Lama ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পুরনে কোনো মহল এগিয়ে আসবে কি

বরকলে বন্যার পানি নেমেছে, রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন, ভানবাসিদের চোখেমুখে নিরাশার ছাপ

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পর তিন শতাধিক  বসতঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

রাঙামাটির পার্শ্ববর্তী বরকল উপজেলার দুর্গম ভুষনছড়া, কলাবুনিয়া, কুকিছড়া, এরাবুনিয়া ও সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাংয়ে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে গেলেও রেখে গেছে ধ্বংসস্তূপ। মানুষের দীর্ঘশ্বাসভরা প্রত্যাশা, কখন ঘুরে দাঁড়াবে আবার।

এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এলাকা, রাস্তাঘাট, কৃষকের ফসল ও বাজার এখন কাদামাটি, ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি, দোকানঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া মালামাল, ডুবে যাওয়া পেঁপে সহ ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যার তান্ডবের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

‎সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বরকল উপজেলার ভুষনছড়া, আইমাছড়া ইউনিয়নের  তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের ঘরবাড়ি,  দোকানে থাকা চাল, ডাল, তেল, কাপড়, ঔষুধ, ইলেক্ট্রনিকসহ নানা ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। অনেক দোকানের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।



‎শুধু বসতঘর নয়, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ফলজ বাগান ও মাছের ঘের। অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

‎কৃষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের পুঁজি কয়েক ঘণ্টার বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে বাগান করা অনেকেই এখন দিশেহারা। দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে নতুন করে  শুরু করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার কারণে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎বন্যার পানি নেমে গেলেও বরকলের  মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন; এত বড় ক্ষতির পর আদৌ কি তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন? নাকি সবকিছু আবারও নিজেদের কাঁধেই বহন করতে হবে?

‎স্থানীয় একাধিক কৃষক  বলেন, বন্যার পানিতে ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা  প্রায় সব  নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন।”
‎একজন ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর  বলেন, পানি চলে গেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট যায়নি। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়েছে।কাজকর্ম নাই। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে।  সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।”

‎উপজেলা বি এনপির  সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক  বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরইতা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

প্রশাসনের আশা, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

‎বরকল  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ  বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২ লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ছয় বছরের এক শিশুকে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলো ইসলামপুরের আতিক্কা পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) ও নুরুল আমিন বৈদ্দরের ছেলে নাজিমুল ইসলাম (১২)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে শিশুটির মা তাকে পাশের একটি বাসায় রেখে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেকে আনতে যান। এ সময় শিশুটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তখন ওই দুই কিশোর তাকে খেলা থেকে ডেকে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: শিশুর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন। অভিযুক্তদের বয়স ১২ ও ১৪ বছর হওয়ায় প্রকাশের আগে বয়স ও ঘটনার বিবরণ পুলিশের কাছ থেকে পুনরায় যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে সংবাদে ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করুন।

Bandarban Tribune

আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পুরনে কোনো মহল এগিয়ে আসবে কি

বরকলে বন্যার পানি নেমেছে, রেখে গেছে ক্ষত চিহ্ন, ভানবাসিদের চোখেমুখে নিরাশার ছাপ

Update Time : ০৩:২৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পর তিন শতাধিক  বসতঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

রাঙামাটির পার্শ্ববর্তী বরকল উপজেলার দুর্গম ভুষনছড়া, কলাবুনিয়া, কুকিছড়া, এরাবুনিয়া ও সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাংয়ে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নেমে গেলেও রেখে গেছে ধ্বংসস্তূপ। মানুষের দীর্ঘশ্বাসভরা প্রত্যাশা, কখন ঘুরে দাঁড়াবে আবার।

এক সময়ের প্রাণচঞ্চল এলাকা, রাস্তাঘাট, কৃষকের ফসল ও বাজার এখন কাদামাটি, ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি, দোকানঘর, নষ্ট হয়ে যাওয়া মালামাল, ডুবে যাওয়া পেঁপে সহ ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা আর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যার তান্ডবের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

‎সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বরকল উপজেলার ভুষনছড়া, আইমাছড়া ইউনিয়নের  তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের ঘরবাড়ি,  দোকানে থাকা চাল, ডাল, তেল, কাপড়, ঔষুধ, ইলেক্ট্রনিকসহ নানা ধরনের পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। অনেক দোকানের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।



‎শুধু বসতঘর নয়, বন্যার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ফলজ বাগান ও মাছের ঘের। অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

‎কৃষকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের পুঁজি কয়েক ঘণ্টার বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঋণ নিয়ে বাগান করা অনেকেই এখন দিশেহারা। দ্রুত সরকারি ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে নতুন করে  শুরু করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার কারণে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‎বন্যার পানি নেমে গেলেও বরকলের  মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন; এত বড় ক্ষতির পর আদৌ কি তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন? নাকি সবকিছু আবারও নিজেদের কাঁধেই বহন করতে হবে?

‎স্থানীয় একাধিক কৃষক  বলেন, বন্যার পানিতে ফলজ বাগান ও ধানের বীজতলা  প্রায় সব  নষ্ট হয়ে গেছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি ক্ষতিপূরণ ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন।”
‎একজন ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর  বলেন, পানি চলে গেছে, কিন্তু আমাদের কষ্ট যায়নি। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়েছে।কাজকর্ম নাই। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে।  সরকার যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।”

‎উপজেলা বি এনপির  সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক  বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শিগগিরইতা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

প্রশাসনের আশা, তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন।

‎বরকল  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ  বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।