Lama ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মধু পূর্ণিমার কর্মসূচি শুরু হয়। এদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারে গিয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। পরে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে মধু, মধু মিশ্রিত পায়েস, বিভিন্ন জাতের ফলমূল ও ছোয়াইং (আহার) দান করেন।

উপজেলা সদরের থানচি হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত উ ইউসারাদা মহাথেরো এবং হাইল মারা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত ড. গাইন্দামালা মহাথেরো উপস্থিত থেকে পঞ্চশীল প্রদান, ধর্মীয় দেশনা ও মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য তুলে ধরেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিকেলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হয়ে গুরু ভান্তের ধর্মদেশনা শ্রবণ করবেন। পরে প্রদীপ প্রজ্বালন করে পরিবার, পিতা-মাতা, গুরুজন, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্বালনেরও আয়োজন করা হয়েছে।

হাতি ও বানরের সেবার স্মরণে মধু পূর্ণিমা
বৌদ্ধ ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ একসময় পারিলেয়্য বনে বর্ষাবাস পালন করছিলেন। তখন তিনি সেখানে একাকী অবস্থান করছিলেন। বুদ্ধের সেবায় একটি হাতি ও একটি বানর এগিয়ে আসে। হাতিটি বুদ্ধের বসবাসের স্থান পরিষ্কার রাখা, পানি সংগ্রহসহ বিভিন্নভাবে সেবা করত। আর বানরটি প্রতিদিন বনে ঘুরে ফল ও ফুল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।

একদিন বানরটি বন থেকে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে মধু নিয়ে এসে ভগবান বুদ্ধকে দান করে। বুদ্ধ তার দেওয়া মধু গ্রহণ করেন। বানরটির এই পবিত্র দান ও গভীর ভক্তির ঘটনাকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এই ধর্মীয় কাহিনির সঙ্গে বুদ্ধের প্রতি হাতি ও বানরের নিঃস্বার্থ সেবার ঘটনাও জড়িয়ে আছে। তাই মধু দানের সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর ধর্মীয় মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি ‘মধু পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করা হয়।

মধু পূর্ণিমায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দান, শীল ও ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে ভগবান বুদ্ধের শিক্ষা স্মরণ করেন এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদম পোয়ামুহুরীতে ‘আউটরিচ প্রোগ্রামের’ আওতায় ম্রো জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান অনুষ্ঠিত

Bandarban Tribune

থানচিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মধু পূর্ণিমা উদযাপন

Update Time : ০২:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ মধু পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মধু পূর্ণিমার কর্মসূচি শুরু হয়। এদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহারে গিয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। পরে ভগবান বুদ্ধের উদ্দেশ্যে মধু, মধু মিশ্রিত পায়েস, বিভিন্ন জাতের ফলমূল ও ছোয়াইং (আহার) দান করেন।

উপজেলা সদরের থানচি হেডম্যান পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত উ ইউসারাদা মহাথেরো এবং হাইল মারা পাড়া বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত ড. গাইন্দামালা মহাথেরো উপস্থিত থেকে পঞ্চশীল প্রদান, ধর্মীয় দেশনা ও মধু পূর্ণিমার তাৎপর্য তুলে ধরেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিকেলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সমবেত হয়ে গুরু ভান্তের ধর্মদেশনা শ্রবণ করবেন। পরে প্রদীপ প্রজ্বালন করে পরিবার, পিতা-মাতা, গুরুজন, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করবেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্বালনেরও আয়োজন করা হয়েছে।

হাতি ও বানরের সেবার স্মরণে মধু পূর্ণিমা
বৌদ্ধ ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ একসময় পারিলেয়্য বনে বর্ষাবাস পালন করছিলেন। তখন তিনি সেখানে একাকী অবস্থান করছিলেন। বুদ্ধের সেবায় একটি হাতি ও একটি বানর এগিয়ে আসে। হাতিটি বুদ্ধের বসবাসের স্থান পরিষ্কার রাখা, পানি সংগ্রহসহ বিভিন্নভাবে সেবা করত। আর বানরটি প্রতিদিন বনে ঘুরে ফল ও ফুল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।

একদিন বানরটি বন থেকে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে মধু নিয়ে এসে ভগবান বুদ্ধকে দান করে। বুদ্ধ তার দেওয়া মধু গ্রহণ করেন। বানরটির এই পবিত্র দান ও গভীর ভক্তির ঘটনাকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এই ধর্মীয় কাহিনির সঙ্গে বুদ্ধের প্রতি হাতি ও বানরের নিঃস্বার্থ সেবার ঘটনাও জড়িয়ে আছে। তাই মধু দানের সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবছর ধর্মীয় মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি ‘মধু পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করা হয়।

মধু পূর্ণিমায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দান, শীল ও ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে ভগবান বুদ্ধের শিক্ষা স্মরণ করেন এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন।