
আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও জেলা পরিষদের কয়েকটি ধারা নিয়ে অসাংবিধানিকতার প্রশ্ন, ১৯০০ সালের রেগুলেশন নিয়ে পরে আপিল বিভাগের ভিন্ন সিদ্ধান্ত।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট।

এ নিয়ে জনপরিসরে প্রায়ই বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনগুলোকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে।” কিন্তু আদালতের রায়ের প্রকৃত অবস্থান আরও নির্দিষ্ট। হাইকোর্ট ২০১০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮-কে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি সংশোধিত বিধানকেও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল।
একই সময়ে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিকে সরাসরি অবৈধ ঘোষণা করার আবেদন আদালত গ্রহণ করেনি।
তবে এখানেই বিষয়টির শেষ নয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করে এবং রায় স্থগিত হওয়ায় আঞ্চলিক পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট কাঠামো কার্যকর থাকে। ফলে হাইকোর্টের রায়কে আজকের দিনে চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না।

যে মামলাগুলো থেকে বিতর্কের সূত্রপাত:
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলা করা হয়েছিল।
একটি হলো Mohammad Badiuzzaman বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ২৬৬৯/২০০০।
অন্যটি Advocate Md. Tajul Islam বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য, রিট পিটিশন নং ৬৪৫১/২০০৭।
প্রথম মামলায় আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কিছু বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বৈধতাও প্রশ্নের মুখে আনা হয়েছিল।
২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়:
২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮-কে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
তৎকালীন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বেঞ্চ ওই রায় দেন। আদালতের যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, আঞ্চলিক পরিষদের কাঠামো রাষ্ট্রের একক বা unitary character-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।

অর্থাৎ, হাইকোর্টের রায়ের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন ছিল কেবল কোনো একটি জনগোষ্ঠীর অধিকার নয়; বরং বিশেষ আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও আদালত বিবেচনা করেছে।
তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি বিধানও প্রশ্নের মুখে:
একই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-সংক্রান্ত আইনের কয়েকটি বিধানকেও হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
বিশেষ করে যেসব বিধানে:
‘উপজাতীয়’ পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকের যোগ্যতা নির্ধারণ,
পার্বত্য এলাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের স্থায়ী বাসিন্দা বা ভূমির মালিকানার শর্ত,
জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার,
ইত্যাদি বিষয় ছিল, সেগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে।

বিভিন্ন আইনবিষয়ক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি বিধানকে সংবিধানের ২৭, ২৮(১), ২৯(১) ও ৩১ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখেছিল।
এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোটাধিকার ও নাগরিক সমতার প্রশ্ন।
যদি কোনো নাগরিককে শুধু তার জাতিগত পরিচয়, ভূমির মালিকানা বা স্থায়ী বাসিন্দার বিশেষ সংজ্ঞার কারণে কোনো স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেই বিধান সাধারণ নাগরিকের সমতার অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, হাইকোর্ট সেটি পরীক্ষা করেছে।

‘উপজাতীয়’ সনদ নিয়েও আদালতের প্রশ্ন:
জেলা পরিষদ আইনের একটি বিধান নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
কোনো ব্যক্তি ‘উপজাতীয়’ কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। আদালতের দৃষ্টিতে এ ধরনের সনদ প্রদানের জন্য যদি সুস্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড না থাকে, তাহলে নাগরিকের অধিকার নির্ধারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

আইনবিষয়ক প্রকাশিত বিশ্লেষণগুলোতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট এ ধরনের বিধানের সঙ্গে সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির সম্পর্ক পরীক্ষা করেছিল।
এখান থেকে একটি বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে আসে, রাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের অধিকার নির্ধারণে জাতিগত পরিচয় কতটা ব্যবহার করা যাবে?
শান্তিচুক্তিকে হাইকোর্ট সরাসরি বাতিল করেনি:
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা দূর করা জরুরি।
হাইকোর্ট ২০১০ সালের রায়ে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিকে সরাসরি অবৈধ ঘোষণা করেনি।
২০০৭ সালের রিটে চুক্তিটিকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত চুক্তিটিকে সরাসরি বাতিল করার পথে যায়নি। সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালত চুক্তির রাজনৈতিক প্রকৃতি এবং চুক্তির বিভিন্ন বিধান পরবর্তী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইনি কাঠামোর অংশ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে ওই চ্যালেঞ্জে হস্তক্ষেপ করেনি।
অতএব, “হাইকোর্ট শান্তিচুক্তি বাতিল করেছে” এমন বক্তব্য আইনগতভাবে সঠিক নয়।
১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন সবচেয়ে বড় আইনি বিভ্রান্তি:
পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশনকে ঘিরে।

এক পর্যায়ে হাইকোর্টের একটি রায়ে ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে ‘dead law’ বা কার্যত মৃত আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়।
সরকার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আপিল বিভাগ ২০১৬ সালে Wagachara Tea Estate Ltd. বনাম Muhammad Abu Taher & Others মামলায় ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে কার্যকর আইন হিসেবে বহাল রাখে। পরবর্তী সময়ে Government of Bangladesh বনাম Rangamati Food Products & Others, 69 DLR (AD) (2017) মামলাতেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ‘dead law’ অবস্থানকে অগ্রাহ্য করে রেগুলেশনটির বৈধতা ও কার্যকারিতা বহাল রাখে।
অর্থাৎ- ১৯০০ সালের রেগুলেশনকে হাইকোর্ট এক পর্যায়ে মৃত আইন বলেছিল; কিন্তু আপিল বিভাগ পরবর্তীতে সেই অবস্থান বাতিল করে রেগুলেশনকে কার্যকর ও বৈধ আইন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সুতরাং বর্তমানে “হাইকোর্ট ১৯০০ সালের রেগুলেশন অবৈধ ঘোষণা করেছে” এটিকে চূড়ান্ত আইনগত অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়ের পর সরকার আপিল বিভাগে যায়। বিভিন্ন গবেষণা ও আইনবিষয়ক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা আপিল পর্যায়ে স্থগিত থাকায় আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর থাকতে থাকে।
এ কারণে সংবাদ প্রতিবেদন বা রাজনৈতিক বক্তব্যে শুধু “হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে” বললে পাঠককে অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়।
সঠিকভাবে বলতে হবে:
“হাইকোর্ট ২০১০ সালে আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি বিধানকে অবৈধ/অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল; ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাঠামো বহাল থাকে।”
কোন কোন আইন নিয়ে হাইকোর্টের রায়?
বিষয়টি সংক্ষেপে এভাবে দেখা যায়:
আইন/ব্যবস্থ, হাইকোর্টের অবস্থান, পরবর্তী অবস্থা,
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮, অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা, আপিল করা হয়; হাইকোর্টের রায় স্থগিত
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, কয়েকটি বিধান নিয়ে অসাংবিধানিকতার সিদ্ধান্ত, আপিলের বিষয়
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, কয়েকটি বিধান নিয়ে অসাংবিধানিকতার সিদ্ধান্ত, আপিলের বিষয়
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, কয়েকটি বিধান নিয়ে অসাংবিধানিকতার সিদ্ধান্ত, আপিলের বিষয়
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ১৯৯৭, সরাসরি বাতিল/অবৈধ ঘোষণা করা হয়নি, রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক অব্যাহত
পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন, ১৯০০, হাইকোর্ট এক পর্যায়ে ‘dead law’ বলেছিল। আপিল বিভাগ ২০১৬-১৭ সালে কার্যকর ও বৈধ হিসেবে বহাল করে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১। উল্লিখিত ২০১০ সালের রায়ে সরাসরি বাতিল ঘোষিত হয়নি। পৃথক আইন হিসেবে কার্যকর।
তাহলে কি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ আইনগুলো সংবিধানবিরোধী?
এ প্রশ্নের উত্তর সরল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়।
হাইকোর্টের ২০১০ সালের রায়ে আঞ্চলিক পরিষদ আইন এবং জেলা পরিষদ আইনের কয়েকটি বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আপিল পর্যায়ের বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম আইনব্যবস্থাকে “অবৈধ” বলা আইনগতভাবে অতিরঞ্জিত হবে।
অন্যদিকে এই রায় বাংলাদেশের সংবিধানের সমতা, বৈষম্যহীনতা, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং একক রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এনেছে।
এ কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ আইনগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশেষ ব্যবস্থা যদি কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হয়, তবে সেটি যেন অন্য নাগরিকের মৌলিক অধিকার অযৌক্তিকভাবে সংকুচিত না করে।
‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির সঙ্গে এই রায়ের সম্পর্ক কোথায়?
বর্তমান সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবি নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার সঙ্গে ২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়ের কিছু সাংবিধানিক প্রশ্নের সম্পর্ক রয়েছে।
একদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও ভূমির অধিকার সংরক্ষণের দাবি রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের অধীনে বসবাসরত প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, ভোটাধিকার ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন রয়েছে।
ফলে জাতিগত পরিচয়কে সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণের ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করা এবং জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকের পৃথক রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অধিকার সৃষ্টি করা, এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

উপসংহার:
পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন নিয়ে হাইকোর্টের ২০১০ সালের রায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই রায়ে আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের কিছু বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। একই সময়ে ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিকে সরাসরি বাতিল করা হয়নি।
আবার ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন সম্পর্কে হাইকোর্টের এক পর্যায়ের অবস্থান পরবর্তীতে আপিল বিভাগে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এটিকে এখন ‘অবৈধ আইন’ বলা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ আইন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, পরবর্তী আপিলের ফল এবং বর্তমানে কার্যকর আইন, তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
পাহাড়ি ও বাঙালি, উভয় জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন এমন একটি আইনগত কাঠামো, যেখানে পাহাড়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত হবে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের অধীনে সমতা, ন্যায়বিচার, নাগরিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
এম. রুহুল আমিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী 




















