Lama ০২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষার দুর্ভোগ কাটিয়ে খুলল থানচির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্র

দীর্ঘ বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া বান্দরবানের থানচি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্র ঙাফাহখুম, তহজিংডং,রুমা উপজেলা বাকলাই ডবল পার্ট ঝর্ণা, সুসং পাড়া,রিঝুক ঝর্না, আবারও সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুমা উপজেলার কয়েকটি পর্যটনপথও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল ১১ আগস্ট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এসব সড়ক ও স্থান সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আজ বুধবার ১২ আগস্ট গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, থানচি উপজেলার তামাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার টিওবি পর্যন্ত এবং তিন্দুমুখ থেকে ঙাফাখুম পর্যন্ত সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এবং রিজুক ঝরনাও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে ভূমিধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতি বেশ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

সড়কগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে তিন্দুমুখ ও ঙাফাখুম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও স্থানগুলোর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত করা সড়ক ও পর্যটনপথে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে পর্যটন খাতেও নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পাহাড়ের প্রকৃতি ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে উন্মুক্ত সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্রে সতর্কতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

লামায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দিন মজুরের লাশ উদ্ধার 

Bandarban Tribune

বর্ষার দুর্ভোগ কাটিয়ে খুলল থানচির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্র

Update Time : ০৪:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া বান্দরবানের থানচি উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্র ঙাফাহখুম, তহজিংডং,রুমা উপজেলা বাকলাই ডবল পার্ট ঝর্ণা, সুসং পাড়া,রিঝুক ঝর্না, আবারও সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রুমা উপজেলার কয়েকটি পর্যটনপথও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল ১১ আগস্ট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এসব সড়ক ও স্থান সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আজ বুধবার ১২ আগস্ট গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, থানচি উপজেলার তামাতুঙ্গী থেকে ২৪ কিলোমিটার টিওবি পর্যন্ত এবং তিন্দুমুখ থেকে ঙাফাখুম পর্যন্ত সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত থেকে সুংসুংপাড়া পর্যন্ত এবং রিজুক ঝরনাও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি সড়কগুলোতে ভূমিধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের চলাচলেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতি বেশ কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

সড়কগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে তিন্দুমুখ ও ঙাফাখুম এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও স্থানগুলোর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত করা সড়ক ও পর্যটনপথে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, অন্যদিকে পর্যটন খাতেও নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পাহাড়ের প্রকৃতি ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে উন্মুক্ত সড়ক ও পর্যটনকেন্দ্রে সতর্কতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।