Lama ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মায়ানমার সীমান্তবর্তী ভূদৃশ্যের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বিশেষ করে বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ১৯ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল।
German Development Cooperation,International Union for Conservation of Nature (IUCN),Royal Botanic Gardens, Kew, অর্থায়নের Arannayk Foundation আযোজন করেন।

কর্মশালায় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতিত্ব করেন অরন্যেক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কো- অর্ডিনেটর ডঃ মোঃ মদিনুল আহসান।প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: ওয়ালিদ হোসেন, প্রানী সম্পদ করামকরাতা ডা: মো: শরীফুল ইসলাম, থানা সহকারী পরিদর্শক মহিবুল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, পাহাড়ি বনাঞ্চল শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ শিকার বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি। এসব ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দেশীয় ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ভারতের চট্টগ্রাম–লুসাই আন্তঃসীমান্ত ভূদৃশ্যে বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর মতো কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে।

কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

থানচিতে বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা

Update Time : ০৭:২০:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম মায়ানমার সীমান্তবর্তী ভূদৃশ্যের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বিশেষ করে বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় ‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পের সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ১৯ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল।
German Development Cooperation,International Union for Conservation of Nature (IUCN),Royal Botanic Gardens, Kew, অর্থায়নের Arannayk Foundation আযোজন করেন।

কর্মশালায় বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতিত্ব করেন অরন্যেক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কো- অর্ডিনেটর ডঃ মোঃ মদিনুল আহসান।প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: ওয়ালিদ হোসেন, প্রানী সম্পদ করামকরাতা ডা: মো: শরীফুল ইসলাম, থানা সহকারী পরিদর্শক মহিবুল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, পাহাড়ি বনাঞ্চল শুধু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ শিকার বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি। এসব ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দেশীয় ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

‘বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ভারতের চট্টগ্রাম–লুসাই আন্তঃসীমান্ত ভূদৃশ্যে বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর মতো কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে।

কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীরা উপস্থিত ছিলেন।