
বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি সরকার তৈরি করে দিবে
বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ী তৈরী করে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া ঘরবাড়ি সরকারি উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বান্দরবান শহরের বালাঘাটা আমবাগান এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিঁনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে পাঠিয়েছেন আমি সবকিছু দেখেছি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ী তৈরী তরে দেয়া হবে শুধু তাই নয় তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সে বিষয়ে সব ব্যবস্থা করবেন সরকার। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে আছে সরকার আপনাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, নদীতীরবর্তী এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক খাল, নদী ও পাহাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিঁনি।
প্রাকৃতিক জলাধার ও পাহাড় রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ দখল বরদাশত করা হবে না বলেও তিঁনি হুঁশিয়ারি দেন।
তিঁনি আরো বলেন, পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে যারা আছে তাদেরকে পুনবার্সনের জন্য একটা স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এর আগে মন্ত্রী গতকাল রাত সাড়ে ৭ টায় বান্দরবানের সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরী বৈঠক করেন। ওই সময় তিঁনি বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।
বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত টানা সাত দিনের অতিভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধ্বস ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বান্দরবানের সাত উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় অন্তত ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং অর্ধলক্ষাধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এই দুর্যোগে পাহাড়ধ্বসে দুই পরিবারের পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় মোট ৪৭টি ভূমিধ্বসের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১১টি ছিল বড় আকারের। পাহাড়ধ্বস ও গাছ উপড়ে পড়ায় ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডি ও স্থানীয় সরকারের আওতাধীন আরও ৯০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া চারটি ছোট-বড় সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সচল করা হলেও বাকি তিনটির সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে।
কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, জেলার ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং অন্তত ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় বান্দরবানের সাংসদ সাচিংপ্রু জেরী, সংরক্ষিত মহিলা এমপি এ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিয়া উদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম, সদর ইউএনও মারুফা সুলতানা হীরামনি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি, যুগ্ম সম্পাদক সাশৈপ্রু, মংশৈহ্লাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান ট্রিভিউন ডেস্ক: 




















