Lama ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীঘিনালায় পানি ও সেচ প্রযুক্তি বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (LSP) ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা উপজেলার কলাবাগানস্থ জাবারং কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ‘Promoting GESI Responsive Nature-based Solutions for Enabling Resilience in CHT of Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় Helvetas Bangladesh।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ১৩ জন অংশগ্রহণকারী—৭ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী—অংশ নেন। এতে পানি সরবরাহ ও সেচ প্রযুক্তি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (NbS), পানি-সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থাপনা, সবজি চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন, ব্যবসায় পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পানি ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ সঞ্জন কুমার বড়ুয়া পাহাড়ি এলাকায় পানি সরবরাহ প্রযুক্তির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। বিশেষ করে গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম, ইনফিলট্রেশন গ্যালারি ও গ্রাভিটি অফ-গ্রিড পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া ঝর্ণা ও ছড়াভিত্তিক পানি উৎস সংরক্ষণ, স্প্রিংশেড ব্যবস্থাপনা, পানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিয়ে দলীয় অনুশীলন করেন অংশগ্রহণকারীরা। স্থানীয় প্রেক্ষাপটে উপযোগী প্রযুক্তি নির্বাচন, পানি সরবরাহ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি ব্যবহারকারী কমিটির দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে দীঘিনালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও কৃষি উৎপাদনের সম্পর্ক, পানি সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, ফসল বৈচিত্র্যকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

এ সময় বেগুন, করলা, শসা, লাউ, টমেটো ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন কৌশল, ড্রিপ সেচ, খরা মৌসুমে পানি ব্যবস্থাপনা, সেচের সময়সূচি, সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং রোগ-পোকা দমন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট ও কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারের কৌশলও শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (LSP) মডেলের ধারণা, দায়িত্ব এবং কমিউনিটি পর্যায়ে পানি ও কৃষি সেবা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কমিউনিটি শিখন কেন্দ্র পরিচালনা, দল গঠন, নেতৃত্ব বিকাশ, ব্যবসায় পরিকল্পনা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পানি সরবরাহ ও সেচ প্রযুক্তির পরিকল্পনা, নকশা, স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা, স্প্রিংশেড সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

গরুর লাথিতে প্রাণ গেল কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকার

Bandarban Tribune

দীঘিনালায় পানি ও সেচ প্রযুক্তি বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

Update Time : ০৯:২৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (LSP) ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দীঘিনালা উপজেলার কলাবাগানস্থ জাবারং কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ‘Promoting GESI Responsive Nature-based Solutions for Enabling Resilience in CHT of Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় Helvetas Bangladesh।

দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ১৩ জন অংশগ্রহণকারী—৭ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী—অংশ নেন। এতে পানি সরবরাহ ও সেচ প্রযুক্তি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (NbS), পানি-সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থাপনা, সবজি চাষ, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন, ব্যবসায় পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পানি ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ সঞ্জন কুমার বড়ুয়া পাহাড়ি এলাকায় পানি সরবরাহ প্রযুক্তির ব্যবহার, সুবিধা-অসুবিধা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। বিশেষ করে গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম, ইনফিলট্রেশন গ্যালারি ও গ্রাভিটি অফ-গ্রিড পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া ঝর্ণা ও ছড়াভিত্তিক পানি উৎস সংরক্ষণ, স্প্রিংশেড ব্যবস্থাপনা, পানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিয়ে দলীয় অনুশীলন করেন অংশগ্রহণকারীরা। স্থানীয় প্রেক্ষাপটে উপযোগী প্রযুক্তি নির্বাচন, পানি সরবরাহ অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি ব্যবহারকারী কমিটির দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে দীঘিনালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমন প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও কৃষি উৎপাদনের সম্পর্ক, পানি সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, ফসল বৈচিত্র্যকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।

এ সময় বেগুন, করলা, শসা, লাউ, টমেটো ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন কৌশল, ড্রিপ সেচ, খরা মৌসুমে পানি ব্যবস্থাপনা, সেচের সময়সূচি, সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং রোগ-পোকা দমন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট ও কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারের কৌশলও শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী (LSP) মডেলের ধারণা, দায়িত্ব এবং কমিউনিটি পর্যায়ে পানি ও কৃষি সেবা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কমিউনিটি শিখন কেন্দ্র পরিচালনা, দল গঠন, নেতৃত্ব বিকাশ, ব্যবসায় পরিকল্পনা ও আয়বর্ধক কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে পানি সরবরাহ ও সেচ প্রযুক্তির পরিকল্পনা, নকশা, স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি সম্প্রসারণে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা ও তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা, স্প্রিংশেড সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।