Lama ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

লামা ফাইতং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় যুগ ধরে মুসলিম শিক্ষক নাই

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ মুসলিম হলেও দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানে নেই কোনো মুসলিম বা ধর্মীয় শিক্ষক। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। মাঝে মধ্যে প্রেষণে কোনো মুসলিম শিক্ষক এলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক হিসেবে তারাও বিব্রত। তিনি দ্রুত স্থায়ীভাবে একজন ধর্মীয় শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেদের পড়াশোনা কিংবা বাড়িতে অভিভাবকদের সহায়তায় বিষয়টি পড়তে হয়। শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ার পরও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, শুধু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলায় এমন আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদম পোয়ামুহুরীতে ‘আউটরিচ প্রোগ্রামের’ আওতায় ম্রো জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান অনুষ্ঠিত

Bandarban Tribune

৫৬% মুসলিম শিক্ষার্থী ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত

লামা ফাইতং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় যুগ ধরে মুসলিম শিক্ষক নাই

Update Time : ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৪ জনই মুসলিম। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৬ শতাংশ মুসলিম হলেও দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানে নেই কোনো মুসলিম বা ধর্মীয় শিক্ষক। ফলে ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকসহ বর্তমানে মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তবে তাদের সবাই মারমা সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক স্থায়ীভাবে কর্মরত নেই। মাঝে মধ্যে প্রেষণে কোনো মুসলিম শিক্ষক এলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ায় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় শিক্ষক হিসেবে তারাও বিব্রত। তিনি দ্রুত স্থায়ীভাবে একজন ধর্মীয় শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নিজেদের পড়াশোনা কিংবা বাড়িতে অভিভাবকদের সহায়তায় বিষয়টি পড়তে হয়। শিক্ষক না থাকায় অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ আহমেদ বলেন, একটি বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়ার পরও সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, শুধু হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, উপজেলায় এমন আরও কয়েকটি বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।