Lama ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা নিয়ে লুকোচুরি

বান্দরবানে প্রায় ৭০টি ইটভাটার মধ্যে শুধু কি লামা ফাইতংয়ের ৮ টি ইটভাটা অবৈধ??

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের করিৎকর্মার নির্লিপ্ততায় ইটভাটা মালিকদের বড় একটি অংশ মামলা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

জেলায় ৭০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দবানের করিৎকর্মারা পরিবেশ রক্ষায় অভিযান করে লামা উপজেলার ৮টি ইটভাটার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালতে মামলা করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান ইউনিট অবৈধ ব্রিকফিল্ড মালিকদের একাংশকে বাঁচাতে চায়ছেন। পরিবেশ আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তাদের একচোখা নীতি অবলম্বন করে এমন অভিযোগ সত্য বলে প্রমান করছেন।

৮ মামলায় অভিযুক্ত ইটভাটাগুলো হচ্ছে; বি.বি.এম, এম.বি.আই, এম.এম.বি, এস.বি.এম, থ্রি বি.এম, ইউ.এম.বি, ডি.বি.এম ও টি.এইচ.বি। এর মধ্যে গত ২৯ জুন ৪টি ইটভাটার বিষয়ে পরিবেশ আদালত চট্টগ্রাম শুনানি করে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ফিল্ডগুলো হলো;  বি.বি.এম-৫ লাখ, এম.বি.আই- ৫লাখ, এম.এম.বি-১১ লাখ ও এস.বি.এম-৫ লাখ টাকা।

বাকি আরো ৪টি ইটভাটা যথাক্রমে, থ্রি বি.এম, ইউ.এম.বি, ডি.বি.এম ও টি.এইচ.বি ইটভাটার শুনানি তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১০ আগস্ট/২৬।

অনুসন্ধানে জানাযায়, লামা উপজেলায় ৪১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ফাইতং ইউনিয়নে রয়েছে ৩২ টি ইটভাটা। তারমধ্যে জিকজাক ১৪ টি ফিক্সড চিমনি ১৫টি,  ড্রাম চিমনি ৩টি। বাকি ফিল্ডগুলো ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ৫টি, গজালিয়া ২টি, সরই ১টি ও লামা পৌরসভায় ১টি।

তথ্যমতে জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় ৮টি, আলীকদম ৩টি। বান্দরবান সদরসহ তার আশে আরো ২০টিরও বেশি ইটভাটা আছে। এসব ইটভাটার মালিকরা সবাই পাহাড় কেটে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করে আসছে।

অপরদিকে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ব্যাপক সবুজায়ন ধ্বংস করে আসছে। তবে জিকজাক পদ্ধতির ভাটাগুলোতে কয়লা পুড়িয়ে ইট তৈরি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রিকফিল্ড মালিক আক্ষেপ করে বলেন,”আমরা পরিবেশের দিক বিবেচনা করে জিকজাক পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন করছি। জেলার সব চেয়ে বেশি এবং বলাযায় জিকজাক পদ্ধতির সব কয়টা ব্রিকফিল্ড লামা উপজেলায়।”

এর পরও জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সারা বছর ধরে জেল জরিমানা ও ইটভাটা ভেঙে ফেলার অভিযান শুধু আমাদের লামা উপজেলায় অব্যাহত রেখেছে। তিনি ক্ষোভ ও দু:খ প্রকাশ করে আরো বলেন, “অভিযানে জরিমানা করার এক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য বা অবিচার লক্ষ্য করা গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে কম কোনোটায় বেশি জরিমানা করা হয়েছে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের স্বার্থান্ধতা ও বৈষম্য নীতির উদাহারণ টেনে আরেক ইট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, “লামায় ৪২ টি ইটভাটা রয়েছে; এর মধ্যে শুধু আটটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতেই প্রমানিত যে সংশ্লিষ্টরা মোটাংকের উপরির বিনিময়ে এমনটা করেছেন।”

অপর এক ইটভাটার মালিক অভিযোগ করে বলেন, “এখন থেকে কতিপয় ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার কারণেই প্রশাসন ব্রিকফিল্ড মালিকদের একটি অংশের উপর ক্ষেপেছেন।”

জানাযায়, ব্রিকফিল্ড মালিকদের একটি অংশ স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুযোগ ভালোমন্দের বিষয়টি পাত্তা দেন না। তাদের জেলা পর্যায়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও মিডিয়া ম্যানেজ করে উপরের লোকদেরকে উপরি দিলে চলে।

এদিকে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের ফলে লামা উপজেলার সর্বসাধারণ নানানভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে সামাজিকভাবে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। লামা উপজেলার সার্বিক ক্ষতিসাধন করে ইটভাটার মালিকরা সুবিধা প্রদানে প্রাধান্য দিচ্ছেন জেলা পর্যায়ে।

এসব বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের ইনচার্জসহ অন্যদের  ফোনে কয়েকদফা কল করা হয়; কিন্তু রেসপন্স না করায়  বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কোনো স্টাফ সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না(!)।

চলবে…

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বাঘাইছড়িতে পুলিশের অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

Bandarban Tribune

ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা নিয়ে লুকোচুরি

বান্দরবানে প্রায় ৭০টি ইটভাটার মধ্যে শুধু কি লামা ফাইতংয়ের ৮ টি ইটভাটা অবৈধ??

Update Time : ০৩:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের করিৎকর্মার নির্লিপ্ততায় ইটভাটা মালিকদের বড় একটি অংশ মামলা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

জেলায় ৭০টির বেশি ইটভাটা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দবানের করিৎকর্মারা পরিবেশ রক্ষায় অভিযান করে লামা উপজেলার ৮টি ইটভাটার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালতে মামলা করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান ইউনিট অবৈধ ব্রিকফিল্ড মালিকদের একাংশকে বাঁচাতে চায়ছেন। পরিবেশ আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তাদের একচোখা নীতি অবলম্বন করে এমন অভিযোগ সত্য বলে প্রমান করছেন।

৮ মামলায় অভিযুক্ত ইটভাটাগুলো হচ্ছে; বি.বি.এম, এম.বি.আই, এম.এম.বি, এস.বি.এম, থ্রি বি.এম, ইউ.এম.বি, ডি.বি.এম ও টি.এইচ.বি। এর মধ্যে গত ২৯ জুন ৪টি ইটভাটার বিষয়ে পরিবেশ আদালত চট্টগ্রাম শুনানি করে ২৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ফিল্ডগুলো হলো;  বি.বি.এম-৫ লাখ, এম.বি.আই- ৫লাখ, এম.এম.বি-১১ লাখ ও এস.বি.এম-৫ লাখ টাকা।

বাকি আরো ৪টি ইটভাটা যথাক্রমে, থ্রি বি.এম, ইউ.এম.বি, ডি.বি.এম ও টি.এইচ.বি ইটভাটার শুনানি তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১০ আগস্ট/২৬।

অনুসন্ধানে জানাযায়, লামা উপজেলায় ৪১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ফাইতং ইউনিয়নে রয়েছে ৩২ টি ইটভাটা। তারমধ্যে জিকজাক ১৪ টি ফিক্সড চিমনি ১৫টি,  ড্রাম চিমনি ৩টি। বাকি ফিল্ডগুলো ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ৫টি, গজালিয়া ২টি, সরই ১টি ও লামা পৌরসভায় ১টি।

তথ্যমতে জেলার নাইক্ষংছড়ি উপজেলায় ৮টি, আলীকদম ৩টি। বান্দরবান সদরসহ তার আশে আরো ২০টিরও বেশি ইটভাটা আছে। এসব ইটভাটার মালিকরা সবাই পাহাড় কেটে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করে আসছে।

অপরদিকে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ব্যাপক সবুজায়ন ধ্বংস করে আসছে। তবে জিকজাক পদ্ধতির ভাটাগুলোতে কয়লা পুড়িয়ে ইট তৈরি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্রিকফিল্ড মালিক আক্ষেপ করে বলেন,”আমরা পরিবেশের দিক বিবেচনা করে জিকজাক পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন করছি। জেলার সব চেয়ে বেশি এবং বলাযায় জিকজাক পদ্ধতির সব কয়টা ব্রিকফিল্ড লামা উপজেলায়।”

এর পরও জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সারা বছর ধরে জেল জরিমানা ও ইটভাটা ভেঙে ফেলার অভিযান শুধু আমাদের লামা উপজেলায় অব্যাহত রেখেছে। তিনি ক্ষোভ ও দু:খ প্রকাশ করে আরো বলেন, “অভিযানে জরিমানা করার এক্ষেত্রে এক ধরনের বৈষম্য বা অবিচার লক্ষ্য করা গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে কম কোনোটায় বেশি জরিমানা করা হয়েছে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের স্বার্থান্ধতা ও বৈষম্য নীতির উদাহারণ টেনে আরেক ইট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, “লামায় ৪২ টি ইটভাটা রয়েছে; এর মধ্যে শুধু আটটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতেই প্রমানিত যে সংশ্লিষ্টরা মোটাংকের উপরির বিনিময়ে এমনটা করেছেন।”

অপর এক ইটভাটার মালিক অভিযোগ করে বলেন, “এখন থেকে কতিপয় ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার কারণেই প্রশাসন ব্রিকফিল্ড মালিকদের একটি অংশের উপর ক্ষেপেছেন।”

জানাযায়, ব্রিকফিল্ড মালিকদের একটি অংশ স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুযোগ ভালোমন্দের বিষয়টি পাত্তা দেন না। তাদের জেলা পর্যায়ে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও মিডিয়া ম্যানেজ করে উপরের লোকদেরকে উপরি দিলে চলে।

এদিকে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের ফলে লামা উপজেলার সর্বসাধারণ নানানভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে সামাজিকভাবে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। লামা উপজেলার সার্বিক ক্ষতিসাধন করে ইটভাটার মালিকরা সুবিধা প্রদানে প্রাধান্য দিচ্ছেন জেলা পর্যায়ে।

এসব বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের ইনচার্জসহ অন্যদের  ফোনে কয়েকদফা কল করা হয়; কিন্তু রেসপন্স না করায়  বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নাই। অভিযোগ রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কোনো স্টাফ সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না(!)।

চলবে…