
নতুন কণ্ঠশিল্পীদের দক্ষতা বিকাশ ও সংগীতজ্ঞান সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর গ্রুমিং সেশন। এতে প্রতিযোগীদের শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচিক উপস্থাপনা এবং ব্যান্ডের গানের ধরন ও পরিবেশনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটের গ্যালারি হলে এ গ্রুমিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও বাচিকশিল্পী ফারুক তাহের। তিনি প্রতিযোগীদের শুদ্ধ উচ্চারণ, শব্দের স্পষ্টতা, কণ্ঠের ব্যবহার এবং গানের পাশাপাশি বাচিক উপস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

এছাড়া ‘ফিডব্যাক’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট রায়হান আল হাসান ব্যান্ডের গান, ব্যান্ড সংগীতের বৈশিষ্ট্য, গানের পরিবেশনা ও ভোকাল পারফরম্যান্সের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ দেন।
গ্রুমিং সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন বারৈয়হাট পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংগীতশিল্পী প্রকৌশলী সমর মজুমদার।
‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর আহ্বায়ক এস. এম. শাজাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম চন্দ বাপ্পি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার সভাপতি হিল্লোল রায়, সাবেক সভাপতি লায়ন প্রবীর দত্ত, ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর সদস্য সচিব রুবেল বড়ুয়া, যন্ত্রশিল্পী সংস্থার অর্থ সম্পাদক পিযুয সেন, সংগঠনের সদস্য ও কাপ্তাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্তসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
এর আগে গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর উদ্বোধনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
কালজয়ী বাংলা আধুনিক গান, লোকসংগীত ও আঞ্চলিক গানসহ বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করে শতাধিক প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। বিচারকদের কঠোর বাছাই শেষে প্রথম রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে ৪২ জন প্রতিযোগী ‘ইয়েস কার্ড’ অর্জন করেন এবং পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পান।
বিজ্ঞাপন

আয়োজকরা জানান, ‘ভয়েস হান্ট’-এর উদ্দেশ্য শুধু একজন সেরা কণ্ঠশিল্পী নির্বাচন করা নয়; বরং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করে ধারাবাহিক গ্রুমিং ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
আজকের গ্রুমিং সেশনে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা বলেন, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উচ্চারণ, কণ্ঠের ব্যবহার এবং ব্যান্ডের গানের পরিবেশনা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম যন্ত্রশিল্পী সংস্থার নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গ্রুমিংয়ের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনের জন্য প্রস্তুত করে তোলাই ‘ভয়েস হান্ট সিজন-৩’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এ ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের মধ্যে থেকে আগামীর সম্ভাবনাময় কণ্ঠশিল্পী উঠে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঝুলন দত্ত: সিনিয়র রিপোর্টার কাপ্তাই রাঙ্গামটি 




















