Lama ১১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাই উপজেলায় কোরবানি উৎসব ঘরে ঘরে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ৪০ Time View

মিরসরাই সংবাদদাতা:-

চট্টগ্রামের মিরসরাই এবারের কোরবানি উৎসব জমজমাট। এলাকার সব বাড়ির লোকজন মহাব্যস্ত। সব বাড়িতে চলছে কোরবানি উৎসব। কেউ গরু, কেউ ছাগল, কেউবা মহিষ কোরবানি দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সারাদেশের তথা মুসলিম বিশ্বের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও হয়েছে  পশু কোরবানি। সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮) সকালে ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার ২১০টি গ্রামে শুরু হয় পশু কোরবানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্যাগের মহিমায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি করছেন মুসলমানরা। কেউ কোরবানি দিচ্ছেন বাড়ির ভেতর, কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউ রাস্তায় থাকা নির্ধারিত স্থানে। কোরবানির কসাইরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। চামড়া ছাড়িয়ে গোশত কাটার কাজ করছেন তারা।

জানা গেছে, কোরবানিকে ঘিরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কসাইয়ের মজুরি এবার বেশ চড়া। অনেকেই অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও কসাই পাচ্ছেন না, ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেরাই স্বজনদের নিয়ে পশু কোরবানির কাজ করছেন।

ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মহি উদ্দিন বলেন, ‘মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দিচ্ছি। আল্লাহপাক তৌফিক দিয়েছেন তাই প্রতিবারের মতো এবারও পশু কোরবানি দেয়া হয়।’

মিরসরাই পৌর সদরের বাসিন্দা এমরান  হুসাইন বলেন, ‘শুধু কোরবানি দিলে হবে না। কোরবানির পশুর সাথে যেন মনের পশুত্বও কোরবানি দেয়া হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত  প্রবাসী আনোয়ার  হোসেন বলেন, প্রবাসে থাকার কারণে বাড়িতে সব সময় থাকতে পারিনা। এবার কোরবানি দিতে বাড়িতে এসেছি। কোরবানি দিয়ে সব কাজ নিজেই করছি, আনন্দ পাচ্ছি।

ওচমানপুর এলাকার বাসিন্দা বদর  উদ্দিন কামরান  বলেন, ‘আমি সাধারণত মহিষ দিয়েই কোরবানি দিয়ে থাকি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কাটাকাটি শেষ হলে আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চড়া মজুরি চাচ্ছেন অভিজ্ঞ কসাইরা। অনেকে চড়া মজুরি দিয়েও কসাই পাননি। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই মৌসুমি কসাই দিয়ে চামড়া ছাড়ানোর কাজ করাচ্ছেন। অনেক কোরবানিদাতাই এবার কসাইয়ের অভাবে কোরবানি দেবেন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিন।

দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনার বাসিন্দা মো: শাহজাহান বলেন, ‘বছরে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরবানি করে থাকি। গরু জবাই থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করে থাকি। অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়।’

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ বলেন, ‘এবার উপজেলাজুড়ে ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ৬০ হাজার ৩০০ পশু প্রস্তুত ছিল। খামারিরা অন্য বছরের তুলনায় পশুর দামও ভালো পেয়েছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Bandarban Tribune

মিরসরাই উপজেলায় কোরবানি উৎসব ঘরে ঘরে

Update Time : ১১:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মিরসরাই সংবাদদাতা:-

চট্টগ্রামের মিরসরাই এবারের কোরবানি উৎসব জমজমাট। এলাকার সব বাড়ির লোকজন মহাব্যস্ত। সব বাড়িতে চলছে কোরবানি উৎসব। কেউ গরু, কেউ ছাগল, কেউবা মহিষ কোরবানি দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সারাদেশের তথা মুসলিম বিশ্বের মতো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েও হয়েছে  পশু কোরবানি। সামর্থ্য অনুযায়ী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮) সকালে ঈদুল আজহার নামাজের পরপরই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার ২১০টি গ্রামে শুরু হয় পশু কোরবানি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্যাগের মহিমায় যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পশু কোরবানি করছেন মুসলমানরা। কেউ কোরবানি দিচ্ছেন বাড়ির ভেতর, কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউ রাস্তায় থাকা নির্ধারিত স্থানে। কোরবানির কসাইরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। চামড়া ছাড়িয়ে গোশত কাটার কাজ করছেন তারা।

জানা গেছে, কোরবানিকে ঘিরে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কসাইয়ের মজুরি এবার বেশ চড়া। অনেকেই অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও কসাই পাচ্ছেন না, ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে নিজেরাই স্বজনদের নিয়ে পশু কোরবানির কাজ করছেন।

ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা মহি উদ্দিন বলেন, ‘মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি দিচ্ছি। আল্লাহপাক তৌফিক দিয়েছেন তাই প্রতিবারের মতো এবারও পশু কোরবানি দেয়া হয়।’

মিরসরাই পৌর সদরের বাসিন্দা এমরান  হুসাইন বলেন, ‘শুধু কোরবানি দিলে হবে না। কোরবানির পশুর সাথে যেন মনের পশুত্বও কোরবানি দেয়া হয়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত  প্রবাসী আনোয়ার  হোসেন বলেন, প্রবাসে থাকার কারণে বাড়িতে সব সময় থাকতে পারিনা। এবার কোরবানি দিতে বাড়িতে এসেছি। কোরবানি দিয়ে সব কাজ নিজেই করছি, আনন্দ পাচ্ছি।

ওচমানপুর এলাকার বাসিন্দা বদর  উদ্দিন কামরান  বলেন, ‘আমি সাধারণত মহিষ দিয়েই কোরবানি দিয়ে থাকি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কাটাকাটি শেষ হলে আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-দুঃখীদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চড়া মজুরি চাচ্ছেন অভিজ্ঞ কসাইরা। অনেকে চড়া মজুরি দিয়েও কসাই পাননি। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই মৌসুমি কসাই দিয়ে চামড়া ছাড়ানোর কাজ করাচ্ছেন। অনেক কোরবানিদাতাই এবার কসাইয়ের অভাবে কোরবানি দেবেন দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিন।

দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনার বাসিন্দা মো: শাহজাহান বলেন, ‘বছরে একদিন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরবানি করে থাকি। গরু জবাই থেকে শুরু করে সব ধরনের কাজ করে থাকি। অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়।’

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ বলেন, ‘এবার উপজেলাজুড়ে ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ৬০ হাজার ৩০০ পশু প্রস্তুত ছিল। খামারিরা অন্য বছরের তুলনায় পশুর দামও ভালো পেয়েছেন।