Lama ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাপ বধ করতে বাংলাদেশি বেজি নিয়ে একবার বিপদে পড়েছিল জাপান

জাপানে বিষধর সাপের উৎপাত কমাতে সে দেশের আমামি ওশিমা দ্বীপে একবার কর্তৃপক্ষ বেজি ছেড়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সাপ বধ বা নিধন। কিন্তু সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে। সাপের সংখ্যা কমার বদলে বেজির আক্রমণে বিপন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের বহু বিরল প্রাণী।

ওই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগ রয়েছে। ছোট ভারতীয় বেজি দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রাণী এবং বাংলাদেশও তাদের প্রাকৃতিক বিস্তারের মধ্যে রয়েছে।

১৯১০ সালে বর্তমান বাংলাদেশের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল থেকে কয়েকটি বেজি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানকার বংশবিস্তার করা বেজির মধ্য থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমামি ওশিমা দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরেই বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব ছিল। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলে এসব সাপের বিচরণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তাই সাপের সংখ্যা কমাতে প্রাকৃতিক উপায় বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ। সাপ শিকার করতে পারে; এমন ধারণা থেকেই বেজি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনায় বড় একটি ভুল ছিল। বেজি দিনের বেলায় বেশি সক্রিয়, আর হাবু সাপ মূলত রাতে শিকার করে। ফলে বেজি ও সাপের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল খুবই কম। সাপ রয়ে গেল আগের মতোই, আর বেজি খাবারের সন্ধানে অন্য প্রাণী শিকার করতে শুরু করল।

সাপ শিকার করতে না পেরে বেজি দ্বীপের স্থানীয় প্রাণীদের ওপর হামলা শুরু করে। আমামি ওশিমার অনেক প্রাণী দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো স্থলচর শিকারির মুখোমুখি হয়নি। ফলে নতুন এই শিকারির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধও ছিল দুর্বল।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

সাপ বধ করতে বাংলাদেশি বেজি নিয়ে একবার বিপদে পড়েছিল জাপান

Update Time : ০৭:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জাপানে বিষধর সাপের উৎপাত কমাতে সে দেশের আমামি ওশিমা দ্বীপে একবার কর্তৃপক্ষ বেজি ছেড়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সাপ বধ বা নিধন। কিন্তু সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে। সাপের সংখ্যা কমার বদলে বেজির আক্রমণে বিপন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের বহু বিরল প্রাণী।

ওই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগ রয়েছে। ছোট ভারতীয় বেজি দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রাণী এবং বাংলাদেশও তাদের প্রাকৃতিক বিস্তারের মধ্যে রয়েছে।

১৯১০ সালে বর্তমান বাংলাদেশের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল থেকে কয়েকটি বেজি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানকার বংশবিস্তার করা বেজির মধ্য থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমামি ওশিমা দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরেই বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব ছিল। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলে এসব সাপের বিচরণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তাই সাপের সংখ্যা কমাতে প্রাকৃতিক উপায় বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ। সাপ শিকার করতে পারে; এমন ধারণা থেকেই বেজি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনায় বড় একটি ভুল ছিল। বেজি দিনের বেলায় বেশি সক্রিয়, আর হাবু সাপ মূলত রাতে শিকার করে। ফলে বেজি ও সাপের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল খুবই কম। সাপ রয়ে গেল আগের মতোই, আর বেজি খাবারের সন্ধানে অন্য প্রাণী শিকার করতে শুরু করল।

সাপ শিকার করতে না পেরে বেজি দ্বীপের স্থানীয় প্রাণীদের ওপর হামলা শুরু করে। আমামি ওশিমার অনেক প্রাণী দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো স্থলচর শিকারির মুখোমুখি হয়নি। ফলে নতুন এই শিকারির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধও ছিল দুর্বল।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন