Lama ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলীকদম সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার করার দায়ে পরিষদের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১২ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারী হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় “বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন-এর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫ এ রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও রোহিঙ্গা নয় মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জাতীয়তা ও পরিচয় সংক্রান্ত ভুয়া ও অসংগতিপূর্ণ কাগজপত্র সৃজনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা প্রদান এবং এ মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে;

যেহেতু, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে;

সেহেতু, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত চেয়ারম্যান-কে স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

একই অপরাধে আলীকদম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য সন্তোষ দাশ, ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জাকের হোসেন ও ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মতিনকেও সাময়িক বহিস্কার আদেশ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদ্দিন বলেন, “আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার।” তিনি আরো বলেন, “ভোটার যাচাই-বাছাই উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সচিব নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়াও যাচাই-বাছাই কমিটিতে সরকারের আরো এজেন্সির সদস্যরা রয়েছে। একজন ভোটারের জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে যেসব ডকুমেন্টস প্রয়োজন; সেগুলো জনপ্রতিনিধিরা একা দিতে পারেন না। চুড়ান্তভাবে কোনো নাগরিককে ভোটার করার দলগত একটি পক্রিয়া বিদ্যমান।

প্রশাসনের লোকদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বারগন ইচ্ছে করলে কোনোভাবে রোহিঙ্গা নাগরিকদেরকে ভোটার করাতে পারেন না। ভোটার করার কাজটি যখন সমন্বিনত বা টিম ওয়ার্ক; তখন শুধু জনপ্রতিনিধিদের কেনো অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে (!!)। সুতরাং আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে; এই বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নিব।”

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

খাগড়াছড়িতে ৭৭৮ শিক্ষার্থী পেয়েছেন ৯২ লাখ টাকার বৃত্তি

Bandarban Tribune

আলীকদম সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার করার দায়ে পরিষদের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ

Update Time : ১২:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১২ জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারী হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় “বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন-এর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫ এ রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যে ভুয়া নাগরিক সনদ ও রোহিঙ্গা নয় মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, জাতীয়তা ও পরিচয় সংক্রান্ত ভুয়া ও অসংগতিপূর্ণ কাগজপত্র সৃজনে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা, অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা প্রদান এবং এ মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে;

যেহেতু, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে;

সেহেতু, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাধীন ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত চেয়ারম্যান-কে স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

একই অপরাধে আলীকদম ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য সন্তোষ দাশ, ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জাকের হোসেন ও ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মতিনকেও সাময়িক বহিস্কার আদেশ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদ্দিন বলেন, “আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার।” তিনি আরো বলেন, “ভোটার যাচাই-বাছাই উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সচিব নির্বাচন কর্মকর্তা। এছাড়াও যাচাই-বাছাই কমিটিতে সরকারের আরো এজেন্সির সদস্যরা রয়েছে। একজন ভোটারের জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে যেসব ডকুমেন্টস প্রয়োজন; সেগুলো জনপ্রতিনিধিরা একা দিতে পারেন না। চুড়ান্তভাবে কোনো নাগরিককে ভোটার করার দলগত একটি পক্রিয়া বিদ্যমান।

প্রশাসনের লোকদের বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান মেম্বারগন ইচ্ছে করলে কোনোভাবে রোহিঙ্গা নাগরিকদেরকে ভোটার করাতে পারেন না। ভোটার করার কাজটি যখন সমন্বিনত বা টিম ওয়ার্ক; তখন শুধু জনপ্রতিনিধিদের কেনো অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে (!!)। সুতরাং আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে; এই বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নিব।”