Lama ০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় কমেেছে, সংকটে পড়েছে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো

ভারতের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়িক অঞ্চল যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল; ঠিক তখনই নেমে এলো আরেক বড় আঘাত। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বোর্ডিং হাউসে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই আকস্মিক ঘটনার প্রভাবে কলকাতায় অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকেও নতুন পর্যটকদের আগমন সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:

১৮ আগস্ট রাত ১:৪০ মিনিট ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘শিখা ইন’ নামে একটি বোর্ডিং হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিস মন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বৈধ পরিচালন পারমিট বা ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কলকাতার পৌরসভা (কেএমসি) পুরো শহরের বোর্ডিং হাউসগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনায় একটি ৫ সদস্যের তদন্ত দল গঠন করেছে। পলাতক ভবন মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধান পেতে কলকাতা পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক ও দ্রুত ফেরার তাগিদ:

অগ্নিকাণ্ডের খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরপরই স্বজনদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, স্যাডার স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার টিকিট কাটার আবেদন অনেক বেড়ে গেছে।

পাবনার ব্যবসায়ী মোঃ খুরশীদ আলম বলেন, আগুনের খবর এবং বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবার থেকে দ্রুত ফিরতে বলা হচ্ছে। কাজ শেষ করে দ্রুতই রওনা দিব।

ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার বলেন, এলাকার হোটেলগুলোতে প্রশাসনিক অভিযানের কারণে যাতে কোনো হেনস্তার শিকার না হতে হয়, তাই আপাতত ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায় ধস:

কলকাতা সংলগ্ন এই অঞ্চলটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। করোনা মহামারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ধাক্কায় যেখানে দৈনিক বাংলাদেশি পর্যটক আগমন ৮ হাজার থেকে কমে মাত্র ১ হাজারে নেমে এসেছিল। গত জুলাই মাসে ভিসা সহজীকরণের পর ব্যবসায় কিছুটা গতি ফিরতে শুরু করেছিল।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় কমেেছে, সংকটে পড়েছে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো

Update Time : ০৫:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়িক অঞ্চল যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল; ঠিক তখনই নেমে এলো আরেক বড় আঘাত। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বোর্ডিং হাউসে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই আকস্মিক ঘটনার প্রভাবে কলকাতায় অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকেও নতুন পর্যটকদের আগমন সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:

১৮ আগস্ট রাত ১:৪০ মিনিট ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘শিখা ইন’ নামে একটি বোর্ডিং হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিস মন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বৈধ পরিচালন পারমিট বা ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।

ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। কলকাতার পৌরসভা (কেএমসি) পুরো শহরের বোর্ডিং হাউসগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনায় একটি ৫ সদস্যের তদন্ত দল গঠন করেছে। পলাতক ভবন মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধান পেতে কলকাতা পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।

পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক ও দ্রুত ফেরার তাগিদ:

অগ্নিকাণ্ডের খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরপরই স্বজনদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, স্যাডার স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার ট্রাভেল এজেন্টরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার টিকিট কাটার আবেদন অনেক বেড়ে গেছে।

পাবনার ব্যবসায়ী মোঃ খুরশীদ আলম বলেন, আগুনের খবর এবং বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে পরিবার থেকে দ্রুত ফিরতে বলা হচ্ছে। কাজ শেষ করে দ্রুতই রওনা দিব।

ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার বলেন, এলাকার হোটেলগুলোতে প্রশাসনিক অভিযানের কারণে যাতে কোনো হেনস্তার শিকার না হতে হয়, তাই আপাতত ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায় ধস:

কলকাতা সংলগ্ন এই অঞ্চলটি ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। করোনা মহামারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ধাক্কায় যেখানে দৈনিক বাংলাদেশি পর্যটক আগমন ৮ হাজার থেকে কমে মাত্র ১ হাজারে নেমে এসেছিল। গত জুলাই মাসে ভিসা সহজীকরণের পর ব্যবসায় কিছুটা গতি ফিরতে শুরু করেছিল।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।