Lama ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সম্মাননা পেলেন সফল মৎস্যচাষিরা

খাগড়াছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা প্রদান এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল মিলনায়তনে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণে রঙিন বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর হয়ে পুনরায় টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখে মৎস্যচাষি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবসার এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।

স্বাগত বক্তব্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদৃষ্টি চাকমা বলেন, জেলায় মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে নদী ও জলাশয় ভরাট, খরা, পানির সংকট এবং সময়মতো পোনা না পাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব কারণে অনেক মৎস্যচাষি চাষের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর খাগড়াছড়িতে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে চলতি বছরে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে জেলার মাছ চাষ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

আলোচনায় রামগড়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষি মো. সেলিম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ইউটিউবের ভিডিও দেখে তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। তবে সফলভাবে মাছ চাষ করতে হলে মাঠে নামার আগে চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল তিনজন মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষির হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের জন্য দীঘিনালা উপজেলার একজন মৎস্যচাষি নির্বাচিত হয়েছেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পরে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

আলীকদম পোয়ামুহুরীতে ‘আউটরিচ প্রোগ্রামের’ আওতায় ম্রো জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান অনুষ্ঠিত

Bandarban Tribune

সম্মাননা পেলেন সফল মৎস্যচাষিরা

খাগড়াছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালিত উৎপাদন বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

Update Time : ০৪:৪৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা প্রদান এবং মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল মিলনায়তনে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণে রঙিন বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর হয়ে পুনরায় টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখে মৎস্যচাষি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবসার এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।

স্বাগত বক্তব্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদৃষ্টি চাকমা বলেন, জেলায় মৎস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে নদী ও জলাশয় ভরাট, খরা, পানির সংকট এবং সময়মতো পোনা না পাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসব কারণে অনেক মৎস্যচাষি চাষের শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর খাগড়াছড়িতে মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার মেট্রিক টন। তবে চলতি বছরে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ১০৩ মেট্রিক টন। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে জেলার মাছ চাষ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

আলোচনায় রামগড়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষি মো. সেলিম নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ইউটিউবের ভিডিও দেখে তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। তবে সফলভাবে মাছ চাষ করতে হলে মাঠে নামার আগে চাষ পদ্ধতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল তিনজন মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষির হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের জন্য দীঘিনালা উপজেলার একজন মৎস্যচাষি নির্বাচিত হয়েছেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পরে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।