
লামায় স্ত্রীর করা মামলায় প্রতারণার দায়ে ৩২ আনসার ব্যাটলিয়নের আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম এর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০/০৭/ ২৬ তারিখ লামা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ হাকিম এই আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, “আসামি মনিরুল ইসলাম (৩৫), পিতা- আঃ রাজ্জাক, স্থায়ী সাং- হাট বরিয়ান, ডাকঘর- গোপালপুর, থানা- গোপালপুর, পৌরসভা, গোপালপুর, জেলা- টাঙ্গাইল-এর বিরুদ্ধে বাদীপক্ষে আনীত The Penal Code. 1860 এর ৪১৫ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অপবাধের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি মনিরুল ইসলাম-কে The Penal Code. 1860 এর ৪১৭ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে তাকে ০৬ (ছয়) মাস কারাদন্ড এবং ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ (পনের) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হলো।

আসামি ইতিপূর্বে হাজত বাস করে থাকলে তা সাজার মেয়াদ হতে কর্তিত হবে। অনিষ্পন্ন পরোয়ানা বাতিল করা হোক। আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। অদ্য ডকে উপস্থিত আসামিকে পরোয়ানামূলে জেলা কারাগার বান্দরবান জেলায় প্রেরণ করা হোক।” জানাযায়, একই মামলায় এর আগেও ২০২৫ সালে মনিরুল ইসলাম ৭ দিন জেল বন্দি ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানাযায়, মনিরুল ইসলাম (৩৫), পিতা- আঃ রাজ্জাক, ইতোপূর্বে ৩২ আনসার ব্যালিয়ন লামা চাম্পাতলী থাকাবস্থায় নিজেকে অবিবাহীত দাবি করে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন লামা মাতামুহুরি কলেজ পড়ুয়া রাবিয়া খাতুনকে।

এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গভীর প্রেম ও পরে ৩ মার্চ/২০২২ সালে পরস্পরের সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মনিরুল বাড়ি নির্মাণের কথা বলে স্ত্রী রাবিয়া থেকে এক লাখ টাকা টাকা ও বিয়ের সময় দেয়া এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার চেয়ে নেয়।
এর কিছুদিনের মধ্যে রাবিয়া তার স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে, মনিরুল বিভিন্ন তালবাহানা করে স্ত্রী রাবিয়ার কাছ থেকে আরো দুই লাখ টাকা দাবি করতে থাকে। রাবিয়ারা গরীব হওয়ায় মনিরুলের দাবি পূরনে ব্যার্থ হয়।

মনিরুলকে টাকা দিতে না পারার পর থেকে রাবিয়ার উপর নেমে আসে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরই মধ্যে রাবিয়া জেনেযায় তার স্বামী আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম পূর্বে আরেকটি বিয়ে করেছেন, ওই সংসারে তার সন্তানও রয়েছে। পরে রাবিয়া খাতুন লামা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় দুর্বল স্বাক্ষীর কারণে বিজ্ঞ আদালত মনিরুল ইসলামকে দায়মুক্তি দেন। অপরদিকে রাবিয়া বাদী হয়ে একই আদালতে স্বামী আনসার সদস্য মনিরুল ইসলামের নামে ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারা আরেকটি সিআর মামলা করেন।

মামলা ৪১৫ ধারা অধিকতর সত্য প্রমাণিত হওয়ায় লামা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ হাকিম আসামী মনিরুল ইসলামকে কারাদণ্ডাদেশ দেন। এদিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মনিরুল ইসলাম উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে জামিন লাভ করেন বলে জানাযায়।
অপরদিকে স্ত্রী রাবিয়া খাতুন জানান, মনিরুল ইসলাম জামিনে গিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন এবং সে বিচার বঞ্চিত বলেও দাবি করেন।
এই রায়ে রাবিয়া খাতুন সন্তুষ্ট হতে পারেন নি বলে জানিয়ে আরো বলেন, “এর আগে আমি যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা করেছি। ওই মামলায় আনসার ব্যাটালিয়নের উপরস্থ অফিসারদের প্রভাব থাকায় মনিরুল এর সাজা হয় নাই।

বর্তমানে আপিলের মাধ্যমে মামলাটি বান্দরবান জজকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।” রাবিয়া খাতুন এই বিষয়ে ৩২ আনসার ব্যাটালিয়নসহ বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি মহা পরিচালক এঁর কাছে ন্যায়সঙ্গত সুরাহা কামণা করছেন।
এ বিষয়ে ৩২ আনসার ব্যাটলিয়ন লংগদু দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে, বিষয়টি তাদের জানা নেই
ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জানান, তিনি বিস্তারিত জেনে বলতে পারবেন আসলেই কি ঘটেছিল।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















