
মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা:
বাংলাদেশের বিকাশশীল বাস্তবতা’
১. বাংলাদেশে জাতির অবস্থা
অনুলিখন: পর্ব-১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৯৪৮ সনে প্রকাশিত History of Bengal গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের শেষ অধ্যায়ে যদুনাথ সরকার বাংলা-বিহার-ওড়িষ্যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ও ক্ষমতা দখলের সময়কার অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে
যেসব কথা লিখেছেন তার একটি অংশের বাংলা করলে এই দাঁড়ায় :
‘ক্লাইভ যখন নবাবের উপর আঘাত হানে তখন দেখা যায় মোগল সভ্যতা তার সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। ভালো কিছু করার সামর্থ্য তখন তার আর নেই এবং তার অস্তিত্ব নিষ্প্রাণ। দেশের প্রশাসন-ব্যবস্থা তখন নৈরাশ্যজনক ভাবে অসৎ ও অকর্মণ্য এবং দেশের জনগণ একটি সঙ্কীর্ণচেতা, স্বার্থপর, উদ্ধত ও অথর্ব শাসক-শ্রেণী দ্বারা চরম দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও নৈতিক অধঃপতনে নিক্ষিপ্ত। জড়বুদ্ধি লম্পটেরা তখন সিংহাসনে বসেছে; আলিবর্দির পরিবার মানুষ নামের যোগ্য কোনো পুত্র জন্ম দিতে পারেনি, আর সে পরিবারের মেয়েরা ছিল পুরুষদের চেয়েও বেশি অধঃপতিত। ধর্ষকামী সিরাজ ও মিরনের অত্যাচারে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রজারাও সর্বদা সন্ত্রাসের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। সেনাবাহিনী বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে হতে একেবারে অকেজো ও ঝাঁঝরা হয়ে পড়েছিল। রাজদরবার ও অভিজাত শ্রেণীর বিপুল অনাচার ও লাম্পট্যের ফলে সাধারণ পারিবারিক জীবনের পবিত্রতা হয়েছিল বিপন্ন এবং রাজদরবার ও অভিজাতবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত ইন্দ্রিয়-উদ্দীপক সাহিত্য তাতে যুগিয়েছিল ইন্ধন। ধর্ম তখন পরিণত হয়েছিল সর্বপ্রকার পাপ ও অনাচারের রক্ষাকবচে।
ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে যদুনাথ সরকারের এই উক্তির যাথার্থ্য বিচার করতে গেলে স্বীকার করতে হয় যে, সাম্রাজ্য-লোলুপ ব্রিটিশ বেনিয়ারা ভারতবর্ষ দখল করে নিয়েছিল-একথা বলে, ভারতবর্ষের পরাধীনতার কারণ কেবল ব্রিটিশ বেনিয়াদের ক্ষমতালিপ্সা ও সম্পত্তিলিপ্সার উপর চাপিয়ে, যে ইতিহাস রচনা করা হয় তাতে সত্যের অপলাপ হয়।
চলবে———
সূত্র: সাহিত্য চিন্তা: আবুল কাসেম ফজলুল হক।
Reporter Name 




















