Lama ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে ২০ প্রতিবন্ধী পেল নগদ আর্থিক সহায়তা

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ২০ জন প্রতিবন্ধী ও দুস্থ ব্যক্তিকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও দুটি করে সাবান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিধি উপপরিদর্শক তৌফিক হোসেন, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক উসাইনখিং মারমা, রোয়াহ্ ক্যং প্রকল্পের সমন্বয়ক বিদ্যা পূর্ণ চাকমা ও তত্ত্বাবধায়ক হালিরাম ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। যথাযথ আর্থিক সহায়তা পেলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংবাদদাতা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

তারা আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত কেউ যেন সহায়তার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পাওয়া সহায়তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উপকারভোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

খাদ্যসহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার তেল দেওয়া হয়। পরে নির্বাচিত প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে নগদ অর্থ ও দুই হাজার ৫শত টাকা দুইটি করে সাবান সহায়তা তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২ লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ছয় বছরের এক শিশুকে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলো ইসলামপুরের আতিক্কা পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) ও নুরুল আমিন বৈদ্দরের ছেলে নাজিমুল ইসলাম (১২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে শিশুটির মা তাকে পাশের একটি বাসায় রেখে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেকে আনতে যান। এ সময় শিশুটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তখন ওই দুই কিশোর তাকে খেলা থেকে ডেকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন। অভিযুক্তদের বয়স ১২ ও ১৪ বছর হওয়ায় প্রকাশের আগে বয়স ও ঘটনার বিবরণ পুলিশের কাছ থেকে পুনরায় যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংবাদে ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করুন।

Bandarban Tribune

থানচিতে ২০ প্রতিবন্ধী পেল নগদ আর্থিক সহায়তা

Update Time : ০৬:০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ২০ জন প্রতিবন্ধী ও দুস্থ ব্যক্তিকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও দুটি করে সাবান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিনিধি উপপরিদর্শক তৌফিক হোসেন, থানচি প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারভাইজার মো. আমীর হোসেন, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক উসাইনখিং মারমা, রোয়াহ্ ক্যং প্রকল্পের সমন্বয়ক বিদ্যা পূর্ণ চাকমা ও তত্ত্বাবধায়ক হালিরাম ত্রিপুরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, “দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে। যথাযথ আর্থিক সহায়তা পেলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংবাদদাতা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

তারা আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত কেউ যেন সহায়তার আওতা থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি পাওয়া সহায়তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য উপকারভোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

খাদ্যসহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার তেল দেওয়া হয়। পরে নির্বাচিত প্রতিবন্ধী, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের হাতে নগদ অর্থ ও দুই হাজার ৫শত টাকা দুইটি করে সাবান সহায়তা তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।