Lama ১১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরবানি পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে, ক্রেতা নেই

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ২১ Time View

মিরসরাই প্রতিনিধি:-

চামড়া কিনবেতো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো; তবে কোনো ক্রেতা একবারের জন্য দেখতেও আসেনি। প্রতিবছর কোরবানি পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কয়েকটা পার্টি দেখতে আসে, দরদাম করে। কিন্তু এবার কেউ এলো না।’

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা কোরবানিদাতা আবু জাফর এর এমন আহাজারি।

তিনি আক্ষেপ করে  বলেন, ‘পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা গেল না। অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’

ফজলুল করিম নামের আরেকজন বলেন, ‘গতবছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সে ই কদু। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরও খারাপ।’

উপজেলার করেরহাট এলাকার চত্ত্বরুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়া গরিবের হক। কিন্তু চামড়া বিক্রিই করা যাচ্ছে না, তাদের কী দেবো?’

অন্যান্য বছর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। এবার কোনো মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।

উপজেলার আবুরহাট মনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‌‘একসময় মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করতো। কিন্তু এখন চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ পরিবহন খরচ হয়, তাও উঠবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা অনেক কষ্টের। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় এবার ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে।

উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের জিয়া উদ্দিন জানান, তিনি এক লাখ ৭০ হাজার ও এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। অথচ একটা সময় ৩০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০০-১৫০০ টাকায়।

জোরারগঞ্জ বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন  বলেন, ‘এবার প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছি। প্রতি পিস চামড়া ১০০-২৫০ টাকা দরে কেনা হয়। এসব চামড়ায় লবণ লাগাতে হবে। এরপর পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে চামড়ার ক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে।’

এই বাস্তবতায় পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে থাকা মানুষদের ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Bandarban Tribune

কোরবানি পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে, ক্রেতা নেই

Update Time : ১১:৩৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

মিরসরাই প্রতিনিধি:-

চামড়া কিনবেতো দূরের কথা, সকাল গড়িয়ে বিকেল হলো; তবে কোনো ক্রেতা একবারের জন্য দেখতেও আসেনি। প্রতিবছর কোরবানি পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কয়েকটা পার্টি দেখতে আসে, দরদাম করে। কিন্তু এবার কেউ এলো না।’

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা কোরবানিদাতা আবু জাফর এর এমন আহাজারি।

তিনি আক্ষেপ করে  বলেন, ‘পশুর চামড়া এত মূল্যহীন হয়ে গেল! শেষ পর্যন্ত বিক্রি করা গেল না। অথচ চামড়াজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী।’

ফজলুল করিম নামের আরেকজন বলেন, ‘গতবছর ১৫০-২০০ টাকা দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। এবার কেউ কিনতে আসেনি। এতিমখানা থেকেও কেউ চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এবার ভাবছিলাম সরকার পরিবর্তন হওয়াতে পশুর চামড়ার চাহিদা বাড়বে, ভালো দামও পাওয়া যাবে। কিন্তু যে লাউ, সে ই কদু। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় অবস্থা আরও খারাপ।’

উপজেলার করেরহাট এলাকার চত্ত্বরুয়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর চামড়া গরিবের হক। কিন্তু চামড়া বিক্রিই করা যাচ্ছে না, তাদের কী দেবো?’

অন্যান্য বছর উপজেলার বিভিন্ন মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। এবার কোনো মাদরাসার পক্ষ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি।

উপজেলার আবুরহাট মনিরুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‌‘একসময় মাদরাসার পক্ষ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হতো। তা সংরক্ষণ করে বিক্রির পর লাভের টাকা এতিম ছাত্রদের জন্য খরচ করতো। কিন্তু এখন চামড়ার যে দাম, চামড়া সংগ্রহ করে আনতে যে পরিমাণ পরিবহন খরচ হয়, তাও উঠবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা অনেক কষ্টের। অনেক পরিশ্রম করেও লাভ হয় না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় এবার ৫৩ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে।

উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের জিয়া উদ্দিন জানান, তিনি এক লাখ ৭০ হাজার ও এক লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। অথচ একটা সময় ৩০ হাজার টাকায় কেনা গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ১০০০-১৫০০ টাকায়।

জোরারগঞ্জ বাজারের চামড়া ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন  বলেন, ‘এবার প্রায় ৪০০ চামড়া কিনেছি। প্রতি পিস চামড়া ১০০-২৫০ টাকা দরে কেনা হয়। এসব চামড়ায় লবণ লাগাতে হবে। এরপর পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের পারিশ্রমিকের কারণে চামড়ার ক্রয়মূল্য বেড়ে যাবে।’

এই বাস্তবতায় পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে থাকা মানুষদের ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।