Lama ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দুর্গম পাহাড়ে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে, চট্টগ্রাম রোটারি ক্লাব ও লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৬ শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৯ আগস্ট) পানছড়ি মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।

দিনব্যাপী ক্যাম্পে তিনজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা অনেক রোগী প্রথমবারের মতো বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান।

ক্যাম্পে চোখের ছানি রোগীদের বিশেষভাবে শনাক্ত করে পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থ ও যাতায়াতের অসুবিধার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিজেদের এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান না। তাই তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও কাজ করছি।”

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবাই দিচ্ছে না, বরং আর্থিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন আশার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও স্বস্তি দেখা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

দুর্গম পাহাড়ে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা

পানছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প

Update Time : ০৭:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে, চট্টগ্রাম রোটারি ক্লাব ও লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৬ শতাধিক পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৯ আগস্ট) পানছড়ি মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এ চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।

দিনব্যাপী ক্যাম্পে তিনজন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপরামর্শ দেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা অনেক রোগী প্রথমবারের মতো বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান।

ক্যাম্পে চোখের ছানি রোগীদের বিশেষভাবে শনাক্ত করে পৃথক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করায় দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগলেও অর্থ ও যাতায়াতের অসুবিধার কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নিজেদের এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ পান না। তাই তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যও কাজ করছি।”

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবাই দিচ্ছে না, বরং আর্থিক ও যোগাযোগগত সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন আশার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা ও স্বস্তি দেখা গেছে।