
লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে দুই প্রতিবন্ধী বোনের ৫ একর পৈতৃক জমি জবরদখল করে অবৈধ ইটের ভাটা চালুর অভিযোগ। কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ, নামজারি ও দলিল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে দুই অসহায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র বোনের প্রায় পাঁচ একর পৈতৃক জমি কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ, জাল দলিল ও নামজারির মাধ্যমে দখল করে সেখানে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী দুই বোন মদিনা বেগম (৫০) ও জরিনা বেগম (৪৭) লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ফাদুরছড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা মৃত আবদু ছালামের কন্যা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও চরম দারিদ্র্যের কারণে বর্তমানে তারা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, লামা উপজেলার ৩০৬ নম্বর ফাইতং মৌজার আর/৩৩০ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত প্রায় ৫.০০ একর জমি তাদের পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। কিন্তু তাদের অজ্ঞাতে ও সম্মতি ছাড়া একটি চক্র কথিত ভুয়া ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে জমির অংশ নিজেদের নামে নামজারি ও দলিল সম্পাদন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন, রুহুল আমিন, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ফরিদ আহমদ এবং মক্কা মদিনা ব্রিকস (এমএমবি)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি দখল করে সেখানে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিস কেস নং-৩১৬/ডি/২০১৮-এর মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রায় ২.৫০ একর জমির নামজারি সম্পন্ন করা হয়। পরে ৮০৭/২০১৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে আরও প্রায় ২.০০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব প্রক্রিয়ায় কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে।
মদিনা বেগম ও জরিনা বেগম জানান, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট মৌজা হেডম্যানের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। সেখান থেকে তাদের আদালত ও প্রশাসনের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু চরম অর্থনৈতিক সংকট ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তারা জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা চেয়েছেন।

ভুক্তভোগী দুই বোন প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশ সনদ, দলিল ও নামজারির বৈধতা যাচাই, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জমির দখল ও হস্তান্তর স্থগিত এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড, ওয়ারিশ সনদ, নামজারি, দলিল এবং অন্যান্য নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
এম রুহুল আমিন, সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মি 




















