Lama ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচি যুব উন্নয়ন অফিসে নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলছে, নাগরিক সেবা নেই ২৯ বছর

একজন সহকারী কর্মকর্তা দিয়েই ২৯ বছর ধরে চলছে বান্দরবানের থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন নাগরিক সেবা চার্টার। তবে চার্টারে উল্লেখিত অধিকাংশ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুর্গম এলাকার তরুণ-তরুণীরা।

তীব্র জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মকর্তা দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট সাতটি।
এর মধ্যে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ১টি তাও অতিরিক্ত দায়িত্বে।অফিস সহকারী কর্মকর্তা ৩ জন মধ্যে ২জন

শূন্য,সুপারভাইজারসহ কর্মচারী ৩জন সবই শূন্য। ১৯৯৭ সালে কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক একাই দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ৩১ আগস্ট উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় পরিচয় পর্বে জানা যায়, আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমানকে থানচি কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ভৌগোলিক দূরত্ব ও দুর্গমতার কারণে তিনি নিয়মিত থানচি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়,একজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: গোলাম ফারুক ২০২০ সাল থেকে ৬ বছর যাবৎ একা চালিয়ে আসছে বলে দাবী করেন।তবে কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে নাগরিক সেবা চার্টার। সেখানে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি ঋণের জন্য আবেদন করতে গেলে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

দুর্গম বড় মদক এলাকার বাসিন্দা ও সদ্য মাস্টার্স শেষ করা উশৈসিং মারমা বলেন, “দুর্গম এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। চার্টারে সুন্দর সুন্দর সেবার কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে পাহাড়ের বেকার যুবকদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।”

স্থানীয় তরুণী দিপিকা ত্রিপুরা বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অফিসে এসে মাত্র একজন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়। তিনি দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ বা ঋণের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। শুধু চার্টার ঝুলিয়ে রাখলে হবে না, বাস্তবে এর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, “আমি একা হলেও যতটুকু সম্ভব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে তথ্য অধিকার আইনের আবদেন গ্রহণ ও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে না দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমান বলেন, আমি আলীকদমের যোগদান করেছি মাত্র দুই মাস হয়েছে। থানচি উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র তিন দিন হলো। আমাদের কার্যালয়ের সকল তথ্য আপনাদের ( সাংবাদিকদের) না দেয়ার জন্য নিশেধাজ্ঞা নেই। আলীকদমের এনজিও একটা মেটিং ছিল সেখানে সময় দিয়েছিলাম, আমি যুব ঋণ বিকরনের জন্য আগামি ১০ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর আসবো তখন সাংবাদিকদের সাথে পরিচয় হবে এবং তথ্য দেবো।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী যুবকদের দাবি, শুধু দেয়ালে নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলিয়ে রাখলেই হবে না; চার্টারে উল্লেখিত সেবাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। থানচির মতো পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, নিষ্ক্রিয় যুব ক্লাবগুলো সচল এবং প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রম জোরদার করতে  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদমে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর সম্মানী ভাতা নিয়ে দুই সন্তানের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Bandarban Tribune

থানচি যুব উন্নয়ন অফিসে নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলছে, নাগরিক সেবা নেই ২৯ বছর

Update Time : ০৯:১০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন সহকারী কর্মকর্তা দিয়েই ২৯ বছর ধরে চলছে বান্দরবানের থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন নাগরিক সেবা চার্টার। তবে চার্টারে উল্লেখিত অধিকাংশ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুর্গম এলাকার তরুণ-তরুণীরা।

তীব্র জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মকর্তা দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট সাতটি।
এর মধ্যে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ১টি তাও অতিরিক্ত দায়িত্বে।অফিস সহকারী কর্মকর্তা ৩ জন মধ্যে ২জন

শূন্য,সুপারভাইজারসহ কর্মচারী ৩জন সবই শূন্য। ১৯৯৭ সালে কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বর্তমানে সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক একাই দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ৩১ আগস্ট উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় পরিচয় পর্বে জানা যায়, আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমানকে থানচি কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ভৌগোলিক দূরত্ব ও দুর্গমতার কারণে তিনি নিয়মিত থানচি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।

বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়,একজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: গোলাম ফারুক ২০২০ সাল থেকে ৬ বছর যাবৎ একা চালিয়ে আসছে বলে দাবী করেন।তবে কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে নাগরিক সেবা চার্টার। সেখানে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি ঋণের জন্য আবেদন করতে গেলে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

দুর্গম বড় মদক এলাকার বাসিন্দা ও সদ্য মাস্টার্স শেষ করা উশৈসিং মারমা বলেন, “দুর্গম এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। চার্টারে সুন্দর সুন্দর সেবার কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে পাহাড়ের বেকার যুবকদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।”

স্থানীয় তরুণী দিপিকা ত্রিপুরা বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অফিসে এসে মাত্র একজন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়। তিনি দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ বা ঋণের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। শুধু চার্টার ঝুলিয়ে রাখলে হবে না, বাস্তবে এর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, “আমি একা হলেও যতটুকু সম্ভব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে তথ্য অধিকার আইনের আবদেন গ্রহণ ও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে না দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমান বলেন, আমি আলীকদমের যোগদান করেছি মাত্র দুই মাস হয়েছে। থানচি উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র তিন দিন হলো। আমাদের কার্যালয়ের সকল তথ্য আপনাদের ( সাংবাদিকদের) না দেয়ার জন্য নিশেধাজ্ঞা নেই। আলীকদমের এনজিও একটা মেটিং ছিল সেখানে সময় দিয়েছিলাম, আমি যুব ঋণ বিকরনের জন্য আগামি ১০ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর আসবো তখন সাংবাদিকদের সাথে পরিচয় হবে এবং তথ্য দেবো।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী যুবকদের দাবি, শুধু দেয়ালে নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলিয়ে রাখলেই হবে না; চার্টারে উল্লেখিত সেবাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। থানচির মতো পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, নিষ্ক্রিয় যুব ক্লাবগুলো সচল এবং প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রম জোরদার করতে  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।