
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
প্রস্তুতকারক: লামা জেলা বাস্তবায়ন তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা কার্যক্রম।
১. নির্বাহী সারসংক্ষেপ:
লামা বান্দরবান পার্বত্য জেলার একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রকাশিত সরকারি ও সংবাদসূত্রে লামার প্রশাসনিক ইতিহাস সম্পর্কে একাধিক তথ্য পাওয়া যায়, যার মধ্যে কিছু তথ্য পরস্পরের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই প্রতিবেদনে সরকারি নথিতে নিশ্চিত তথ্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং স্থানীয়ভাবে প্রচলিত/দাবিকৃত তথ্য পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লামা থানা ১৯৭১ সালে মহকুমায় উন্নীত হয়েছিল। অন্যদিকে সাম্প্রতিক স্থানীয় প্রশাসন-সূত্রভিত্তিক সংবাদে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানাকে নিয়ে লামা মহকুমা গঠিত হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সরকারি ইতিহাসে আরও বলা হয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে লামা, খাগড়াছড়ি ও কাপ্তাই মহকুমা গঠনের জন্য প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসে বান্দরবান ও লামা মহকুমা নিয়ে বান্দরবান জেলা গঠিত হয়।
এরপর আসে এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি। দেশের বিভিন্ন সরকারি জেলা-ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৮২–৮৪ সালের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে সাবেক মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করা হয়। যেমন নাটোর, পঞ্চগড়, মাগুরা, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলা ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
লামার ক্ষেত্রে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসন-সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে ১৯৮৩ সালে দেশের মহকুমাগুলো বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকেও জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল। NTV ও NewsBangla-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই জেলা-ঘোষণা মাত্র তিন দিন কার্যকর ছিল।
অন্যদিকে ২৭ আগস্ট ২০২৬ লামায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে স্থানীয় বক্তাদের বক্তব্য হিসেবে ২১ দিন জেলা থাকার পর নির্বাহী আদেশে লামা জেলা স্থগিত এবং বান্দরবানকে পুনরায় জেলা করার দাবি প্রকাশিত হয়েছে।
অতএব, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হলো:
১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণার মূল সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী স্থগিত/বাতিল আদেশ উদ্ধার করা।
এই দুটি নথি পাওয়া গেলে লামা জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের ঐতিহাসিক দাবিটি অত্যন্ত শক্তিশালী সরকারি দলিলে পরিণত হবে।
২. লামার প্রশাসনিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট:
লামার বর্তমান প্রশাসনিক পরিচয়কে বুঝতে হলে এর পূর্ববর্তী প্রশাসনিক অবস্থান দেখতে হবে।
লামা দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। সরকারি বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে বর্তমান বান্দরবান এলাকার প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে বান্দরবান, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা ও লামা থানা ছিল।
পরবর্তী সময়ে লামার প্রশাসনিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় এবং এটি মহকুমায় উন্নীত হয়। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে লামা থানা মহকুমায় উন্নীত হয়।
তবে ২০২৬ সালের সংবাদ প্রতিবেদনে উপজেলা প্রশাসনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানাকে নিয়ে লামা মহকুমা গঠিত হয়েছিল।
গবেষণাগত অবস্থান:
এই দুই তথ্যের মধ্যে তারিখগত পার্থক্য থাকায় ১৯৭০ সালের মূল প্রজ্ঞাপন এবং ১৯৭১ সালের মহকুমা ঘোষণার সরকারি আদেশ উদ্ধার না করা পর্যন্ত একটি তারিখকে চূড়ান্ত বলা উচিত নয়।
ডসিয়ারে তাই লেখা নিরাপদ:
“প্রকাশিত সরকারি ও প্রশাসনিক সূত্রে লামা মহকুমা প্রতিষ্ঠার সময়কাল ১৯৭০–১৯৭১ হিসেবে পাওয়া যায়; বিষয়টি নিশ্চিত করতে মূল প্রজ্ঞাপন/গেজেট সংগ্রহ প্রয়োজন।”
৩. লামা মহকুমার প্রশাসনিক গুরুত্ব:
মহকুমা ছিল তৎকালীন প্রশাসনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী স্তর।
একজন মহকুমা প্রশাসক বা Sub-Divisional Officer-এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা, ভূমি-রাজস্ব, প্রশাসন ও সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
অতএব, লামাকে মহকুমায় উন্নীত করার অর্থ ছিল শুধু নাম পরিবর্তন নয়; বরং বৃহত্তর অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
লামার সঙ্গে আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়ার ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সম্পর্কের দাবিও এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ১৯৭৯ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠন
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সরকারি ইতিহাসে বলা হয়েছে:
১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে নতুন মহকুমা খাগড়াছড়ি, লামা ও কাপ্তাই গঠনের জন্য পুরোনো মহকুমাগুলো পুনর্গঠন করা হয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সরকারি ইতিহাসেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে।
এটি প্রমাণ করে যে ১৯৭৯ সালেও লামা বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে একটি স্বতন্ত্র মহকুমা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
৫. ১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা প্রতিষ্ঠা,
এরপর ১৯৮১ সালে ঘটে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ১৯৮১ সালে বান্দরবান ও লামা মহকুমাকে নিয়ে বান্দরবান জেলা গঠন করা হয়।
বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সরকারি ইতিহাসেও বলা হয়েছে, তৎকালীন লামা মহকুমার ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ নতুন বান্দরবান জেলা আত্মপ্রকাশ করে।
অর্থাৎ; ১৯৮১-এর আগে:
লামা = স্বতন্ত্র মহকুমা
১৯৮১-এর পর:
লামা মহকুমা = বান্দরবান জেলার অংশ;
এই পরিবর্তন লামার পরবর্তী প্রশাসনিক ইতিহাস বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ:
১৯৮২ সালের পর রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল;
থানা → উপজেলা এবং মহকুমা → জেলা
প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন।
সরকারি জেলা-ইতিহাসগুলো এই পরিবর্তনের ব্যাপক প্রমাণ দেয়।
নাটোর:
নাটোর জেলা প্রশাসনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পুরাতন মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয় এবং ১৯৮৪ সালে নাটোর জেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
পঞ্চগড়:
সরকারি পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে পঞ্চগড় মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।
মৌলভীবাজার:
সরকারি মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজার মহকুমা জেলায় রূপান্তরিত হয়।
মাগুরা:
সরকারি মাগুরা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে মাগুরা মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।
চাঁদপুর:
সরকারি চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জেলা পুনর্গঠন নীতির আওতায় চাঁদপুর মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়।
সিরাজগঞ্জ:
সরকারি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তথ্যেও বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হয়।
উপসংহার:
সুতরাং, এরশাদ সরকারের সময়ে মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার যে জাতীয় প্রশাসনিক কর্মসূচি ছিল; তা কেবল লামা-সংক্রান্ত স্থানীয় দাবি নয়; দেশের বিভিন্ন সরকারি জেলা ইতিহাসেও এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
৭. ১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণার দাবি
এখানেই লামার ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় প্রশাসন-সূত্রে বলা হয়েছে যে ১৯৮৩ সালে দেশের সব মহকুমা বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় তৎকালীন সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকেও জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল।
NTV-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে উপজেলা প্রশাসনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে:
১৯৮৩ সালে দেশের সব মহকুমা বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলেও তা মাত্র তিন দিন স্থায়ী হয়েছিল।
NewsBangla-র প্রতিবেদনেও উপজেলা প্রশাসনের সূত্র হিসেবে একই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
৮. ইত্তেফাকের ঐতিহাসিক প্রতিবেদন:
লামার প্রশাসনিক ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে;
১৯৮২–৮৩ সালে লামা মহকুমাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হলেও লামায় জেলা স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে বাইশারী ও গজালিয়া থানা বিলুপ্ত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রূপান্তর হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে প্রকাশিত লিখিত দলিল। তবে সংবাদ প্রতিবেদনটি মূল সরকারি গেজেটের বিকল্প নয়।
৯. “তিন দিন” বনাম “২১ দিন”: তথ্যগত বিরোধ
লামা জেলা ঘোষণার সময়কাল নিয়ে বর্তমানে দুটি ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
প্রথম মত: ৩ দিন
NTV ও NewsBangla-র ২০২৬ সালের প্রতিবেদনগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে; লামা জেলা ঘোষণা মাত্র ৩ দিন কার্যকর ছিল।
দ্বিতীয় মত ২১ দিন:
২৭ আগস্ট ২০২৬-এর লামা জেলা বাস্তবায়ন গোলটেবিল বৈঠকের সংবাদে স্থানীয় বক্তাদের বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে:
লামা ২১ দিন জেলা ছিল; পরে নির্বাহী আদেশে জেলা স্থগিত করে বান্দরবানকে পুনরায় জেলা করা হয়।
গবেষণাগত সিদ্ধান্ত:
এ মুহূর্তে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ভাষা হবে-
“প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে ১৯৮৩ সালের লামা জেলা ঘোষণার মেয়াদ ৩ দিন থেকে ২১ দিন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল সরকারি প্রজ্ঞাপন ও স্থগিতাদেশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট মেয়াদ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।”
১০. জেলা স্থগিতের কারণ: কী জানা যায়?
এখানে আরও সতর্কতা প্রয়োজন:
স্থানীয় সংবাদ ও প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, একটি মহলের আপত্তি বা প্রভাবের কারণে লামার জেলা বাস্তবায়ন স্থগিত হয়।
কিন্তু এ দাবির পক্ষে মূল সরকারি আদেশ বা নোটশিটি এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
তাই সরকারি ডসিয়ারে “ষড়যন্ত্রের কারণে জেলা বাতিল” লিখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
বরং লিখতে হবে:
“লামা জেলা ঘোষণার পর তা স্থগিত বা বাতিল হওয়ার পেছনে কী প্রশাসনিক, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণ কাজ করেছিল; তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, নোটশিট ও আদেশ উদ্ধার করা প্রয়োজন।”
এটি আপনার দাবিকে দুর্বল নয়, বরং প্রশাসনিকভাবে আরও বিশ্বাসযোগ্য করবে।
১১. বাইশারী ও গজালিয়ার বিষয়টি
লামার ঐতিহাসিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে বাইশারী ও গজালিয়ার সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন স্থানীয় ও সংবাদসূত্রে এসেছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে; লামা জেলা বাস্তবায়ন স্থগিত হওয়ার সময় বাইশারী ও গজালিয়া থানা বিলুপ্ত করে পুলিশ ফাঁড়িতে রূপান্তর করা হয়েছিল।
NewsBangla-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে লামা মহকুমার সঙ্গে আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়ার ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে বর্তমান জেলা বাস্তবায়ন প্রস্তাবে লামা–আলীকদম–নাইক্ষ্যংছড়ি এবং ঐতিহাসিকভাবে সংশ্লিষ্ট বাইশারী ও গজালিয়াকে নিয়ে সম্ভাব্য প্রশাসনিক কাঠামো সরকারি সমীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করার দাবি তোলা যেতে পারে।
১২. ১৯৮৩ সালের জেলা ঘোষণার দাবির বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা:
এই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো; লামাকে জেলা করার দাবি শুধু বর্তমান উন্নয়ন-চাহিদার ওপর দাঁড়িয়ে নেই।
এর পেছনে রয়েছে প্রথমত: লামার পূর্বতন মহকুমা মর্যাদা।
দ্বিতীয়ত: ১৯৭৯ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠনে লামার মহকুমা অবস্থান।
তৃতীয়ত: ১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা গঠনে লামা মহকুমার প্রশাসনিক সীমানার ভূমিকা।
চতুর্থত: এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি।
পঞ্চমত: ১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণার সংবাদ ও প্রশাসনিক সূত্রভিত্তিক দাবি।
ষষ্ঠত: জেলা ঘোষণার পর তা স্থগিত হওয়ার দাবি।
এই ধারাবাহিকতা লামার বর্তমান জেলা দাবিকে একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়নের দাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক।
১৩. বর্তমানে লামায় জেলা-সদৃশ প্রশাসনিক অবকাঠামোর উপস্থিতি:
NTV-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে উপজেলা প্রশাসনের তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লামায় বর্তমানে বন বিভাগ ও পোস্ট অফিস বাদে সরকারের ৩৩টি দপ্তর রয়েছে।
এসব দপ্তরে; কর্মকর্তা: ১৪২ জন, কর্মচারী: ১,১৮৩ জন। মোট সরকারি কর্মী: ১,৩২৫ জন
কর্মরত রয়েছেন।
এটি লামার প্রশাসনিক গুরুত্বের একটি সমসাময়িক সূচক হিসেবে ব্রসিয়ারে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এটিকে “জেলা ঘোষণার আইনগত প্রমাণ” হিসেবে নয়, জেলা-উপযোগী প্রশাসনিক অবকাঠামোর বর্তমান বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত।
১৪. সরকারি নথি বনাম সংবাদ প্রতিবেদন: প্রমাণের শ্রেণিবিন্যাস বিষয় প্রমাণের অবস্থা।
লামার ঐতিহাসিক মহকুমা মর্যাদা সরকারি সূত্রে সমর্থিত; ১৯৭৯ সালের লামা মহকুমা পুনর্গঠন সরকারি সূত্রে সমর্থিত ১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা গঠন সরকারি সূত্রে নিশ্চিত;
১৯৮২–৮৪ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত; মহকুমাগুলোকে জেলা করা সরকারি জেলা-ইতিহাসে ব্যাপকভাবে নিশ্চিত।
১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণা সংবাদ/স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে দাবি;
লামা জেলা ৩ দিন কার্যকর NTV/NewsBangla-তে প্রশাসন-সূত্রে প্রকাশিত
লামা জেলা ২১ দিন কার্যকর ২০২৬ গোলটেবিল বক্তাদের বক্তব্য, জেলা স্থগিতের নির্বাহী আদেশ মূল নথি এখনো উদ্ধার প্রয়োজন।
স্থগিতের কারণ, মূল সরকারি নথি প্রয়োজন
লামাকে পুনরায় উপজেলা করা বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতা; মূল আদেশ সংগ্রহ প্রয়োজন।
১৫. ১৯৮৩ সালের মূল গেজেট কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
ক. লামা জেলা ঘোষণার গেজেট
প্রয়োজন। প্রজ্ঞাপন নম্বর, তারিখ, জারি কর্তৃপক্ষ, কার্যকর হওয়ার তারিখ, জেলার সীমানা, অন্তর্ভুক্ত থানা/উপজেলা, জেলা সদর
জেলা প্রশাসকের পদ সৃষ্টি/নিয়োগ
অন্যান্য জেলা অফিস সৃষ্টির নির্দেশ।
খ. স্থগিতাদেশ প্রয়োজন, স্থগিতাদেশের তারিখ,
আদেশ নম্বর, কে আদেশ দিয়েছেন
কেন স্থগিত করা হয়েছে, লামার পরিবর্তে বান্দরবানকে কীভাবে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
গ. পরবর্তী উপজেলা আদেশ।
প্রয়োজন: লামাকে উপজেলা করার আদেশ
কার্যকর হওয়ার তারিখ, সীমানা, অধীনস্থ ইউনিয়ন, সংশ্লিষ্ট থানা প্রশাসনের আদেশ।
১৬. ১৯৮৩ সালের লামা জেলা ঘোষণার প্রমাণ উদ্ধারের সম্ভাব্য সরকারি উৎস;
এই অনুসন্ধানে নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও NICAR-সংক্রান্ত পুরোনো নথি।
২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জেলা/মহকুমা/উপজেলা সৃষ্টি ও পুনর্গঠন সংক্রান্ত আদেশ।
৩. বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়,
১৯৮৩–১৯৮৪ সালের বাংলাদেশ গেজেট।
৪. জাতীয় আর্কাইভস
পুরোনো প্রশাসনিক ফাইল, প্রজ্ঞাপন ও সরকারি নথি।
৫. বান্দরবান জেলা প্রশাসন
লামা–বান্দরবান প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত পুরোনো নথি।
৬. রাঙামাটি জেলা প্রশাসন
১৯৮১ সালের পূর্ববর্তী বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের নথি।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
পার্বত্য জেলা প্রশাসনিক ইতিহাস ও পুনর্বিন্যাসের দলিল।
১৭. ১৯৮৩ সালের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্ভাব্য টাইমলাইন।
১৯৭০:
স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে লামা মহকুমা গঠনের দাবি।
১৯৭১:
সরকারি বান্দরবান জেলা ইতিহাস অনুযায়ী লামা থানা মহকুমায় উন্নীত।
১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ লামা মহকুমাসহ নতুন প্রশাসনিক পুনর্গঠন। ১৮ এপ্রিল ১৯৮১
বান্দরবান ও লামা মহকুমাকে নিয়ে বান্দরবান জেলা প্রতিষ্ঠা। ১৯৮২ এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি শুরু। ১৯৮৩
স্থানীয় প্রশাসনিক ও সংবাদসূত্র অনুযায়ী লামা জেলা ঘোষণার ঘটনা। ১৯৮৩/৮৪
লামা জেলা স্থগিত/বাতিল হওয়ার দাবি। ১৯৮৪
দেশের বিভিন্ন সাবেক মহকুমা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫ পার্বত্য রাঙ্গামাটি, পার্বত্য বান্দরবান ও পার্বত্য খাগড়াছড়ির নাম ও সীমানা নির্ধারণ।
১৮. একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রশ্ন
এই ইতিহাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে:
যদি ১৯৮৩ সালের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির সময় লামাকে জেলা ঘোষণা করার সরকারি প্রজ্ঞাপন সত্যিই জারি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীতে কোন সরকারি আদেশে, কোন তারিখে এবং কী কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছিল?
এ প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়—সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন, নোটশিট ও প্রশাসনিক ফাইলের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এটাই এখন লামা জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রশ্ন।
১৯. বর্তমান জেলা বাস্তবায়ন দাবির প্রশাসনিক ভিত্তি:
বর্তমান দাবিকে নিম্নোক্তভাবে সাজানো হলে তা সবচেয়ে শক্তিশালী হবে: ঐতিহাসিক ভিত্তি
লামা পূর্বে মহকুমা ছিল।
প্রশাসনিক ভিত্তি: লামা একটি বৃহৎ আঞ্চলিক প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
পুনর্বিন্যাসের ভিত্তি: এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে মহকুমাগুলো জেলা হয়েছে। নথিগত দাবি ১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণার সরকারি প্রজ্ঞাপন ছিল—এমন তথ্য প্রশাসন-সূত্র ও সংবাদে প্রকাশিত।
বর্তমান প্রয়োজন:
জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, যোগাযোগ, কৃষি, শিল্প, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক চাহিদা।
জনস্বার্থ: প্রশাসনিক সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
২০. প্রতিবেদনে ব্যবহারযোগ্য সংবাদসূত্র
এই অনুসন্ধানে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ/প্রকাশনা:
দৈনিক ইত্তেফাক: ১৯৮২–৮৩ সালে লামাকে পূর্ণাঙ্গ জেলা ঘোষণা এবং পরে জেলা স্থাপনের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে।
NTV Online: উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে ১৯৮৩ সালের জেলা ঘোষণা এবং তিন দিন কার্যকর থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে; একই প্রতিবেদনে লামায় ৩৩টি সরকারি দপ্তর ও ১,৩২৫ সরকারি কর্মীর তথ্য রয়েছে।
NewsBangla24: উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে ১৯৮৩ সালের জেলা ঘোষণার তথ্য এবং তিন দিন স্থায়ী হওয়ার দাবি প্রকাশ করেছে।
খুলনা টাইমস: ২৭ আগস্ট ২০২৬-এর গোলটেবিল বৈঠকের বক্তাদের বক্তব্যে ২১ দিন জেলা থাকার এবং পরে নির্বাহী আদেশে স্থগিত হওয়ার দাবি প্রকাশ করেছে।
কালেকের সমাজ: একই গোলটেবিল বৈঠক ও ২১ দিনের দাবির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গিরিদর্পণ: পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে ১৯৮৩ সালের জেলা ঘোষণাকে তিন দিন স্থায়ী হওয়ার দাবি হিসেবে প্রকাশ করেছে।
২১. চূড়ান্ত ঐতিহাসিক মূল্যায়ন উপলব্ধ সরকারি ও প্রকাশিত সংবাদসূত্র পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বলা যায়:
এক. লামার পূর্বতন মহকুমা মর্যাদা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত।
দুই. ১৯৭৯ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠনে লামা মহকুমা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল।
তিন. ১৮ এপ্রিল ১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে লামা মহকুমা ছিল অন্যতম প্রশাসনিক ভিত্তি।
চার. এরশাদ সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচিতে দেশের বহু মহকুমা ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এটি সরকারি জেলা ইতিহাসগুলোতে সুস্পষ্ট।
পাঁচ. ১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল—এমন তথ্য NTV, NewsBangla, ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
ছয়. জেলা ঘোষণার কার্যকারিতার সময় নিয়ে ৩ দিন ও ২১ দিনের দুই ধরনের তথ্য রয়েছে।
সাত. জেলা স্থগিত/বাতিলের মূল সরকারি আদেশ এখনো প্রকাশ্য সরকারি উৎসে শনাক্ত করা যায়নি।
আট. অতএব, লামা জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ হলো ১৯৮৩ সালের মূল গেজেট এবং পরবর্তী স্থগিতাদেশ উদ্ধার করা।
২২. ডসিয়ারের জন্য প্রস্তাবিত সরকারি সিদ্ধান্ত
এই ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের কাছে নিম্নোক্ত আবেদন যুক্তিযুক্ত:
“১৯৮৩ সালে লামা মহকুমাকে জেলা হিসেবে ঘোষণার দাবিসংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন, পরবর্তী স্থগিতাদেশ/বাতিলাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় ও জাতীয় আর্কাইভ থেকে অনুসন্ধান ও যাচাই করা হোক। নথি পাওয়া গেলে তার সত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশ করা হোক এবং ঐতিহাসিক জেলা-ঘোষণার প্রশাসনিক অবস্থান নির্ধারণ করা হোক।”
এরপর প্রয়োজন:
“লামার বর্তমান জনসংখ্যা, আয়তন, যোগাযোগ, অর্থনীতি, রাজস্ব, প্রশাসনিক অবকাঠামো, পার্শ্ববর্তী এলাকার সঙ্গে ভৌগোলিক সংযোগ এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে লামাকে পুনরায় পৃথক প্রশাসনিক জেলা হিসেবে গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হোক।”
২৩. প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার
লামা জেলা বাস্তবায়নের দাবি শুধু একটি নতুন জেলা চাওয়ার দাবি নয়।
এটি তিনটি স্তরের দাবি;
ঐতিহাসিক দাবি লামা পূর্বে একটি স্বতন্ত্র মহকুমা ছিল।
নথিগত দাবি:
১৯৮৩ সালে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল, এমন প্রশাসনিক ও সংবাদসূত্রভিত্তিক তথ্য রয়েছে।
বর্তমান জনস্বার্থের দাবি:
বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতায় লামাকে কেন্দ্র করে পৃথক জেলা গঠনের সম্ভাব্যতা নতুন করে যাচাই করা হোক।
তাই সরকারের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান হবে:
“লামাকে জেলা ঘোষণা করতেই হবে”—এর পাশাপাশি নয়, বরং প্রথমে, “১৯৮৩ সালের লামা জেলা ঘোষণার সরকারি নথি উদ্ধার, যাচাই ও প্রকাশ করা হোক; পরবর্তীতে বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে লামাকে পৃথক জেলা করার পূর্ণাঙ্গ সরকারি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হোক।”
এতে দাবিটি ঐতিহাসিক + নথিভিত্তিক + প্রশাসনিক + জনস্বার্থভিত্তিক, চারটি ভিত্তি পাবে। উৎসের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা
আমি ইচ্ছাকৃতভাবে “১৯৮৩ সালের লামা জেলা ঘোষণার গেজেট আমি পেয়েছি” এমন দাবি করছি না। বর্তমান ওয়েব অনুসন্ধানে সরকারি ওয়েবসাইটে মূল গেজেটের স্ক্যান কপি পাওয়া যায়নি। বরং সরকারি জেলা-ইতিহাস ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দিয়ে দাবিটির অস্তিত্ব যাচাই করা গেছে। মূল গেজেট ও স্থগিতাদেশ উদ্ধার হলেই এই অধ্যায়টি চূড়ান্ত সরকারি-নথি অধ্যায়ে উন্নীত করা যাবে।
এম. রুহুল আমিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী 




















