Lama ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আমরা তোমাদের ভুলবোনা..

মেজর জাহিদকে জঙ্গি সাজিয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ষোলটা গুলি করা হয়েছিল

মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা মরনোত্তর প্রমোশন প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জাহিদ তো মরে গিয়ে বেচে গেছেন। উনার স্ত্রী পারিবারিক, সামাজিক, মানসিক সবদিক থেকে এদের জন্য লাঞ্ছিত হয়েছেন।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মেজর জাহিদকে জঙ্গি সাজিয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ষোলটা গুলি করা হয়। তারপর ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে ব্রিগেডিয়ার জাহিদের স্ত্রীকে জেলে পাঠায় হাসিনা। উনার দুই মেয়ে, সেই সময়ে বড় মেয়ের বয়স ৭ এবং ছোটটা এক বছরের। ছোট মেয়েটা মিসেস জাহিদের সাথে জেলেই বড় হয়। জেলে যখন মাকে দেখতে যেত বড় মেয়ে শুধু কান্নাকাটি করতো। বড় মেয়ে মামার বাসায় বড় হতে থাকে।

২০২০ সালে সেপ্টেম্বরে মিসেস জাহিদ জামিন পায়। জামিন পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ডিবি অফিসে মিসেস জাহিদকে ডাকা হয়। সেখানে আমেনা মহসিন এবং একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক (আই আর এর নামটা কনফার্ম করতে হবে) মিসেস জাহিদকে নানা রকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। আপনার কখন থেকে এই পরিবর্তন। আপনি কখন থেকে হিজাব শুরু করেছেন। আপনার হাজব্যান্ড কি আগে থেকে এমনই ছিল? এর কিছুদিন পর হঠাৎ করে আদালতে হিয়ারিং হয় এবং মিসেস জাহিদের জামিন বাতিল হয়। জামিন বাতিল হওয়া শুনে মিসেস জাহিদের মা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বছরখানেকের মধ্যে মিসেস জাহিদকে আবার জেলে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে মিসেস জাহিদ যখন জেলে তখন উনার মা মারা যায়। জেলে থাকার কারণে উনি উনার বাবা, মাকে শেষবারের মতো দেখতে যেতে পারেননি।

২০২০ সালে মিসেস জাহিদের বাবা মারা যায়। মেজর জাহিদ মারা যাওয়া কিছুদিন পরে উনার বাবা মা ও ছেলের শোকে মারা যায়।

হাসিনার আমলে কত কষ্টের এতো যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে এক একটা পরিবার জীবন যাপন করেছে। সব কিছু শেষ হয়ে গেছে এই পরিবারটার।

আমরা মনে করি আমরা অনেক ত্যাগ করেছি। এই পরিবারের কষ্ট যন্ত্রণা আর ত্যাগের কাছে আমাদের লড়াই কিছু না।

মেজর জাহিদের খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের ক্ষমা নাই।

ব্রিগেডিয়ার জাহিদকে সৃষ্টিকর্তা শহীদ হিসাবে কবুল করুন।

[সূত্র: লেখক গবেষক: পিনাকী ভট্টাচার্য এর কলাম]

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্টেশন স্কুল এন্ড কলেজে বিজ্ঞান ল্যাব উদ্বোধন

Bandarban Tribune

আমরা তোমাদের ভুলবোনা..

মেজর জাহিদকে জঙ্গি সাজিয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ষোলটা গুলি করা হয়েছিল

Update Time : ১১:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা মরনোত্তর প্রমোশন প্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জাহিদ তো মরে গিয়ে বেচে গেছেন। উনার স্ত্রী পারিবারিক, সামাজিক, মানসিক সবদিক থেকে এদের জন্য লাঞ্ছিত হয়েছেন।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মেজর জাহিদকে জঙ্গি সাজিয়ে হাতকড়া পড়া অবস্থায় ষোলটা গুলি করা হয়। তারপর ২০১৭ সালে জানুয়ারিতে ব্রিগেডিয়ার জাহিদের স্ত্রীকে জেলে পাঠায় হাসিনা। উনার দুই মেয়ে, সেই সময়ে বড় মেয়ের বয়স ৭ এবং ছোটটা এক বছরের। ছোট মেয়েটা মিসেস জাহিদের সাথে জেলেই বড় হয়। জেলে যখন মাকে দেখতে যেত বড় মেয়ে শুধু কান্নাকাটি করতো। বড় মেয়ে মামার বাসায় বড় হতে থাকে।

২০২০ সালে সেপ্টেম্বরে মিসেস জাহিদ জামিন পায়। জামিন পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ডিবি অফিসে মিসেস জাহিদকে ডাকা হয়। সেখানে আমেনা মহসিন এবং একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক (আই আর এর নামটা কনফার্ম করতে হবে) মিসেস জাহিদকে নানা রকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। আপনার কখন থেকে এই পরিবর্তন। আপনি কখন থেকে হিজাব শুরু করেছেন। আপনার হাজব্যান্ড কি আগে থেকে এমনই ছিল? এর কিছুদিন পর হঠাৎ করে আদালতে হিয়ারিং হয় এবং মিসেস জাহিদের জামিন বাতিল হয়। জামিন বাতিল হওয়া শুনে মিসেস জাহিদের মা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

বছরখানেকের মধ্যে মিসেস জাহিদকে আবার জেলে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে মিসেস জাহিদ যখন জেলে তখন উনার মা মারা যায়। জেলে থাকার কারণে উনি উনার বাবা, মাকে শেষবারের মতো দেখতে যেতে পারেননি।

২০২০ সালে মিসেস জাহিদের বাবা মারা যায়। মেজর জাহিদ মারা যাওয়া কিছুদিন পরে উনার বাবা মা ও ছেলের শোকে মারা যায়।

হাসিনার আমলে কত কষ্টের এতো যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে এক একটা পরিবার জীবন যাপন করেছে। সব কিছু শেষ হয়ে গেছে এই পরিবারটার।

আমরা মনে করি আমরা অনেক ত্যাগ করেছি। এই পরিবারের কষ্ট যন্ত্রণা আর ত্যাগের কাছে আমাদের লড়াই কিছু না।

মেজর জাহিদের খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের ক্ষমা নাই।

ব্রিগেডিয়ার জাহিদকে সৃষ্টিকর্তা শহীদ হিসাবে কবুল করুন।

[সূত্র: লেখক গবেষক: পিনাকী ভট্টাচার্য এর কলাম]