
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা বমবিলছড়ি ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটিই নাম, ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিএনপির বিএনপি নেতা ও সমাজসেবক আব্দুল মোতালেব।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার কারণে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয়রা মনে করেন, তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও মানবিক মানুষ; যিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর বিগত ১৯৯৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রথম মেয়াদ: ১৮-০২-১৯৯৮ থেকে ২০-০৩-২০০৩ পর্যন্ত)। দ্বিতীয় মেয়াদ ২১-০৩-২০০৩ থেকে ২৭-০৭-২০১১ পর্যন্ত।

পরপর দুইবার তিনি চকরিয়া ছিট মহল খ্যাত বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি ২০১১ সালের পর আর চেয়ারম্যান হননি। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এক নামে “মোতালেব চেয়ারম্যান” হিসেবে এলাকা এবং এলাকার বাহিরের মানুষের কাছে ব্যাপক সমাদৃত।

এলাকার প্রবীণ ও তরুণদের অনেকেই জানান, বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় মোতালেব চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনীতির মাঠে ত্যাগ ও সততার পরিচয় দিয়ে তিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড, গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে ইউনিয়নবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের সচেতন মহল মনে করেন, একজন সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বই পারে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। আর সেই নেতৃত্বের জন্য আব্দুল মোতালেব চেয়ারম্যান হতে পারেন সময়ের সেরা পছন্দ।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে মূল্যায়ন করে মোতালেব চেয়ারম্যান আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন এবং চকরিয়া উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
আব্দুল মোতালেব চেয়ারম্যান আচার আচরণে আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক। তার অমায়িকতা নবীন প্রবীন সবাইকে মুগ্ধ করে।
তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেছেন; “সত্যিকারের নেতৃত্ব কখনো পদবী দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহসে এবং ন্যায়ের পক্ষে অটল থাকার দৃঢ়তায়।

আমার নেতা শিকড়ের মানুষের নেতা। তিনি কর্মীদের আস্থার প্রতীক, দলের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে ঝুঁকি নিতেও কখনো দ্বিধা করেন না। বিনয় দিয়ে তিনি নেতৃত্ব দেন, দায়িত্ববোধ নিয়ে মানুষের সেবা করেন, আর নিজের কর্মের মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করেন।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর পথচলা এখনো অনেক দূর বাকি। সামনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে আরও বৃহত্তর সাফল্য, সম্মান ও অর্জন। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে আরও শক্তি, প্রজ্ঞা, সুস্বাস্থ্য এবং অসাধারণ সাফল্যে সমৃদ্ধ করেন,আমিন।”

বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের আয়তন প্রায় ১৪.৫০ বর্গ কিলোমিটার। ভূমির পরিমান ২৯৩৭ একর।
২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা ১৩,৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬,৫১০ জন এবং মহিলা ৭,২৫০ জন। এটি চকরিয়া উপজেলার পূর্ব কোণে মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায়, চারদিকে পার্বত্য লামা উপজেলা পাহাড় বেষ্টিত।
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ৪নং বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড অনুযায়ী প্রথম চেয়ারম্যানের নাম আব্দুল মতলব এর পর কামাল উদ্দীন ও মনজুরুল কাদের।

চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। পশ্চিমে বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভা, পশ্চিম ও উত্তরে লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়ন, পূর্বেও গজালিয়া ইউনিয়ন ও লামা সদর ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে লামা পৌরসভা অবস্থিত।
লামা উপজেলার মাঝখানে অবস্থিত বমুবিলছড়িকে চকরিয়ার ছিটমহল বলা হয়। বিগত শতকে ৯০’র দশকে এটা লামা উপজেলায় যুক্ত করার চেষ্টা আইনি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জনগণের একাংশের বিরোধিতায় ব্যর্থ হয়।

জানা যায়, ১৮৯০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রাচীন উপজাতীয় রাজা বমাং মার্মা সপরিবারে এ এলাকায় বসবাসের মধ্য দিয়ে তার নামানুসারে বমু ও চতুর্পাশে সবুজ পাহাড় ঘেরা সমতল ভূমির বিল বিধায় বিলছড়ি নামকরণ করে এই এলাকাকে বমু বিলছড়ি নামে নথি ভুক্ত করা হয়।
এখানকার প্রবীন ও সমাজ দরদী ব্যাক্তিদের মধ্যে অভিজাত ব্যাক্তি; মরহুম আলহাজ্ব হাফেজ আহমদ। যিনি ব্রিটিশ সরকার আমলে লামা থানা সদরের পাশ্ববর্তী ও বমু বিলছড়ি গ্রাম প্রঞ্চায়েত প্রধান এবং অত্র পাহাড়ি অঞ্চলের প্রথম নির্বাচিত বাঙ্গালী জনপ্রতিনিধি। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে ও আইয়ুব খানের মৌলিক গনতন্ত্র চালু হলে কাকারা ইউনিয়ন বোর্ডের নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন।
অপরজন আলহাজ্ব হাকিম আবদুল গনি প্রধান শিক্ষক (অবসর প্রাপ্ত) বমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিকিৎসক শিক্ষানুরাগী, প্রতিষ্ঠাতা হাজি মসজিদ ও নূরানি মাদ্রাসা ও হিফজ্ খানা এবং এতিমখানা।
নিজস্ব সংবাদদাতা: 




















