
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়, শিক্ষার্থীদের ফি আদায় এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ব্যাপক অভাব রয়েছে। বিগত ১০ বছরের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে অডিট করলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে বলে দাবি অভিভাবক মহলের।
পরীক্ষার্থী প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি: ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে বোর্ড ফি দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হাজিরা ও পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে।
অতিরিক্ত ফি আদায় ও হিসাবহীনতা: প্রশংসাপত্র ও সনদপত্র দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হলেও তা যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হয় না। এছাড়া এডমিট কার্ড, ব্যবহারিক পরীক্ষা, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণ, ভর্তি, উপস্থিতি ফরম এবং নবম-দশম শ্রেণির কোচিংয়ের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সম্পদ গায়েব: ২০১৯ সালে একটি ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া, ২০২০ ও ২০২৬ সালে পুরোনো টিন বিক্রি, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য ও পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৬ সালে বিদ্যালয়ের ১৩ বস্তা পুরোনো বই গায়েব করার অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক স্থবিরতা ও পরিবেশ: দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না (গত ৫ আগস্টের পর থেকে)। এছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠ ও সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা ও সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের বিগত ১০ বছরের ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়, আদায়কৃত ফি, সম্পদ বিক্রির তথ্য, বোর্ড সংক্রান্ত লেনদেন এবং পরিচালনা কমিটির কার্যবিবরণী নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, ‘একটি হয়েছে তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্কর্তাকে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা আবশ্যক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বান্দরবান ট্রিবিউন ডেস্ক: 




















