Lama ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামায় পাহাড়, বালু ও বনসম্পদ পাচার পরিবেশ ধ্বংস রোধে সেনাবাহিনী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের দাবি:-

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
  • ৮২ Time View

এম রহুল আমিন:-

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা, নদী-ঝিরি থেকে বালু উত্তোলন, বনজ সম্পদ ও কাঠ পাচার এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কতিপয় স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিন্ডিকেট সরকারি আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে পরিবেশ ধ্বংসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের মাটি কাটা, বালু উত্তোলন, কাঠ পাচার এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং সংকুচিত হচ্ছে বনভূমি।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবারও একইভাবে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড শুরু হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান স্থায়ী ফলাফল আনতে পারছেন না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের মতামত হলো, শুধুমাত্র মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের সংঘবদ্ধ পরিবেশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা মনে করেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, লামা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন ও কাঠ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, বন ও নদী শুধু স্থানীয় জনগণের সম্পদ নয়; এগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। এই নির্মম বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত টিম গঠন করে অভিযান করলে এর সুফল আসতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় পুকুরে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Bandarban Tribune

লামায় পাহাড়, বালু ও বনসম্পদ পাচার পরিবেশ ধ্বংস রোধে সেনাবাহিনী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের দাবি:-

Update Time : ১১:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

এম রহুল আমিন:-

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা, নদী-ঝিরি থেকে বালু উত্তোলন, বনজ সম্পদ ও কাঠ পাচার এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কতিপয় স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিন্ডিকেট সরকারি আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে পরিবেশ ধ্বংসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার ফাইতং, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের মাটি কাটা, বালু উত্তোলন, কাঠ পাচার এবং অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে পাহাড় ধসের ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং সংকুচিত হচ্ছে বনভূমি।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিভিন্ন সময়ে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না। অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে আবারও একইভাবে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড শুরু হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান স্থায়ী ফলাফল আনতে পারছেন না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের মতামত হলো, শুধুমাত্র মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের সংঘবদ্ধ পরিবেশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তারা মনে করেন, নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনার জন্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, লামা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, পাহাড় কাটা, বালু উত্তোলন ও কাঠ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ ধ্বংসকারী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়, বন ও নদী শুধু স্থানীয় জনগণের সম্পদ নয়; এগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। এই নির্মম বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত টিম গঠন করে অভিযান করলে এর সুফল আসতে পারে।