Lama ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন; কারণ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ শিক্ষা অফিসের

কাপ্তাইয়ে এসএসসির ফল বিপর্যয়, দাখিল-কারিগরিতে সন্তোষজনক

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় তুলনামূলক সন্তোষজনক ফল হলেও এসএসসিতে পাসের হার আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪৬ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, উপজেলার দুটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৪ জন।

এ বিভাগে পাসের হার ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩ জন। কারিগরিতে পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কাপ্তাই উপজেলার কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার সর্বনিন্ম। এই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ১০.৩৪%। এই প্রতিষ্ঠান হতে ২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ জন।  এছাড়া পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ১৯.৬৪%, সাক্রাছড়ি হাই স্কুলে পাসের হার ২৭. ০৪%। এদিকে কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে বরাবরের মতো  এগিয়ে আছে কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ।

এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৯.০৫% এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ জন। অপরদিকে কাপ্তাই উপজেলার একমাত্র সরকারি হাই স্কুল নারানগিরি সরকারি স্কুলে পাসের হার ২৬.১৮ %।

কাপ্তাই উপজেলার এসএসসির ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে শিক্ষক সংকটকে সামনে এনেছেন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

কাপ্তাই পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসে তিনি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখতে পেয়েছেন। শিক্ষকদের আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ফল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল বড়ুয়া বলেন, গত ১৯ বছরের মধ্যে এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তাঁদের বিদ্যালয়ের ফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। বিদ্যালয়ে ২৭ জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ের কেআরসি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর নাহার বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, এ বছর সারাদেশের শিক্ষার্থীরা পরিবর্তিত কারিকুলামের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আগের কারিকুলামে পরিবর্তন এনে নতুন কারিকুলামে এক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য বোর্ডে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, যার প্রভাব কাপ্তাইয়েও পড়েছে। তবে কাপ্তাইয়ে ফলাফল কেন এত খারাপ হয়েছে, তা নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করা হবে। টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাপ্তাইয়ের এসএসসি ফলাফলের উন্নয়নে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে পুলিশের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

Bandarban Tribune

শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন; কারণ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ শিক্ষা অফিসের

কাপ্তাইয়ে এসএসসির ফল বিপর্যয়, দাখিল-কারিগরিতে সন্তোষজনক

Update Time : ০৬:১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় তুলনামূলক সন্তোষজনক ফল হলেও এসএসসিতে পাসের হার আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪৬ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, উপজেলার দুটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৪ জন।

এ বিভাগে পাসের হার ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বড়ইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩ জন। কারিগরিতে পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কাপ্তাই উপজেলার কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার সর্বনিন্ম। এই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ১০.৩৪%। এই প্রতিষ্ঠান হতে ২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ জন।  এছাড়া পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ১৯.৬৪%, সাক্রাছড়ি হাই স্কুলে পাসের হার ২৭. ০৪%। এদিকে কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে বরাবরের মতো  এগিয়ে আছে কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ।

এই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৯.০৫% এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ জন। অপরদিকে কাপ্তাই উপজেলার একমাত্র সরকারি হাই স্কুল নারানগিরি সরকারি স্কুলে পাসের হার ২৬.১৮ %।

কাপ্তাই উপজেলার এসএসসির ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে শিক্ষক সংকটকে সামনে এনেছেন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

কাপ্তাই পাহাড়িকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসে তিনি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখতে পেয়েছেন। শিক্ষকদের আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ফল বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিপুল বড়ুয়া বলেন, গত ১৯ বছরের মধ্যে এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তাঁদের বিদ্যালয়ের ফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। বিদ্যালয়ে ২৭ জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ের কেআরসি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর নাহার বলেন, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, এ বছর সারাদেশের শিক্ষার্থীরা পরিবর্তিত কারিকুলামের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আগের কারিকুলামে পরিবর্তন এনে নতুন কারিকুলামে এক বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য বোর্ডে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, যার প্রভাব কাপ্তাইয়েও পড়েছে। তবে কাপ্তাইয়ে ফলাফল কেন এত খারাপ হয়েছে, তা নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বসে পর্যালোচনা করা হবে। টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাপ্তাইয়ের এসএসসি ফলাফলের উন্নয়নে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।