Lama ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের দাবি

লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ

লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি।

সোমবার ১৭ আগস্ট লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ রক্ষা ও অবৈধ কর্মকান্ড, মাদক, জুয়া, চোরাচালান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি রোধে সেনাবাহিনী আলীকদম জোন আগের চেয়ে বেশি নজরদারী জোরদার করেছেন বলে জোন প্রতিনিধি সভাকে অবহিত করেন।

সভায় সাংবাদিক প্রতিনিধি জানান,লামা উপজেলা ফাইতং ইউনিয়ন, পৌরসভার রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬ টি স্কুলে মুসলিম শিক্ষক নাই। এর ফলে ওইসব স্কুলে পড়ুয়া সিংহভাগ মুসলিম শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা পাচ্ছেন না।

যুগযুগ ধরে এই ৬ বিদ্যালয়ে কেনো একজনও মুসলিম শিক্ষক না থাকায়; এলাকার অভিভাবকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন। এই পরিস্থিতে আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঠেকানোর জন্য বিদ্যমান দুর্ভোগ ও জটিলতা নিরসেন গুরুত্বসহকারে হস্তক্ষেপ কামণায় বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এঁর মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়। একই সাথে সেনাবাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

আইন শৃঙ্খলা কমিটি ও সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, এতদবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রতিনিধি বলেন, এ বিষয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্রাকারে বহুবার জানানো হয়েছে।

উপজেলার সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন খালছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন লুটতরাজ চলছে সেখানে স্থানীয় ও পাশ বর্তী লোহাগাড়া কিছু লোক সিন্ডিকেট করে বালু লটে নিচ্ছে।

 অপরদিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারিছড়া, ফেতান্যাছড়া, বগাইছড়ি খাল, হারগাজা, কুরুখপাতাঝিরি, খালকুইল্যাপাড়া, পাগলির আগাসহ অসংখ্য স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার প্রকাশ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় ফসলি জমি, রাস্তা ঘাটসহ সরকারি স্থাপনা ব্রিজ কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে লামা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বালু লুটের সাথে স্থানীয় প্রায় ২০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে।  সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট হোতাদেরকে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনী কর্তৃক ডেকে সতর্ক করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসতে পারে বলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা দাবি করেন।

অপরদিকে ব্রিকফিল্ডে মাটির যোগান দিতে ফাইতং ইউনিয়নে একেরপর এক পাহাড় কাটা হচ্ছে। যা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না। পাহাড় কাটা রোধেও সেনাবাহিনীর নজরদারির দাবি জানানো হয়।

লামা বন বিভাগ কর্তৃক স্থানীয় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের তাৎক্ষনিক আর্থিক সংকট নিরসনে নিজস্ব বাগানের ৫টি পর্যন্ত বৃক্ষ কর্তন আহরণ  বাজার জাতের নিয়মটি (হোম পারমিট) বন্ধ করে দেয়ায় সাধারণ মানুষ বৃক্ষ সৃজনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ; নিজেদের সৃজিত ২/৪ টি গাছ কেটে পরিবহনকালে বন বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসন গাছগুলো জব্দ করে নেয়।

অপরদিকে সরকারি রিজার্ভ ভূমির গাছ রক্ষায় তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে আইন শৃঙ্খলা সভায় বলা হয়। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র আমির হোসেন বলেন, হোম পারমিট দিয়ে অনেকেই অবৈধ সুযোগ নেয়ার কারনে বন বিভাগ তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব চুরি রোধে ও হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য ইউএইচএফপিও ডা: গোলাম

মোস্তফা নদিম বলেন, হসপিটালে রোগীদের নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলা গেইট বন্ধ রাখা দরকার। এই দিকে হসপিটাল কমপ্লেক্সের মধ্য দিয়ে রাস্তা ব্যহারকারী হাসপাতালপাড়া ও ডুলুঝিরির শতাধিক বাসিন্দারা ৫ দশক ধরে যাতায়াত করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এত বছরেও এইসব বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প সড়ক করে হাসপাতা কমপ্লেক্সকে নিরাপদ করার প্রয়োজন মনে করেননি সংশ্লিষ্টরা।

পারিবারিক সম্পত্তি ভাগবন্টন নিয়ে বিরোধের জেরধরে পৌরসভার শহর উন্নয়ন (নির্মাণাধীন ড্রেন ও রাস্তা) একটি কাজে বাধা দিয়ে আদালতে মামলা করেন। এ কারণে ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরি গ্রামের একটি কবরস্থান, চলাচল রাস্তা, কালভার্ট, সিঁড়ি, রাস্তা রক্ষা ধারক দেয়াল ধসে গেছে। আদালতে মামলা চলার কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বাসিন্দারা যাতায়তে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সভায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, অতি সম্প্রতি রুপসিপাড়া ইউনিয়নের মংফুপাড়া মদ্যপানে একজন মৃগী রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অসত্য ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে। মৃতের পরিবার পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি লামায় ফাঁসিয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটার কথা শুনা যাচ্ছে। কোনো রোহিঙ্গা নাগরিকের অনুপ্রবেশ ঘটলে তাৎক্ষনিক থানা বা নিকটস্থ পুলিশ, প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য বলা হয়।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইছার হামিদ বলেন, আইন শৃঙ্খলা ভালো রয়েছে। মাদক, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সোচ্চার রয়েছে বলে জানানো হয়। ওসি আরো বলেন, এলাকায় যত্রতত্র রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন। কিন্তু রিসোর্ট মালিকদের নিয়ন্ত্রণ নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি রোধ ও পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রিসোর্ট মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে পর্যটক হয়রানি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়। সভায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি পৌর প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর শহর ও সকল ওয়ার্ডে এডাল্ট ও লার্ভা নিধনে ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে এবং ডুবা নালা পরিস্কার করা হচ্ছে। নাগরিকদেরকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্ক করাসহ মশার উৎসস্থল নষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।

শেষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় সরকারি দপ্তরের প্রধানগন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের দাবি

লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ

Update Time : ০৫:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি।

সোমবার ১৭ আগস্ট লামা উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ রক্ষা ও অবৈধ কর্মকান্ড, মাদক, জুয়া, চোরাচালান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি রোধে সেনাবাহিনী আলীকদম জোন আগের চেয়ে বেশি নজরদারী জোরদার করেছেন বলে জোন প্রতিনিধি সভাকে অবহিত করেন।

সভায় সাংবাদিক প্রতিনিধি জানান,লামা উপজেলা ফাইতং ইউনিয়ন, পৌরসভার রাজবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৬ টি স্কুলে মুসলিম শিক্ষক নাই। এর ফলে ওইসব স্কুলে পড়ুয়া সিংহভাগ মুসলিম শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা পাচ্ছেন না।

যুগযুগ ধরে এই ৬ বিদ্যালয়ে কেনো একজনও মুসলিম শিক্ষক না থাকায়; এলাকার অভিভাবকরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন। এই পরিস্থিতে আইন শৃঙ্খলা অবনতি ঠেকানোর জন্য বিদ্যমান দুর্ভোগ ও জটিলতা নিরসেন গুরুত্বসহকারে হস্তক্ষেপ কামণায় বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এঁর মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়। একই সাথে সেনাবাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

আইন শৃঙ্খলা কমিটি ও সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, এতদবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রতিনিধি বলেন, এ বিষয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্রাকারে বহুবার জানানো হয়েছে।

উপজেলার সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন খালছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন লুটতরাজ চলছে সেখানে স্থানীয় ও পাশ বর্তী লোহাগাড়া কিছু লোক সিন্ডিকেট করে বালু লটে নিচ্ছে।

 অপরদিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুমারিছড়া, ফেতান্যাছড়া, বগাইছড়ি খাল, হারগাজা, কুরুখপাতাঝিরি, খালকুইল্যাপাড়া, পাগলির আগাসহ অসংখ্য স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কাটার প্রকাশ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় ফসলি জমি, রাস্তা ঘাটসহ সরকারি স্থাপনা ব্রিজ কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে লামা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বালু লুটের সাথে স্থানীয় প্রায় ২০ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে।  সরই ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট হোতাদেরকে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনী কর্তৃক ডেকে সতর্ক করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসতে পারে বলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা দাবি করেন।

অপরদিকে ব্রিকফিল্ডে মাটির যোগান দিতে ফাইতং ইউনিয়নে একেরপর এক পাহাড় কাটা হচ্ছে। যা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না। পাহাড় কাটা রোধেও সেনাবাহিনীর নজরদারির দাবি জানানো হয়।

লামা বন বিভাগ কর্তৃক স্থানীয় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের তাৎক্ষনিক আর্থিক সংকট নিরসনে নিজস্ব বাগানের ৫টি পর্যন্ত বৃক্ষ কর্তন আহরণ  বাজার জাতের নিয়মটি (হোম পারমিট) বন্ধ করে দেয়ায় সাধারণ মানুষ বৃক্ষ সৃজনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ; নিজেদের সৃজিত ২/৪ টি গাছ কেটে পরিবহনকালে বন বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসন গাছগুলো জব্দ করে নেয়।

অপরদিকে সরকারি রিজার্ভ ভূমির গাছ রক্ষায় তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে আইন শৃঙ্খলা সভায় বলা হয়। এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র আমির হোসেন বলেন, হোম পারমিট দিয়ে অনেকেই অবৈধ সুযোগ নেয়ার কারনে বন বিভাগ তা বন্ধ করে দিয়েছেন।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব চুরি রোধে ও হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য ইউএইচএফপিও ডা: গোলাম

মোস্তফা নদিম বলেন, হসপিটালে রোগীদের নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলা গেইট বন্ধ রাখা দরকার। এই দিকে হসপিটাল কমপ্লেক্সের মধ্য দিয়ে রাস্তা ব্যহারকারী হাসপাতালপাড়া ও ডুলুঝিরির শতাধিক বাসিন্দারা ৫ দশক ধরে যাতায়াত করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এত বছরেও এইসব বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প সড়ক করে হাসপাতা কমপ্লেক্সকে নিরাপদ করার প্রয়োজন মনে করেননি সংশ্লিষ্টরা।

পারিবারিক সম্পত্তি ভাগবন্টন নিয়ে বিরোধের জেরধরে পৌরসভার শহর উন্নয়ন (নির্মাণাধীন ড্রেন ও রাস্তা) একটি কাজে বাধা দিয়ে আদালতে মামলা করেন। এ কারণে ৭ নং ওয়ার্ড মধুঝিরি গ্রামের একটি কবরস্থান, চলাচল রাস্তা, কালভার্ট, সিঁড়ি, রাস্তা রক্ষা ধারক দেয়াল ধসে গেছে। আদালতে মামলা চলার কারণে কাজটি বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বাসিন্দারা যাতায়তে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সভায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, অতি সম্প্রতি রুপসিপাড়া ইউনিয়নের মংফুপাড়া মদ্যপানে একজন মৃগী রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অসত্য ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে। মৃতের পরিবার পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি লামায় ফাঁসিয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গা নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঘটার কথা শুনা যাচ্ছে। কোনো রোহিঙ্গা নাগরিকের অনুপ্রবেশ ঘটলে তাৎক্ষনিক থানা বা নিকটস্থ পুলিশ, প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য বলা হয়।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কাইছার হামিদ বলেন, আইন শৃঙ্খলা ভালো রয়েছে। মাদক, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সোচ্চার রয়েছে বলে জানানো হয়। ওসি আরো বলেন, এলাকায় যত্রতত্র রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন। কিন্তু রিসোর্ট মালিকদের নিয়ন্ত্রণ নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি রোধ ও পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রিসোর্ট মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে পর্যটক হয়রানি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়। সভায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি পৌর প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর শহর ও সকল ওয়ার্ডে এডাল্ট ও লার্ভা নিধনে ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে এবং ডুবা নালা পরিস্কার করা হচ্ছে। নাগরিকদেরকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্ক করাসহ মশার উৎসস্থল নষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।

শেষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় সরকারি দপ্তরের প্রধানগন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।