Lama ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃষ্টিতে বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি, অভিযানের পরও থামছে না পাহাড় নিধন

লামায় বর্ষাকালে পাহাড় কাটা বেশি হচ্ছে, ৪০ ইটভাটায় যাচ্ছে মাটি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বর্ষাকালেও থামছে না পাহাড় কাটা। পরিবেশ আইন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড়ের ঢাল কেটে মাটি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংগৃহীত এসব মাটির বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।

বর্ষার মৌসুমে পাহাড় কাটার কারণে মাটির স্বাভাবিক স্তর ও পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে অতিবৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বসতি, কৃষিজমি, সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধস নামলে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ফাইতংয়েই ৩৩টির বেশি ইটভাটা:

স্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৩টির বেশি ইটভাটা। এছাড়া ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দুটি, গজালিয়ায় দুটি, সরইয়ে একটি এবং লামা পৌরসভায় একটি ইটভাটাসহ উপজেলায় প্রায় ৪০টি ইটভাটা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব ইটভাটায় বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই চাহিদা পূরণ করতে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড়ের ঢাল কেটে মাটি তুলে স্তূপ করে রাখা এবং পরে তা বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহনের অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলার চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাহাড়ের নিচে বিপুল পরিমাণ মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানিতে এসব কাটা অংশ নরম হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্ষায় পাহাড় কাটায় বাড়ছে ঝুঁকি:

পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল কেটে ফেলার ফলে বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে প্রবেশ করে মাটির বন্ধন দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে টানা ভারী বৃষ্টির সময় কাটা পাহাড়ের মাটি নিচে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীতে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বর্ষাকালে পাহাড় কাটাকে তারা বড় ধরনের জননিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বর্ষার সময় পাহাড় কাটা আরও ভয়ংকর। পাহাড়ের ওপরের অংশ কেটে ফেলার পর বৃষ্টির পানি নামলে মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

অভিযান চলছে, তারপরও প্রশ্ন:

পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি নিয়ে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে কীভাবে দিনের বেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকে? পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, মাটি পরিবহনকারী এবং মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না; এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য:

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব জানান, তিনি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার অপরাধে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের এমন পদক্ষেপের পরও পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, পাহাড় কাটার মূল উৎস, মাটি সরবরাহের চক্র এবং মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে একই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

ইটভাটার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন:

লামায় প্রায় ৪০টি ইটভাটা থাকার তথ্য সামনে আসায় এসব ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র, অনুমোদন এবং জ্বালানি ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কোন ইটভাটা বৈধ, কোনটির অনুমোদন নেই, কোন ভাটা কোথা থেকে মাটি সংগ্রহ করছে এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে কোনো ইটভাটার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না; এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, প্রতিটি ইটভাটার কাঁচামালের উৎস যাচাই করা হলে পাহাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি সংগ্রহের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

পরিবেশকর্মীর উদ্বেগ:

সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী এম রুহুল আমিন বলেন, “পাহাড় নিধনের প্রতিযোগিতা চালিয়ে ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ অত্যন্ত নিন্দনীয়। বর্ষাকালে এভাবে পাহাড় কাটার ফলে মানুষের জীবন ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চান স্থানীয়রা

স্থানীয়দের মতে, পাহাড় কাটা বন্ধে শুধু মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা যথেষ্ট নয়। পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, এক্সকাভেটরের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাটি পরিবহনের ওপর নজরদারি এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটার স্থানগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পাহাড় কেটে একবার মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে সেই ক্ষতি সহজে পূরণ হয় না। আর বর্ষাকালে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি তা সরাসরি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

তাই লামায় পাহাড় কাটার প্রকৃত চিত্র নির্ণয়, প্রায় ৪০টি ইটভাটার বৈধতা ও মাটির উৎস যাচাই এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের তৎপরতা যদি মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান না হয়, তাহলে বর্ষার অতিবৃষ্টি যেকোনো সময় লামার পাহাড়ি জনপদে বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে পুলিশের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

Bandarban Tribune

বৃষ্টিতে বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি, অভিযানের পরও থামছে না পাহাড় নিধন

লামায় বর্ষাকালে পাহাড় কাটা বেশি হচ্ছে, ৪০ ইটভাটায় যাচ্ছে মাটি

Update Time : ০৬:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বর্ষাকালেও থামছে না পাহাড় কাটা। পরিবেশ আইন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে প্রকাশ্যে পাহাড়ের ঢাল কেটে মাটি সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংগৃহীত এসব মাটির বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়।

বর্ষার মৌসুমে পাহাড় কাটার কারণে মাটির স্বাভাবিক স্তর ও পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে অতিবৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাহাড়ের পাদদেশে থাকা বসতি, কৃষিজমি, সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ধস নামলে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ফাইতংয়েই ৩৩টির বেশি ইটভাটা:

স্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৩টির বেশি ইটভাটা। এছাড়া ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে দুটি, গজালিয়ায় দুটি, সরইয়ে একটি এবং লামা পৌরসভায় একটি ইটভাটাসহ উপজেলায় প্রায় ৪০টি ইটভাটা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব ইটভাটায় বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই চাহিদা পূরণ করতে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড়ের ঢাল কেটে মাটি তুলে স্তূপ করে রাখা এবং পরে তা বিভিন্ন যানবাহনে পরিবহনের অভিযোগও রয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলার চিত্র দেখা গেছে। কোথাও পাহাড়ের নিচে বিপুল পরিমাণ মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানিতে এসব কাটা অংশ নরম হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্ষায় পাহাড় কাটায় বাড়ছে ঝুঁকি:

পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল কেটে ফেলার ফলে বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে প্রবেশ করে মাটির বন্ধন দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে টানা ভারী বৃষ্টির সময় কাটা পাহাড়ের মাটি নিচে ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতীতে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বর্ষাকালে পাহাড় কাটাকে তারা বড় ধরনের জননিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বর্ষার সময় পাহাড় কাটা আরও ভয়ংকর। পাহাড়ের ওপরের অংশ কেটে ফেলার পর বৃষ্টির পানি নামলে মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

অভিযান চলছে, তারপরও প্রশ্ন:

পাহাড় কাটা ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নজরদারি নিয়ে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে কীভাবে দিনের বেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকে? পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, মাটি পরিবহনকারী এবং মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না; এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য:

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব জানান, তিনি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার অপরাধে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের এমন পদক্ষেপের পরও পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহলে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের মতে, শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, পাহাড় কাটার মূল উৎস, মাটি সরবরাহের চক্র এবং মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোকে একই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

ইটভাটার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন:

লামায় প্রায় ৪০টি ইটভাটা থাকার তথ্য সামনে আসায় এসব ভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র, অনুমোদন এবং জ্বালানি ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কোন ইটভাটা বৈধ, কোনটির অনুমোদন নেই, কোন ভাটা কোথা থেকে মাটি সংগ্রহ করছে এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে কোনো ইটভাটার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না; এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, প্রতিটি ইটভাটার কাঁচামালের উৎস যাচাই করা হলে পাহাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি সংগ্রহের একটি বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

পরিবেশকর্মীর উদ্বেগ:

সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী এম রুহুল আমিন বলেন, “পাহাড় নিধনের প্রতিযোগিতা চালিয়ে ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ অত্যন্ত নিন্দনীয়। বর্ষাকালে এভাবে পাহাড় কাটার ফলে মানুষের জীবন ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

তিনি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাটি ব্যবহারকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চান স্থানীয়রা

স্থানীয়দের মতে, পাহাড় কাটা বন্ধে শুধু মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা যথেষ্ট নয়। পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, এক্সকাভেটরের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাটি পরিবহনের ওপর নজরদারি এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটার স্থানগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পাহাড় কেটে একবার মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে সেই ক্ষতি সহজে পূরণ হয় না। আর বর্ষাকালে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি তা সরাসরি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

তাই লামায় পাহাড় কাটার প্রকৃত চিত্র নির্ণয়, প্রায় ৪০টি ইটভাটার বৈধতা ও মাটির উৎস যাচাই এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের তৎপরতা যদি মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান না হয়, তাহলে বর্ষার অতিবৃষ্টি যেকোনো সময় লামার পাহাড়ি জনপদে বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।