Lama ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পাসের হার ৯৭.৬২ থেকে ১৫.৫২ শতাংশ

আলীকদমে এসএসসির ফলে বড় ব্যবধান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। উপজেলার সাতটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর সবচেয়ে কম পাসের হার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ+ পেয়েছে ছয়জন। একজন পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলীকদম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী এ+ পায়নি।

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে। ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ+ পেয়েছে দুজন।

আলীকদম সেন্ট মেরী স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ+ পায়নি কেউ।

অন্বেষা কলেজিয়েট স্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন পাস করেছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে সাতজন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ+ পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।

আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলও তুলনামূলকভাবে কম। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন পাস করেছে এবং ৩১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী এ+ পায়নি।

সবচেয়ে কম পাসের হার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র নয়জন পাস করেছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৪৯ জন। পাসের হার ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ+ পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।

সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের মধ্যে ব্যবধান ৮২ দশমিক ১০ শতাংশ। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যেখানে পাসের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, সেখানে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তা ১৬ শতাংশের কাছাকাছি।

সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটির পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে। অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সাতটি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৬ জন পাস করেছে এবং ১৩৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত পাসের হার প্রায় ৫৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ+ পাওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ছয়জন এবং আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজনসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানে মোট আটজন শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছে।

ফলাফলের এই চিত্রে আলীকদমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেখানে ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

পাসের হার ৯৭.৬২ থেকে ১৫.৫২ শতাংশ

আলীকদমে এসএসসির ফলে বড় ব্যবধান

Update Time : ০৮:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। উপজেলার সাতটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর সবচেয়ে কম পাসের হার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ+ পেয়েছে ছয়জন। একজন পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলীকদম আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী এ+ পায়নি।

আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪ জন পাস করেছে। ২৯ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ+ পেয়েছে দুজন।

আলীকদম সেন্ট মেরী স্কুলের ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১ জন পাস করেছে। ১৩ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ+ পায়নি কেউ।

অন্বেষা কলেজিয়েট স্কুলে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন পাস করেছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে সাতজন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ+ পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।

আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলও তুলনামূলকভাবে কম। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন পাস করেছে এবং ৩১ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী এ+ পায়নি।

সবচেয়ে কম পাসের হার চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র নয়জন পাস করেছে। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৪৯ জন। পাসের হার ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ+ পায়নি কোনো শিক্ষার্থী।

সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পাসের হারের মধ্যে ব্যবধান ৮২ দশমিক ১০ শতাংশ। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যেখানে পাসের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ, সেখানে চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তা ১৬ শতাংশের কাছাকাছি।

সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটির পাসের হার ৬০ শতাংশের ওপরে। অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে আলীকদম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চৈক্ষ্যং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সাতটি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৬ জন পাস করেছে এবং ১৩৪ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত পাসের হার প্রায় ৫৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ+ পাওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ছয়জন এবং আলীকদম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজনসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানে মোট আটজন শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছে।

ফলাফলের এই চিত্রে আলীকদমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শিক্ষার মান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেখানে ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।