Lama ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানচিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উপলক্ষে গণসংহতি আন্দোলনের বর্ণাঢ্য মিছিল ও গণসমাবেশ

গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএম)-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পাটি এনসিপি, দলের নেতা কর্মীরা কোন প্রকার কর্মসূচী দেয়া পরিলক্ষিত হয় নি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা শাখা কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিড থানচি শপিং মল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রো-এর সঞ্চালনায় এবং উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মংসাইন মারমা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির জাতি বৈচিত্র্যবিষয়ক সম্পাদক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা।

এছাড়া বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ ত্রিপুরা, সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা, থংপং ম্রো এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের উপজেলা শাখার সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সকল জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।”

সভাপতির বক্তব্যে মংসাইন মারমা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পাহাড়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার, শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গণমানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের দাবি আদায়ে গণসংহতি আন্দোলন কাজ করে যাবে।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন গণতন্ত্র, সামাজিক সাম্য, মানবাধিকার, পাহাড়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য ও অবিচারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশের গণসংহতি আন্দোলনের ২ শতাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা

Bandarban Tribune

থানচিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উপলক্ষে গণসংহতি আন্দোলনের বর্ণাঢ্য মিছিল ও গণসমাবেশ

Update Time : ০৫:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএম)-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পাটি এনসিপি, দলের নেতা কর্মীরা কোন প্রকার কর্মসূচী দেয়া পরিলক্ষিত হয় নি।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা শাখা কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রিড থানচি শপিং মল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

গণসংহতি আন্দোলনের উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রো-এর সঞ্চালনায় এবং উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী মংসাইন মারমা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির জাতি বৈচিত্র্যবিষয়ক সম্পাদক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা।

এছাড়া বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ ত্রিপুরা, সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা, থংপং ম্রো এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের উপজেলা শাখার সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সকল জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।”

সভাপতির বক্তব্যে মংসাইন মারমা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে পাহাড়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার, শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গণমানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনগণের দাবি আদায়ে গণসংহতি আন্দোলন কাজ করে যাবে।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন গণতন্ত্র, সামাজিক সাম্য, মানবাধিকার, পাহাড়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য ও অবিচারমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশের গণসংহতি আন্দোলনের ২ শতাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।