
আনোয়ারা সংবাদদাতা:-
২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও পুরোদমে সক্রিয় হচ্ছে আনোয়ারার উপকূলীয় পুরনো মাদক কারবারিরা। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত বছর দু’য়েক ধরে নিরবে এসব মাদক কারবার পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও অনেকটা ওপেন হয়ে ওঠেছে এই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিরা।
বিভিন্ন বাহিনী এবং প্রশাসনের তথ্য মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকটা থমকে যায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান। তার বিপরীতে র্যাব ও সেনাবাহিনীর একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২৪ এর ৩ ডিসেম্বর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া থেকে ৪কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এসময় মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২৫) ও মো. আবু হানিফ (২২) নামের ২ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছরের ১৭ জুলাই আনোয়ারা উপজেলার রায়পুরের দক্ষিণ পরুয়াপাড়ার আনোয়ার মাঝির বাড়ি থেকে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ইয়াবাসহ মনোয়ারা বেগম নামের এক নারীকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭, পতেঙ্গা ক্যাম্পের একটি দল। গত ১৭ নভেম্বর উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় ২হাজার ৯৫০পিস ইয়াবাসহ মোঃ ইব্রাহিম (২৫)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১৯ জানুয়ারি ৯৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ হাজার ৯২৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব।
অনুসন্ধানে উঠে আসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমানা থেকে নাছ ধরার ট্রলারে করে ইয়াবা এনে খালাস করা হয় আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে। যার মধ্যে পারকি, ফুলতল, গহিরা, প্যারাবন, ভরাচর অন্যতম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় আনোয়ারার উপকূলীয় বেল্টের জুঁইদণ্ডী, রায়পুর ও বারশতের আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মাদক কারবার পরিচালিত হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রীয় রাজনৈতিক দলগুলোর চত্রছায়ায় এসব মাদক ব্যবসায়ীরা আবারও সক্রীয় হয়ে উঠছে। এদিকে মাদকের প্রতিবাদ এবং তথ্যপাচারের অভিযোগ তুলে স্থানীয়দের উপর মাদক কারবারিদের হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “মাদককারবারিরা সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান ও আনোয়ারায় মাদকের ট্রানজিটের বিষয়ে র্যাব-৭ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এআরএম মোজাফফর হোসেন বলেন, আনোয়ারা মাদক নির্মূলে র্যাব খুবই তৎপর থাকে। বিশেষ করে সাগরপথে ইয়াবা খালাস হয়ে আনোয়ারার বিভিন্ন রোড ব্যবহার হয়। আমরা ইয়াবা নির্মূলে একদম কঠোর অবস্থানে আছি। এর মধ্যে আমাদের বড় বড় অভিযান ছিল। ফলে কারবারি গডফাদাররা অনেকটা এলাকা ছাড়া আছে।
Reporter Name 




















