপজেলা প্রশাসন।
এই উপলক্ষ্যে সকাল ১০ টায় লামা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স মিলনায়তনে নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন এর সভাপতিত্বে ‘নজরুল’ জীবনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক অধ্যাপক মোঃ তমিজউদদীন।

তিঁনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নতুন যুগের স্রষ্টা জাতীয় কবি নজরুল এখনও যেন বিস্ময়কর আলো হয়ে জ্বলছেন। পথ দেখিয়ে চলেছেন বাঙালিকে। তাঁর কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে বিপুল সমৃদ্ধি। বৈচিত্র্যময় বাংলা গানের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডারটির স্রষ্টা তিনি।
কাজী নজরুল ইসলাম নিজের সকল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রেমের কথা বলেছেন। মানবতার কথা বলেছেন। সাম্যের কবি নারীর প্রতি উপেক্ষা কখনও মেনে নেননি। সমাজের নীচু শ্রেণির মানুষকে কাছে টেনে নিয়েছেন। ধার্মিক মুসলিম সমাজ ও অবহেলিত জনগণের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রদায়িকতার নিন্দা করেছেন তীব্র ভাষায়।

স্বার্থান্ধ মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন সর্বদা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এই কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে অসংখ্যবার জেল খেটেছেন।
অসাম্প্রদায়িক এই কবি বাঙালীর চিন্তা-মনন ও অনুভূতির জগতে নানাভাবে নাড়া দিয়েছেন। অন্যান্য সৃষ্টির পাশাপাশি তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নজরুলকে ভিন্ন উচ্চতায় আসীন করে। এ কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন কবি। মানবতার বাণী প্রচার করেন।
কাছাকাছি সময়ে রচিত তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’। এতে ভারতীয় মুসলিমদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতা সম্বন্ধে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস চেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।

১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাড়াজাগানো কবিতা সংকলন ‘অগ্নিবীণা’। কাব্যগ্রন্থটি বাংলা কাব্যের ভুবনে পালাবদল ঘটাতে সক্ষম হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ নিঃশেষ হয়ে যায়। পরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ‘বিদ্রোহী’, ‘কামাল পাশা’ ছাড়াও এই কাব্যগ্রন্থেও ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’, ‘শাত-ইল্-আরব’ কবিতা দারুণ হৈচৈ ফেলে দেয় সে সময়।
জীবনের শুরুটা ছিল ভীষণ অনিশ্চয়তার। ক্ষণজন্মা মানুষটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান নজরুলের পড়ালেখার শুরু মক্তবে। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর দারিদ্র্যের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশিদূর এগোয়নি।
মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার কাঁধে নিতে হয় তাঁকে। রুটির দোকানে কাজ শুরু করেন কবি। বালক বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যোগ দেন লেটো দলে। এই দলেই তার সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। পরে মসজিদের মুয়াজ্জিন, মাজারের খাদেম হিসেবেও কাজ করেছেন।

কবি যৌবনে সেনা সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন যুদ্ধেও। সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। করেছেন রাজনীতি। এভাবে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আর বিচিত্র জীবনযাপন করেন নজরুল।
বর্তমান সরকার প্রধান এই কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেন। এর মধ্যদিয় প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে সাম্যের চেতনা, দেশ প্রেম, মানুষে মানুষে মমত্ববোধ।
আলোচনায় বক্তরা দাবি রেখে বলেন, প্রজন্মকে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে একটি আধুনিক মানসম্মত পাঠাগার তৈরি করে
দিতে হবে। সাংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও চরিত্রবান করে গড়া সম্ভব।

লামা নুনারবিল মডের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক জাহিদ সারোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে আলোচনা করেন; সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা থোয়াইনু অং চৌধুরী,
জেলা বিএনপি’ যুগ্ন আহ্বায়ক সাবেক লামা পৌরসভার মেয়র মোঃ আমির হোসেন, ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী আমির কাজী মোঃ ইব্রাহীম, এনসিপি নেতা মোঃ নাজমুল হাসান, ছাত্রদল নেতা তুহিন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের লামা উপজেলা সভাপতি সাকিবুল ইসলাম মারুফ ও এমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যলয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 




















